০৭:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

জুড়ী প্রেসক্লাব সম্পাদককে অপহরণ চেষ্টা, হত্যার হুমকি

মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলায় স্বঘোষিত সাংবাদিক জায়েদের নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতিকারী জুড়ী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, বিজনেস বাংলাদেশ এর মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি হুমায়ূন রহমান বাপ্পীকে প্রকাশ্যে অপহরণ চেষ্টা হত্যার হুমকি দিলেও মামলা গ্রহণে রহস্যময় ভূমিকা পালন করছে জুড়ী থানা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জায়ফরনগরের মৃতঃ আব্দুল খালিক চৌধুরীর পুত্র জুড়ীর চিহ্নিত ভূয়া সাংবাদিক জায়েদ আনোয়ার চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতিকারী ভবানীগঞ্জ বাজারস্থিত দেওয়ান মার্কেটের ২য় তলায় অবস্থিত জুড়ী আইটি সেন্টারে অবস্থানরত অসুস্থ্য (ডান পা ভাঙ্গা) বাপ্পীকে তুলে নিতে চাইলে উপস্থিত সাংবাদিকরা ও দোকানের লোকজন বাধা প্রদান এবং শোর-চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন জড়ো হলে জায়েদ মুঠোফোনে বাড়তি লোকজন ডেকে এনে জুড়ী নিউমার্কেটের সংবাদ বিতানের ভেতর থেকে বাপ্পীকে তুলে নিয়ে যেতে কয়েক দফা চেষ্টা চালায় এবং বাপ্পীকে অশ্লীল গালাগাল করে হত্যার হুমকি দেয়। এসময় জুড়ী উপজেলা চেয়ারম্যানের পিএস দাবিদার আব্দুল হান্নান ঘটনাস্থলে পৌছে চেয়ারম্যানের নাম ভাঙ্গিয়ে বাপ্পীকে থানায় ফোন না দিতে এবং জুড়ী প্রেসক্লাব থেকে জায়েদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে সভাপতি পদে বহালের নির্দেশনা দিয়ে চলে যায়। এরপর জায়েদ পূণরায় বাপ্পীকে তুলে নিয়ে যাবার চেষ্টা চালায়।
ভুক্তভোগী বাপ্পী এবং কয়েকজন সাংবাদিক জুড়ী থানার ওসি সঞ্জয় চক্রবর্তীকে বার বার ফোন দিয়ে সাহায্য চাইলেও পুলিশ ঘন্টাধিককাল পরে এসে বাপ্পীকে উদ্ধার করে এবং থানায় অভিযোগ দাখিলের পরামর্শ দিয়ে থানা রোড পর্যন্ত এগিয়ে দেয়। থানায় গিয়ে বাপ্পী ডিউটি অফিসারের কক্ষে বসে সহস্তে অভিযোগ লেখার সময় জায়েদ ডিউটি অফিসার কক্ষের কাছে অবস্থান নিয়েছিল। পরে অভিযোগপত্র নিয়ে ওসি সঞ্জয় চক্রবর্তীর কক্ষে ঢুকলে জুড়ী উপজেলা চেয়ারম্যানের পিএস দাবিদার আব্দুল হান্নান তাঁর ০১৯১৩-২৩৯২৫৪ নং মুঠোফোন থেকে কল করলে বাপ্পী কল রিসিভ না করায় স্বাক্ষী সাংবাদিক জালালুর রহমানকে ফোন দিয়ে চেয়ারম্যান মোঈদ ফারুকের নাম ভাঙ্গিয়ে থানায় অভিযোগ না দেয়ার নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে হান্নান বার বার স্বাক্ষী জালালকে কল করে একই কথা বলে।
অপরদিকে, অভিযোগ দায়ের করলে ওসি সঞ্জয় বলেন, এটা আপনারা ২ সাংবাদিকের ব্যাপার। আপনারাই আলোচনা করে শেষ করেন। বাপ্পী জানায়, জায়েদ কোন পত্রিকার সাংবাদিক ?  ভূয়া তথ্য-প্রমাণ ব্যবহার করে জুড়ী প্রেসক্লাবে ঢুকেছিল, পরবর্তীতে জুড়ী প্রেসক্লাবের দীর্ঘ তদন্তে জায়েদ ভূয়া সাাংবাদিক প্রমাণিত হওয়ায় এবং সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত হওয়ায় বিগত ০৬/১১/২০২০ইং জায়েদকে জুড়ী প্রেসক্লাব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তাহলে জায়েদ সাংবাদিক হল কিভাবে ? চিহ্নিত ভূয়া সাংবাদিকের দায় জুড়ী প্রেসক্লাব কেন নেবে ? এই নিন জায়েদকে বহিষ্কারের বিজ্ঞপ্তি এবং জায়েদ এই মূহুর্তে থানায় অবস্থানরত। বাপ্পীর এ বক্তব্যের জবাবে ওসি সঞ্জয় বলেন, আপনার অভিযোগ রাখলাম। বিষয়টি ওসি (তদন্ত)-কে দেখার দায়িত্ব দেয়া হবে আগামিকাল। কিন্তু, এ সংবাদ পরিবেশন পর্যন্ত জুড়ী থানার পুলিশ এ ঘটনার ব্যাপারে কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে জানিয়েছেন বাপ্পী।
জুড়ী থানার ওসি সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, অভিযোগ পেয়েছি কিন্তু এফআইআর করিনি। তারা দুজন সাংবাদিকের মধ্যে ঝামেলা। তাই, দুজনে বসে ঝামেলা নিষ্পত্তি করে নিতে বলে দিয়েছি। অভিযুক্ত জায়েদ আনোয়ার চৌধুরী বলেন, বাপ্পীর সাথে আমার কোন ঝামেলা ছিলনা এবং এখনও নেই। তার সাথে আমার পারিবারিকভাবে সুসম্পর্ক। তাকে আমি অত্যন্ত স্নেহ করি। অথচ, সে আমার সাথে যে চরম বেয়াদবী করেছে তা ভাষায় বলার মত নয়। জুড়ী উপজেলা চেয়ারম্যানের পিএস পরিচয়দাতা আব্দুল হান্নানকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত আসামীর মৃত্যু

জুড়ী প্রেসক্লাব সম্পাদককে অপহরণ চেষ্টা, হত্যার হুমকি

প্রকাশিত : ০৭:২৪:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২১

মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলায় স্বঘোষিত সাংবাদিক জায়েদের নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতিকারী জুড়ী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, বিজনেস বাংলাদেশ এর মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি হুমায়ূন রহমান বাপ্পীকে প্রকাশ্যে অপহরণ চেষ্টা হত্যার হুমকি দিলেও মামলা গ্রহণে রহস্যময় ভূমিকা পালন করছে জুড়ী থানা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জায়ফরনগরের মৃতঃ আব্দুল খালিক চৌধুরীর পুত্র জুড়ীর চিহ্নিত ভূয়া সাংবাদিক জায়েদ আনোয়ার চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতিকারী ভবানীগঞ্জ বাজারস্থিত দেওয়ান মার্কেটের ২য় তলায় অবস্থিত জুড়ী আইটি সেন্টারে অবস্থানরত অসুস্থ্য (ডান পা ভাঙ্গা) বাপ্পীকে তুলে নিতে চাইলে উপস্থিত সাংবাদিকরা ও দোকানের লোকজন বাধা প্রদান এবং শোর-চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন জড়ো হলে জায়েদ মুঠোফোনে বাড়তি লোকজন ডেকে এনে জুড়ী নিউমার্কেটের সংবাদ বিতানের ভেতর থেকে বাপ্পীকে তুলে নিয়ে যেতে কয়েক দফা চেষ্টা চালায় এবং বাপ্পীকে অশ্লীল গালাগাল করে হত্যার হুমকি দেয়। এসময় জুড়ী উপজেলা চেয়ারম্যানের পিএস দাবিদার আব্দুল হান্নান ঘটনাস্থলে পৌছে চেয়ারম্যানের নাম ভাঙ্গিয়ে বাপ্পীকে থানায় ফোন না দিতে এবং জুড়ী প্রেসক্লাব থেকে জায়েদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে সভাপতি পদে বহালের নির্দেশনা দিয়ে চলে যায়। এরপর জায়েদ পূণরায় বাপ্পীকে তুলে নিয়ে যাবার চেষ্টা চালায়।
ভুক্তভোগী বাপ্পী এবং কয়েকজন সাংবাদিক জুড়ী থানার ওসি সঞ্জয় চক্রবর্তীকে বার বার ফোন দিয়ে সাহায্য চাইলেও পুলিশ ঘন্টাধিককাল পরে এসে বাপ্পীকে উদ্ধার করে এবং থানায় অভিযোগ দাখিলের পরামর্শ দিয়ে থানা রোড পর্যন্ত এগিয়ে দেয়। থানায় গিয়ে বাপ্পী ডিউটি অফিসারের কক্ষে বসে সহস্তে অভিযোগ লেখার সময় জায়েদ ডিউটি অফিসার কক্ষের কাছে অবস্থান নিয়েছিল। পরে অভিযোগপত্র নিয়ে ওসি সঞ্জয় চক্রবর্তীর কক্ষে ঢুকলে জুড়ী উপজেলা চেয়ারম্যানের পিএস দাবিদার আব্দুল হান্নান তাঁর ০১৯১৩-২৩৯২৫৪ নং মুঠোফোন থেকে কল করলে বাপ্পী কল রিসিভ না করায় স্বাক্ষী সাংবাদিক জালালুর রহমানকে ফোন দিয়ে চেয়ারম্যান মোঈদ ফারুকের নাম ভাঙ্গিয়ে থানায় অভিযোগ না দেয়ার নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে হান্নান বার বার স্বাক্ষী জালালকে কল করে একই কথা বলে।
অপরদিকে, অভিযোগ দায়ের করলে ওসি সঞ্জয় বলেন, এটা আপনারা ২ সাংবাদিকের ব্যাপার। আপনারাই আলোচনা করে শেষ করেন। বাপ্পী জানায়, জায়েদ কোন পত্রিকার সাংবাদিক ?  ভূয়া তথ্য-প্রমাণ ব্যবহার করে জুড়ী প্রেসক্লাবে ঢুকেছিল, পরবর্তীতে জুড়ী প্রেসক্লাবের দীর্ঘ তদন্তে জায়েদ ভূয়া সাাংবাদিক প্রমাণিত হওয়ায় এবং সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত হওয়ায় বিগত ০৬/১১/২০২০ইং জায়েদকে জুড়ী প্রেসক্লাব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তাহলে জায়েদ সাংবাদিক হল কিভাবে ? চিহ্নিত ভূয়া সাংবাদিকের দায় জুড়ী প্রেসক্লাব কেন নেবে ? এই নিন জায়েদকে বহিষ্কারের বিজ্ঞপ্তি এবং জায়েদ এই মূহুর্তে থানায় অবস্থানরত। বাপ্পীর এ বক্তব্যের জবাবে ওসি সঞ্জয় বলেন, আপনার অভিযোগ রাখলাম। বিষয়টি ওসি (তদন্ত)-কে দেখার দায়িত্ব দেয়া হবে আগামিকাল। কিন্তু, এ সংবাদ পরিবেশন পর্যন্ত জুড়ী থানার পুলিশ এ ঘটনার ব্যাপারে কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে জানিয়েছেন বাপ্পী।
জুড়ী থানার ওসি সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, অভিযোগ পেয়েছি কিন্তু এফআইআর করিনি। তারা দুজন সাংবাদিকের মধ্যে ঝামেলা। তাই, দুজনে বসে ঝামেলা নিষ্পত্তি করে নিতে বলে দিয়েছি। অভিযুক্ত জায়েদ আনোয়ার চৌধুরী বলেন, বাপ্পীর সাথে আমার কোন ঝামেলা ছিলনা এবং এখনও নেই। তার সাথে আমার পারিবারিকভাবে সুসম্পর্ক। তাকে আমি অত্যন্ত স্নেহ করি। অথচ, সে আমার সাথে যে চরম বেয়াদবী করেছে তা ভাষায় বলার মত নয়। জুড়ী উপজেলা চেয়ারম্যানের পিএস পরিচয়দাতা আব্দুল হান্নানকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ