নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান বলেছেন, আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত প্রশাসন থেকে শুরু করে আমরা সবাই চোখ-কান খোলা রাখি। আমার কাছে কেন যেন মনে হয়, আকাশের শুকনরা খুব বেশি করে ঘুরছে, কালনাগিনী সাপরা ছোবল মারার জন্য মাটিতে এদিক-ওদিক দিয়ে দোঁড়াদৌঁড়ি করছে। আর টার্গেট একটা; তার নাম শেখ হাসিনা। আপনারা তাঁর জন্য দোয়া করবেন। তাঁর কিছু হয়ে গেলে আগামী ২০-৫০ বছরেও দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবেনা।
রোববার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ রাইফেলস ক্লাবে দৈনিক কালের কণ্ঠের ১২ বছর পদার্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ্য করে শামীম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জে ওই শক্তিগুলোর আনাগোনা অনেক বেশি হচ্ছে যারা ওয়ান ইলেভেন করতে চেয়েছিল, যারা এই শক্তিটাকে পেট্রোনাইজড করতেছে তাদের দিকে খেয়াল রাখবেন।
চলতি মাসের ৯ জানুয়ারি সমাবেশ স্থগিত করার বিষয়ে এমপি শামীম ওসমান বলেন, প্রথমে এসপি সাহেব ফোনে বলেন; এখন এটা করা কি ঠিক হবে ভাই! পরে আমি চিন্তা করলাম সমাবেশে ২-৩ লাখ লোক হবে! তবে আমার নেতাকর্মীদের অনেকেই সমাবেশ না করার ব্যাপারটি মেনে নিতে পারছিলোনা বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিষয়। পরে আমি চিন্তা করে দেখলাম করোনা যদি সত্যিই স্প্রেড আউট হয়! মানুষের জীবনের স্বার্থে আপাতত প্রোগ্রামটিতে স্টপ করে দিয়েছি, তবে বন্ধ করে দেইনি।
শামীম ওসমান বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচাইতে কঠিন, খারাপ, অধ্যায়, খেলা এখন চলছে। আজ হঠাৎ করেই ভাস্কর্য নিয়ে কথা হচ্ছে! সারাদেশে মুসলিম দেশগুলোতে ভাস্কর্য রয়েছে। আসলে এগুলো কথা নয়, এসিড টেস্ট হচ্ছে। সাদা ও কালো লড়াই চলছে। আমি জানি এই লড়াইয়ে সাদা জিতবে। জিততে গিয়ে কতগুলি জীবন যাবে, কতগুলো ত্যাগ স্বীকার করতে হবে সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। ৯০ ভাগ মুক্তিযোদ্ধার আর্থিক অবস্থায়ই ভাল নয়, ৭১’র পর যারা নাম দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন তারা এখানে ওখানে হিন্দু-মুসলমানের জায়গা, এই সম্পদ-ওই সম্পদ লুট করে মুক্তিযোদ্ধাদের বিতর্কিত করা হয়েছে। দিস এজ দ্যা রিয়েলিটি। এবং এটি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। প্ল্যান করে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তানদের বিতর্কিত করা হয়েছে। আজও ঠিক একই ধরণের প্ল্যান করা হচ্ছে।
শামীম ওসমান আরো বলেন, খেলা এখন শুরু হয়েছে। সরকার পরিবর্তনের খেলা শুরু হয় নাই। আমি খোলামেলা সব বলতে পারবোনা। ভৌগলিক সীমারেখার জন্য বাংলাদেশকে এখন এমন একটা পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, যেই জায়গার গর্তে যদি বাংলাদেশ একবার পড়ে তবে আর উঠে আসবেনা। আমরা আফগানিস্তান, তালেবানের মতো বাংলাদেশ চাইনা। আজকে যারা ভাস্কর্য নিয়ে কথা বলছে; কালকে তারা বলবে শহীদ মিনারে যাওয়া যাবেনা! ফুল দিলে এটা পূজা হয়ে যাবে। পরশুদিন বলবে ১৬ই ডিসেম্বর করা যাবেনা, তারপরের দিন বলবে পহেলা বৈশাখ করা যাবেনা। ইসলাম-কোরআন আমি খুব ভাল করে পড়েছি। তারা অনেক বেশি অরগাইজড। তাদের ভুল পথে পরিচালনা করা হচ্ছে। একইভাবে ১৯৭১ সালে যখন মা-বোনের সম্ভ্রম কেড়ে নেয়া হয়েছিলো তখন সেটিকে গণীমতের মাল বলা হয়েছিলো।
শামীম ওসমান বলেন, আমি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত হয়েছি বলেই কি; আর্মি থেকে দুর্নীতির দায়ে বের করে দেয়া এক অফিসার হতে বলা হচ্ছে, আমি নাকি ভারত থেকে ৬ হাজার মানুষকে পাসপোর্ট দিয়ে এনে ট্রেইনড আপ করছি। কেন? আমাদের দেশে কি পুরুষ মানুষ নেই! আসলে তারা চাচ্ছেটা কি? আবার বলা হচ্ছে, আমার নাকি ৬টা স্পেশাল সিকিউরিটি রয়েছে? আসলে আমার একটা সিকিউরিটিও নেই, আমি আল্লাহর উপর ভরসা করে চলি।
শামীম ওসমান আরো বলেন, আমি রাজনীতি থেকে অবসর নেয়ার কথা ভেবেছিলাম। সবার সাথে এডজাস্ট করে রাজনীতি করার মানুষ আমি হয়ে উঠতে পারি নাই। রাজনীতির নামে যেটি হয়, সবকিছু আমি মেনে নিতে পারিনা। তাই সময় থাকতে বিদায় নেয়া ভালো। কিন্তু বুঝতে পারিনি স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবাষিকীতে আবারও বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হবে। আরো নির্মমভাবে। তাঁর ভাস্কর্যে আঘাত করা হয়েছে। তাই চিন্তা করলাম, বিদায় নেয়ার সময় হয় নাই, বিদায় দেয়ার সময় হয়েছে।
শামীম ওসমান বলেন, পেছন থেকে ছুরি মারাদের ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। নারায়ণগঞ্জ থেকেও পিছন থেকে ছুরি মারার জায়গা আছে। দেশটাকে অকার্যকর করার জন্য অনেক ধরণের গেম চলছে। এটা আমাদের দেশ, আমাদের মাতৃভূমি। প্রত্যেকের জায়গা থেকে দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের উচুঁ মাথাটাকে অনেকেই সহ্য করতে পারছেনা। আমার কিংবা আমার স্বার্থে নয়, হাজার কোটি শিশুদের আগামী দিনের ভবিষ্যতের জন্য শেখ হাসিনাকে বাঁচান। শেখ হাসিনাকে শুধু আওয়ামী লীগের জন্য নয়, শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য তাকে দরকার।
দৈনিক কালের কণ্ঠ নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি দিলীপ কুমার ম-লের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মুস্তাইন বিল্লাহ, পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বাবু চন্দনশীল, যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ টিটু, সদর ইউএনও নাহিদা বারিক, জেলা করোনা বিষয়ক ফোকাল পার্সন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম জাহিদ উপস্থিত ছিলেন।
বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান




















