চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের আচরণবিধির ব্যাপারে কঠোর কমিশন। নির্বাচনী প্রচারণায় গাড়ি বহর নিয়ে কোনো ধরনের শোডাউন করা যাবে না সাফ জানিয়ে দিয়েছেন চসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তও চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান।
তিনি জানান, নির্বাচনে কোনো প্রার্থী গণজমায়েত করতে পারবেন না। প্রার্থীদের প্রচারণায় স্বাস্থ্যবিধি ও আচরণবিধি অবশ্যই মেনে চলতে হবে। প্রচারণায় যারা অংশ নিবেন প্রত্যেককে মাস্ক পরতে হবে। যতটুকু সম্ভব সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে। আচরণবিধি মনিটরিংয়ের জন্য ৪১ ওয়ার্ডে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে নামছেন।
নির্বাচন ঘিরে ৪১টি ওয়ার্ডে জেলা প্রশাসনের ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে নামছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রার্থীদের নির্বাচন আচরণবিধিমালা লঙ্ঘন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয় জেলা প্রশাসনের ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বিভিন্ন ওয়ার্ডের দায়িত্ব দিয়ে একটি অফিস আদেশ জারি করেছেন।
জানা গেছে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুজন চন্দ্র রায় চসিকের ১৬, ২০ ও ৩২ নম্বর ওয়ার্ড, আবদুস সামাদ শিকদার ২৭, ৩৭ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড, আশরাফুল হাসান ১৭, ১৮ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ড, তৌহিদুল ইসলাম ১২, ২৩ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ড, মামনুন আহমেদ অনীক ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড, এস এম আলমগীর ১৪, ১৫ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ড, মিজানুর রহমান ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড, আশরাফুল আলম ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড, মাসুদ রানা ৩৩, ৩৫ ও ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড, সুরাইয়া ইয়াসমিন ২২, ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ড, জিল্লুর রহমান ১১, ২৫ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ড, রেজওয়ানা আফরিন ৯, ১০ ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ড, উমর ফারুক ২৮, ২৯ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গালিব চৌধুরী ৩৯, ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্ব পালন করবেন। একই সাথে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা নির্বাচনে ১৪ টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
মেয়র এবং কাউন্সিলর প্রার্থীদের মাঠ পর্যায়ে নির্বাচনী প্রচারণা পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, প্রার্থীদের মাঠ পর্যায়ে প্রচারণা ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী এবং বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন যেখানেই গণসংযোগে যাচ্ছেন সেখানে নেতাকর্মীদের জনস্রোত সৃষ্টি হচ্ছে। একই অবস্থা দেখা গেছে নগরীর কয়েকটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের গণসংযোগেও। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ করা হয়েছে। গত রোববার বিকালে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের পক্ষে চট্টগ্রাম নাগরিক ঐক্য পরিষদ এই অভিযোগ করে।
পরিষদের ব্যানারে নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. একরামুল করিমের নেতৃত্বে একটি টিম নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামানের কাছে এ অভিযোগপত্র জমা দেন। এ সময় মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনও উপস্থিত ছিলেন। বাকলিয়া এলাকায় তার সমর্থকদের মারধর, বাগমনিরাম ওয়ার্ডে তার প্রচারপত্রসহ ভ্যানগাড়ি আটকে রাখার ব্যাপারে তিনি মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন। প্রচারণায় আওয়ামী লীগ মনোনীত চসিক মেয়র পদপ্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, আগামী ২৭ জানুয়ারি সিটি করপোরেশন নির্বাচন।
অনেকেই ভোট চাইতে আসবে, বুঝে শুনে উন্নয়নের পক্ষে রায় দিতে ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, বোমাবাজ, আগুনে পুড়িয়ে নিরহ জনগনকে যারা হত্যা করেছিল তারাও ভোট চাইতে আসবে। তাদের প্রত্যাখ্যান করতে হবে। বুঝে শুনে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের প্রতীক নৌকায় ভোট দিবেন। ডা. শাহাদাত বলেন, আমি মেয়র নির্বাচিত হলে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকে পর্যটকদের জন্য আরও দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করে গড়ে তুলব।
আমাদের এই প্রিয় চট্টগ্রামকে একটি সুন্দর, স্বাস্থ্যসম্মত পর্যটন নগরী, পরিছন্ন, আধুনিক বাণিজ্য নগরী হিসাবে প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেব।চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে, বিএনপির মেয়র প্রার্থী ও মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে ৪৯টি মামলা! এই মামলাগুলো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ডা. শাহাদাত।তার ৪৯টি মামলার মধ্যে একটিতে খালাস পেয়েছেন তিনি। দু’টি মামলা স্থগিত, দু’টি মামলা তদন্তাধীন ও বাকি ৪৪টি মামলা বিচারাধীন।
চসিক নির্বাচনে ডা. শাহাদাতের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ও নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।
ধন-সম্পদে ৬৮ বছর বয়সী রেজাউলের চেয়ে এগিয়ে ৫৫ বছর বয়সী ডা. শাহাদাত। বিএ পাশ রেজাউলের চেয়ে বার্ষিক আয়ও বেশি এমবিবিএস পাশ শাহাদাতের।তবে বাকলিয়ার স্থায়ী বাসিন্দা ডা. শাহাদাত ঋণগ্রস্ত। কিন্তু বহদ্দারহাটের স্থায়ী বাসিন্দা রেজাউলের কোনো ঋণ নেই।
বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান




















