২০২০! রীতিমতো ঘটনাবহুল একটি বছর, যে বছর জুড়েই ছিল প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ এর খবর। ভাইরাসটি পৃথিবীকে করেছে তছনছ, এর প্রভাবে পুরো বিশ্ব হয়েছে ভীত-সন্ত্রস্ত। বেঁচে থাকাটাই ছিল যেন বছরের সবচেয়ে বড় সুখবর।
প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি মিলিয়ে বিদায় নিয়েছে ঘটনাবহুল বছর ২০২০, ইতিহাসের পাতায় যুক্ত হয়েছে নতুন বছর ২০২১। ২০ এর প্রায় পুরোটা সময়ই বন্ধ ছিল ক্যাম্পাস। যার প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পড়াশোনায়৷ অনলাইন ক্লাস, পরীক্ষা, বাজে নেটওয়ার্ক, উচ্চ মূল্যের ডাটা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ছিল বছরজুড়েই।
একইসঙ্গে দেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠ গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও (বশেমুরবিপ্রবি) ঘটেছে নানা আলোচিত ঘটনা। কয়েকজন বশেমুরবিপ্রবিয়ানের ২০ এর প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি এবং ২১ এর প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক আর এস মাহমুদ হাসান।
খাদিজা তুল কোবরা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ
“বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে কবে?”
হাজারো শিক্ষার্থীর মনে একটাই প্রশ্ন বারংবার বিধে রয়েছে সেটা হচ্ছে- বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে কবে? ২০২০ একটা বছর, যেখানে প্রাপ্তির খাতা বলতে গেলে শূণ্যই বলা চলে। ২টি সেমিস্টার, ১টি বছর প্রাপ্তির ঝুলিতে যোগ হয়নি কিছুই। বিশ্ববিদ্যালয় কবে খুলবে তা আমার জানা নেই।
এক্ষেত্রে প্রথম ধাপে স্নাতকোত্তর পরিক্ষার্থীদের যাদের শুধুমাত্র পরীক্ষা, থিসিস, প্রজেক্ট এবং ভাইভা বাকি আছে অন্ততপক্ষে তাদের পরীক্ষাগুলো নিয়ে নিলে হল গুলোর ওপর চাপ কমবে। এরপর পর্যায়ক্রমে স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে টার্মিনাল পরীক্ষাগুলো শেষ করা যেতে পারে। এ দুটি ধাপ শেষ হতে হতে বোঝা যাবে করোনা পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নিচ্ছে।
নয়তো এভাবে চলতে থাকলে আমাদের মতো একটা উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা সর্বোপরি দেশের কাঠামো কোনদিকে চলে যাবে আন্দাজ করতে পারছেন নিশ্চয়ই! এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ এ প্রসঙ্গ বিবেচনা করে দেখতে পারেন।
মিল্টন হুসাইন, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ
“একটি নতুন ভোরের খোঁজে”
“মিশেছি প্রকৃতির রেশে, প্রতিক্ষণ আসতে চায় মন।
জ্ঞান অন্বেষণে মোরা, থমকে যাবো কি কিয়ক্ষণ?”
অরণ্যে ঘেরা আর পক্ষিকূলের কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত প্রাণের ক্যাম্পাসে ফেরার জন্য মন ব্যাকুল হয়ে আছে। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে জ্ঞান আহরণে মন দিয়েছিলাম। পর্যাপ্ত শিক্ষক মহোদয় আর রুমের অভাবে হয়তো একটা সময় ক্লাস করার মতো পরিবেশ না পেলেও সমস্যাগুলি ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠছিলাম ঠিক সেই মুহূর্তেই করোনা পরিস্থিতি সব এলোমেলো করে দিলো।
অপ্রাপ্তিগুলোর ভীড়ে প্রাপ্তিগুলো নেহাত কম না। ইতোমধ্যে আমরা দেখতে পাচ্ছি বেশ কতকগুলি অবকাঠামোগত উন্নয়ন। কাজগুলি বেশ দ্রুতগতিতে সামনের দিকে এগোচ্ছে। আমাদের এখনও বেশ কতকগুলি শিক্ষাক্ষেত্র উন্নয়ন প্রয়োজন। আমরা চাই গবেষণা ক্ষেত্র, থিসিস ক্ষেত্র, সাথে সংশ্লিষ্ট পরিবেশ, অবকাঠামো। শ্রদ্ধেয় ভাইস চ্যান্সেলর মহোদয় যেন সার্বিক দিকে নজর দেন সেই কামনা করি, সাথে ওনার দীর্ঘায়ু কামনা করি।
সানজানা রহমান, কৃষি বিভাগ
“আলো আসবে ফিরে”
আসলে ২০২০ সালে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমার প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির প্রশ্ন তুলতে হলে আমি বলব প্রাপ্তির থেকে অপ্রাপ্তি-ই বেশি। আমাদের শিক্ষাগত দিক বিবেচনা করতে গেলে বলবো এই করোনাকালীন সময়ে আমাদের প্রশাসন এমন কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি যেখনে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
তবে এতো অপ্রাপ্তির মধ্যে ২০২০ এর প্রাপ্তি কিছু না কিছু আছে। একাডেমিক ভবনের কাজ শুরু হয়েছে আশাকরি করোনা পরিস্থিতি শান্ত হলে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর ক্লাস রুম সংকট আর থাকবেনা। আর এই করোনা মহামারি কত দিন থাকবে তা সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আমরা কেউ জানিনা।
২০২১ এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমার আশা আমাদের শিক্ষাগত দিক যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেই পদক্ষেপ নেওয়া। নতুন বছর শুরুর সাথে সাথে আমি একটি দূর্নীতিমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় চাই যেটা শিক্ষার্থীদের জন্য আর যেখানে থাকবে জ্ঞানের প্রাসারতা। ২০২১ এ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে এটাই আমার প্রত্যাশা।
মোঃ জান্নাতুল নাঈম, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
“নতুন সম্ভাবনায় ২১”
প্রকৃতির চরম ভয়াবহতায় আজ আমরা সবাই ঘরে বন্দি। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি ২০২০ এর সকল ভয়াবহতা অন্ধকার কেটে গিয়ে ২০২১ হোক সবার জন্য আলোকিত, আনন্দময় ও সুস্থতায় পরিপূর্ণ একটি বছর। যেতে চাই স্বাভাবিক জীবনে, ফিরে পেতে চাই নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা।
২১ এ প্রত্যাশা করব প্রত্যেক ডিপার্টমেন্টে প্রফেসর নিয়োগ ও গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা যেন নেয়া হোক। যদি করোনা মহামারী এভাবে চলমান থাকে তবে প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের ডাটা ব্যবহারের নিশ্চয়তার মধ্যমে একাডেমিক কার্যক্রম সক্রিয় রাখতে হবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিস্টার ফি ও বেতন কমাতে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।প্রত্যাশা রাখি নতুন ভিসি স্যারের হাত ধরেই বদলে যাবে সবকিছু, সমাধান হবে সকল সমস্যার।
তাজকিয়া আকবর ঋতু, প্রানিসম্পদ বিজ্ঞান ও ভেটেরিনারি মেডিসিন বিভাগ
“সব অপ্রাপ্তি গুলো যেন প্রাপ্তিতে পরিনত হয়”
১লা জানুয়ারি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিন, যা হয়তো স্মৃতির পাতায় বিশেষ একটা দিন হিসেবে জমা হয়ে থাকবে। তারপর পছন্দের ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হতে পারা আর অসম্ভব ভালো কিছু বন্ধু পাওয়া আমার কাছে প্রাপ্তির একটা বিশেষ জায়গা জুড়ে আছে।
সবকিছু সুস্থ স্বাভাবিক নিয়মে এগিয়ে গেলেও হঠাৎ করোনার ছোবলে থমকে গেল সারা পৃথিবী। ২ মাস ১৭ দিনের মাথায় নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনকে স্ট্যাচু করে চলে এলাম বাসায়। প্রথম কয়েকদিন ভালো লাগলেও তারপর থেকে শুরু হলো খারাপ লাগা। ক্যাম্পাস, ক্লাস, বন্ধুদের মিস করতে শুরু করলাম। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নবীনবরন, প্রথম নববর্ষ, প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষা দেয়া, প্রথম ভাইভা, প্রথম প্রেজেন্টেশন দেয়ার অভিজ্ঞতা সবকিছুকেই অপ্রাপ্তির খাতায় লিখে রাখতে হলো।
পৃথিবীর অসুখ সেরে গেলে যেন সবাই মিলে আবার সেই প্রানোচ্ছল ক্যাম্পাসে দেখা হয় সেই আশায় এখন দিন গুনি। নতুন বছরে প্রত্যাশা থাকবে সব অপ্রাপ্তি গুলো যেন প্রাপ্তিতে পরিনত হয়। আর সবাই যেন খুব বেশি সুস্থ আর হাসিখুশি থাকে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর


























