ঊনবিংশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-২০২১’র অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকাল থেকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় দিরব্যাপী সেমিনার ‘ওয়েস্ট মিটস ইস্ট’। পশ্চিমা চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দেশের নির্মাতাদের একটি যোগসুত্র তৈরি এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অবস্থান আরো দৃঢ় করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিনিযোগের কৌশল তৈরি এই সেমিনারের ম‚ল উদ্যেশ্য। ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজনে ৩য় ‘ওয়েস্ট মিটস ইস্ট’ সেমিনার এটি।
সকালে সেমিনারের শুরুতে প্রথম সেশনে ভারত থেকে যোগ দেন বার্লিন উৎসবের প্রোগ্রামার, চলচ্চিত্র সমালোচক এবং সাংবাদিক মীনাক্ষী শেড্ডি। নবাগত চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং পরিচালকদের জন্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর প্রারম্ভিক পর্যায়ের বিভিন্ন ধাপ তুলে ধরেন তিনি। উৎসবগুলোর কৌশল, আন্তঃপরিকল্পনা, নির্মাতাদের সহযোগিতার জন্য প্রতিষ্ঠিত বিশ্বব্যাপী কিছু প্রতিষ্ঠান এবং সেসব প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় কিভাবে ভালো চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং পরিচালক হওয়া যায়, চলচ্চিত্র সম্পর্কিত বৈশ্বিক বিনিয়োগ কিভাবে পাওয়া যায়, এশিয়ার বিভিন্ন উৎসবে কিভাবে চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়- এসব বিষয়ে কথা বলেন শেড্ডি। যারা চলচ্চিত্র প্রযোজনায় আসতে চান তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “ফিল্ম হলো মেয়ে বিয়ে দেয়ার মতো, মেয়ের জন্য যেমন সবচেয়ে সেরা ছেলেকেই বাছাই করা হয়, তেমনি নিজের চলচ্চিত্রটির জন্য সেরা উৎসবগুলো মাথায় রেখে আগাতে হবে”। উদাহরণ হিসেবে তিনি বার্লিনালে ২০২০ ফেস্টিভ্যালের কথা বলেন, যেখানে প্রায় ৪ লক্ষ ৮০ হাজার ভিজিটর এসেছিলো এবং ৩ লক্ষ ৩০ হাজার টিকিট বিক্রি হয়ে ছিলো। প্রশ্নত্তোর পর্বে মিনাক্ষী বলেন, মেধাবীরা কখনো অর্থে জন্য থেমে থাকে না, বিশ্বব্যাপী প্রচুর অর্থদাতা সংস্থা আছে, শুধু খুঁজে নিতে হবে।
পরে, চলচ্চিত্রের ডিজিটাল প্ল্যাটফরম নিয়ে কথা বলেন ‘জি৫’র নির্বাহী “অনিন্দিতা চৌধুরী”। তার আলোচনায় উঠে আসে, কিভাবে বর্তমান ফিল্ম মেকাররা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তাদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারেন। তিনি বলেন, “একটি প্রডাকশনের আগে অবশ্যই দর্শকদের মন-মানসিকতা বুঝতে হবে। বুঝতে হবে তারা কি চাইছে, এবং একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফরমের অর্থনৈতিক প্রক্রিয়াগুলো কমেন। তাহলেই একজন নির্মাতা একটি সফল চলচ্চিত্র নির্মান করতে পারবে”। এছাড়াও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য ওটিটি প্ল্যাটফর্ম একটি প্রারম্ভিক স্টেশনের মতো উল্লেখ করে শুরুতেই এই দিকে ধাবিত হওয়ার উচিত বলে মনে করেন তিনি।
সেমিনারে উপস্থিত বক্তারা মনে করেন, বিশ্বায়নের এই সময়ে প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্যর ব্যবধান খুব দ্রæত কমে আসছে। গত বছরে কোরিয়ান চলচ্চিত্র ‘প্যারাসাইট’র অস্কারে জয়জয়কার তার উদাহরণ। বর্তমানে ডিজিটাল যুগে বাংলাদেশের তরুণ নির্মাতাদের সামনে তাই অবারিত সুযোগ বিশ্বকে জয় করার । ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব এই বিশ্বজয়ের এক শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে বলে মনে করেন তারা।
বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ
























