উন্নত জীবনযাপনের প্রলোভন দেখিয়ে বৈধভাবে ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে অবৈধ পথে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর অতিক্রম করানোর সময় তিউনিশিয়া উপকূলে নৌকাডুবির ঘটনায় ৮ (আট) জন বাংলাদেশি নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় মানব পাচার চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গত ১২ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানাধীন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর সিরিয়াস ক্রাইম ইউনিট।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন গুরুদাস বারই (৪৫) এবং মো. মোতালেব মাতব্বর (৬৮। গুরুদাস বারইকে রাজৈর থানাধীন দক্ষিণ খালিয়া গ্রাম থেকে এবং মো. মোতালেব মাতব্বরকে দামেরচর বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মো. মোতালেব মাতব্বর (৬৮)-এর বিরুদ্ধে পূর্বে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ অনুযায়ী মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত এবং এজাহারনামীয় মূল পাচারকারীদের নির্দেশে অর্থ ও লোক সংগ্রহের কাজ করছিল। তারা ভিকটিমদের বিদেশে পাচারের পুরো প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিল।
মানব পাচার চক্রটি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভিকটিমদের কাছ থেকে জনপ্রতি প্রায় ১৪,০০,০০০/- (চৌদ্দ লক্ষ) টাকা গ্রহণ করে বৈধভাবে ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দেয়। পরবর্তীতে ভিকটিমদের অবৈধভাবে লিবিয়া পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি ডিঙ্গি নৌকায় তুলে দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টার মধ্যে তিউনিশিয়া উপকূলে পৌঁছানোর আগেই নৌকাটি ডুবে গেলে ৮ জন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন—সজল বৈরাগী (২৫), মামুন শেখ (২৪), নয়ন বিশ্বাস (১৮), কাজী সজিব (১৯), কায়সার খলিফা (৩৫), মো. রিফাত শেখ (২৫), রাসেল শেখ (১৯) এবং ইমরুল কায়েস আপন (২৪)।
নৌকাডুবির পর নিহতদের মধ্যে চারজনের মরদেহ Gabes University Hospital এবং অপর চারজনের মরদেহ Djerba General Hospital-এর মর্গে সংরক্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে সরকারি প্রক্রিয়ায় মরদেহগুলো বাংলাদেশে আনা হয় এবং স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ঘটনার পর নিহত সজল বৈরাগীর পিতা সুনিল বৈরাগী (৫৯) বাদী হয়ে ঢাকা মহানগরের বিমানবন্দর থানা থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা (বিমানবন্দর থানার মামলা নং- ১০ তারিখ- ১৯/০৪/২৪ ধারা- মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ এর ৭/৮ তৎসহ পেনাল কোড ৩০২/৩৪) দায়ের করেন।
গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়কে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক ও অজ্ঞাতনামা সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, উক্ত অপরাধলব্ধ আয় কোন কোন হিসাবের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে তা নিরূপণ এবং পুরো অপরাধচক্রের নেটওয়ার্ক উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ডিএস./



















