সুন্দরবন উপকূলীয় সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলায় একটি চিত্রা হরিণের খামার গড়ে উঠেছে। খামারটিতে নতুন শাবক সহ ৩৫ হরিণ রয়েছে।
বড় হরিণের সংখ্যা ২৯ টি। কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের নন্দকাটি গ্রামের গলঘশিয়া নদীর তীরে এ খামার গড়ে তোলা হয়েছে।
নদী ওপারে আশাশুনী উপজেলা। অবস্থানগত দিক থেকে ২ উপজেলার মধ্যস্থানে খামারটির অবস্থান। প্রতিদিন কয়েকশত দর্শনার্থী এ হরিণের খামারে হরিণ দেখতে আসে।
হরিণের খামার গড়ে ওঠায় অনেকই এ খামার করার পরিকল্পনা করলেও আইনি জটিলতা তা ভেস্তে যেতে বসেছে। অল্প বিনিয়োগে এ খামার গড়ে তুলে অবিস্মরণীয় লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকলেও বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতার ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন হরিণের খামার তৈরির উদ্যোক্তা সোলাইমান হোসাইন।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, সদ্যভুমিষ্ট হরিণছানা মায়ের দুধ পান করছে। লালনপালনকারী জানান, স্থানীয় সম্পাদশালী দি ষ্টার হ্যাচারীর মালিক, জাতীয়পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ছাত্তার মোড়ল শখের বশে ২০০৪ সালে খুলনার এক ব্যাবসায়ীর নিকট থেকে ৫ টি হরিণ নিয়ে লালনপালন শুরু করে। ২০১৭ সাল পর্যন্ত বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় হতে সনদপত্র নবায়ন করে এ শখের হরিণের খামার চালাচ্ছিল। বর্তমান সুন্দরবনের নিকটবর্তী হওয়া সনদপত্র নবায়ন বন্ধ করে দিয়েছে।

হরিণের খামার দ্রুত বর্ধনশীল। প্রতি ৩ বছরে একটি মায়া হরিণ ১ টি করে মোটা ২ টি বাচ্ছা দেয়। এদের সাধারণ ছাগলের খামারের মত খাবার দিতে হয়। রোগ – বালাই নেই বল্লেই চলে।
এ বিষয়ে খামারের মালিক ছাত্তার মোড়ল (৬০) বিজনেস বাংলাদেশ কে জানিয়েছেন,হরিণের খামার প্রচুর লাভজনক একটি ব্যবসা। হরিণের মাংসের চাহিদা এত বেশি যে,যদি শিক্ষিত বেকাররা চাকুরীর পিছনে না ছুটে হরিণের খামার করে তবে দ্রুত দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ হবে।
তিনি আরও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান কামাল আমার নিকট থেকে ৬ টি হরিণ নিয়ে তা লাললপালন করে এখন ১১ টি হরিণের মালিক বনে গেছেন।
বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তর যে আইনি জটিলতা দেখিয়ে আমার প্রত্যায়ন বন্ধ করে দিয়েছে তাতে এ অভাবনীয় সাফল্যলাভের পথ রুদ্ধ করে উদ্যোক্তাদের অঙ্কুরেই বিনাশ করে দিচ্ছে। সুন্দরবন হতে খামারের দৈর্ঘ্য নদী ও স্থল পথে ৫০ কিলোমিটারের বেশি।কিন্তু খামারের বায়- এয়ারের দৈর্ঘ্যতা দেখিয়ে আমাকে হেয়- প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। ছাত্তার মোড়ল আরও জানিয়েছেন,খামারের অনুমোদন নবায়ন না করা হলেও খামার চলবে। যদি এখানে কোন ঝামেলা করে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ তবে সেটা কখনওই ভাল হবে না।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস, এম মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, আইনি জটিলতা না থাকলে খামার গড়ে তোলার সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ






















