নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের হঠাৎ পাড়া গ্রামের কলেজ ছাএী ধর্ষনের মামলা করে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ধর্ষকের সাঙ্গপাঙ্গরা মামলা তোলার হুমকি দিচ্ছে। মামলা তোলা না হলে ধর্ষিতাকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করবে বলে বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে ধর্ষিতার পরিবারকে জানানো হচ্ছে।
সরেজমিন ও মামলাসূত্রে জানা গেছে, ধর্ষনের শিকার কলেজ ছাএী মাগুড়া হঠাৎ পাড়া গ্রামের নানা আহাদ আলীর বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করে। তার গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার অনন্তপুর গ্রামে। সে রিকশা চালক মঞ্জু মিয়ার মেয়ে। মা আহিলা বেগম ঢাকায় একটি কারখানা শ্রমিকদের রান্নার কাজ করে। বাবা-মায়ের সাংসারিক দৈন্য দশার কারণে ছোটবেলা থেকে ওই ছাত্রী নানাবাড়িতে থেকে মাগুড়া প্রতিভা কিন্ডার গার্টেন স্কুলে লেখাপড়া করে। যখন সে ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী তখন ওই স্কুলের শিক্ষক আতাউর রহমান আয়নালের কাছে সে গণিত বিষয়ে প্রাইভেট পড়ত। প্রাইভেট পড়াকালীন সময় লম্পট শিক্ষক আয়নালের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে তার উপর। গল্প আর খুনশুটির ছলে তার গায়ে হাত দিত আয়নাল। এরপর স্কুল পরিবর্তন করে গত বছর এস.এস.সি পাশ করে সে। তার ইচ্ছা সে লেখাপড়া করে বড় হয়ে গরীব বাবা-মায়ের সাংসারিক দৈন্যদশা ঘুচাবে। কিন্তু লম্পট আয়নাল তার পিছু ছাড়েনি। মাঝেমধ্যে লম্পট শিক্ষক তার বাড়ির কোণে গিয়ে লুকিয়ে থাকে। তার গোসলের ছবি মোবাইলে ভিডিও করে তাকে দেখায়। সে তার কথায় রাজি না হলে গোসলের ভিভিও ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ার হুমকী দেয়। এতেও সে রাজি না হলে গত ৬জানুয়ারী বিকেল ৫টার দিকে তার শয়ন ঘরে ঢুকে মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে। তার চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে এলে ধর্ষক আয়নাল ঘরের বেড়া ভেঙ্গে পালিয়ে যায়। এলাকাবাসী ধাওয়া দিলে তিনি একটি ডোবায় গিয়ে লুকিয়ে পরে। আতাউর রহমান আয়নাল একই ইউনিয়নের দোলাপাড়া গ্রামের জলিল উদ্দিনের ছেলে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী কোর্টে একটি মামলা করে। মামলা করার পর থেকে ছাত্রীর পরিবারকে নানা হুমকী দিয়ে আসছে ধর্ষকের সাঙ্গপাঙ্গরা। মামলা তুলে না নিলে তাকে গুম করে হত্যার হুমকী দিচ্ছে বলে নানা আহাদ আলী মা আহিলা বেগমসহ এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, কোর্ট থেকে মামলা এখনো থানায় আসেনি। আসলে মামলা রেকর্ড করে তদন্ত শুরু করা হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ





















