মুল জমি এড়িয়ে সরকারী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সীমানা প্রাচীর করা হয়েছে নদীর সীমানায়। আর নদীর সীমানায় প্রাচীর নির্মাণের করে ২২ লাখ ৫৭ হাজার টাকা তুলে নিলো ঠিকাদার। তবে এসবের কিছুই জানেনা দাবী করেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পণা কর্মকর্তা। এদিকে জমি হিস্যা বিরোধের জেরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ৪৫ শতক জমি থেকে সাড়ে ২২ শতক জমি বেদখল হয়ে আছে দীর্ঘ একযুগের অধিক। সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, রূপগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পণা কর্মকর্তা বিভাগের অধীনে ২৪ ঘন্টা প্রসুতি সেবা ও সাধারণ চিকিৎসার জন্য পূর্বগ্রাম এলাকায় রয়েছে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের অবস্থান। ১৯৮৭ ইং সনে কায়েতপাড়ার পূর্বগ্রাম এলাকার বাসিন্দা সদর ভুঁইয়া‘র ছেলে আজহারুল হক তার ভোগ দখলীয় পূর্বগ্রাম মৌজার আরএস ৬২১ ও ৬২৩ নং দাগে ৪৫ শতক জমি বিগত ৫৬৩৮ নং দলিল মূলে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পণা মন্ত্রণালয়ের সচীব বরাবর সম্পাদন করে দেন। পরে ওই জমিতে একটি ভবন নির্মাণ করে হাসপাতাল তৈরী হয়। কিন্তু একটি প্রভাবশালী মহল ওই হাসপাতালের জমি থেকে ২৩ শতক হিস্যা জটিলতা দেখিয়ে দখল করে নেয়। অন্য দিকে হাসপাতালটির নিরাপত্তায় উপজেলা পরিষদ থেকে প্রাচীর নির্মাণ করার জন্য ২২ লাখ ৫৭ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এ কাজ পান এম এম এন্টার প্রাইজ নামীয় একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ রয়েছে ওই প্রতিষ্ঠানটি তড়িঘরি করে হাসপাতালের জমিতে সীমানা প্রাচীর না করে নদীয় সীমানায় প্রাচীর নির্মাণ করে দেয়। এমনকি হাসপাতালের মুল জমি বেদখল রেখে ৪ পাশে সীমানা প্রাচীর করার কথা থাকলেও শুধুমাত্র ৩ দিকে প্রাচীর নির্মাণ করে বিল আদায় করে নেয় ঠিকাদার। সংশ্লিষ্ট উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী শাহ নেওয়াজ সরাসরি এ কাজে জড়িত হয়। আর এভাবে বেদখল হয়ে যায় স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জমি। সূত্র জানায়, জমি সংক্রান্ত এ বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য প্রথমবার ২০০৯ সালে তৎকালীন উপজেলা পরিবার পরিকল্পণা কর্মকর্তা মজিবুর রহমান সিদ্দীকি সহকারী কমিশনার ভূমি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেও কোন সুরাহা পাননি। সবশেষ ২০১৯ -২০ অর্থবছরে ওই ৪৫ শতক জমিতে সীমানা প্রাচীরের আবেদন করেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বরত কর্মকর্তা। এ আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা পরিষদ থেকে একই বছর ২২ লাখ ৫৭ হাজার ৫শত ২২টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এদিকে ৪৫ শতক জমি থেকে ২২ শতকে প্রাচীর অবার নদীর সীমানা হাসপাতালকে বুঝিয়ে দেয়ার ঘটনায় ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর প্রতি ক্ষোভ জানিয়েছেন হাসপাতালের কর্মরত লোকজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পূর্বগ্রামের বাসিন্দা ও কায়েতপাড়া আওয়ামীলীগ সভাপতি জায়েদ আলী জানান, দখলদাররা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও প্রকৌশলীকে ম্যানেজ করে দ্রুত সীমানা প্রাচীরের কাজ শেষ করে দিয়েছে। ফলে হাসপাতালটি উভয় দিক থেকে জমি বঞ্চিত হয়েছে। তাছাড়া নদীর সীমানা প্রাচীর করার সময় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা অর্থের বিনিময়ে কোন স্থানে আর এস রেকর্ড ধরে কোন স্থানে সি এস মুলে তাদের মনগড়া সীমানা পিলার স্থাপন করে আসছে। নদীর সীমানা নির্ধারনে ঠিকাদারদের অনিয়ম রয়েছে। এ বিষয়ে এম এম এন্টার প্রাইজের মালিক ঠিকাদার মহিউদ্দিন বলেন, কোন পক্ষ থেকে ম্যানেজ হইনি। আগে সীমানা প্রাচীর করেছি পরে নদীর সীমানা পিলার করা হয়েছে। যতটুকু কাজ করেছি ততটুকুর বিল উত্তোলন করেছি মাত্র। এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি‘র প্রধান প্রকৌশলী এনায়েত কবীর বলেন, জমি যতটুকু বুঝিয়ে দিয়েছে ততোটুকুতেই সীমানা প্রাচীর করা হয়েছে। জমির মাপ ঝোঁকের দায়িত্ব আমার নয়। আমার অধীনে কোন প্রকৌশলী জড়িত নয়। তবে বিআইডব্লিউ টিএর অধীনে ওটিভিএল নামীয় ঠিকাদারের নিযুক্ত প্রকৌশলী তুষার আহমেদ বলেন, সিএস রেকর্ড অনুযায়ী শীতলক্ষ্যার সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। কায়েতপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জমি ওই হিসেবে আংশিক নদীর সীমানায় পড়েছে। কোন স্থানেই মনগড়া সীমানা করা হয়নি। কায়েতপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্বরত এসওসিএমও সাহিনুর সুলতানা জানান, আমাদের স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মালিকানার ৪৫ শতকের পরিবর্তে কেবল ২২শতক প্রাচীর করে সীমানা নির্ধারন করা হয়। পরে দেখলাম নদীর সীমানা পিলারও করা হয়েছে এই প্রাচীরের ভেতরেই। ফলে আমাদের এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জমি কমে এসেছে। মুল জমি বেদখল হয়ে গেছে। এ বিষয়ে আমি আমার উর্ধ্বতণ মহলকে লিখিত জানিয়েছি। পূবর্ গ্রামের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী রুজেল খাঁন বলেন, হাসপাতালের নামে জমি দাতা আজহারুল হক রেকর্ডীয় সূত্রে মাত্র ২৩ শতক জমির মালিক হয়ে ৪৫ শতক লিখে দিয়েছেন। তার পুরো জমিতে মালিকানা‘র বৈধতা নেই। এ নিয়ে জমি বিরোধ রয়েছে।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পণা কর্মকর্তা লুৎফা বেগম বলেন, নদীর সীমানা পিলার হাসপাতালের অভ্যন্তরে পড়েছে জানা নাই।কায়েতপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের জমি সংক্রান্ত বিষয়টি উর্ধ্বতন মহলকে জানিয়েছি।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ নুসরাত জাহান বলেন, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে জানি। দখল বিষয়ে পূনঃতদন্তাধীন রয়েছে। আর ঠিকাদারকে কেবল ৩ পাশের বিল হিসেবে প্রাপ্ত অর্থ প্রদান করা হয়েছে। নদীর সীমানায় প্রাচীর হয়েছে তা জানতাম না। তাছাড়া বিআইডব্লিউটিএর অধীনস্থরা সীমানা প্রাচীর করার সময় উপজেলা প্রশাসনের কারো সনে সমন্বয় করে না। এতে সঠিক মাপেও এদিক ওদিক হচ্ছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ





















