কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলাধীন সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইসমাইল সিকদারের বিরুদ্ধে উত্তর মেহেরনামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। গত বছরের(২০২০) ০৭ জুলাই অত্র বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নাছির উদ্দিন বাদশা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর এব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। যার আলোকে জেলা প্রশাসক কক্সবাজারকে উক্ত বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন প্রদানের জন্য দুদকের দৈনিক ও সা¤প্রতিক অভিযোগ সেল পরিচালক উত্তম কুমার মন্ডল স্বাক্ষরিত একটি চিঠি প্রেরণ করা হয়।
অভিযোগসূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে উত্তর মেহেরনামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের পর মাঠ ভরাটের জন্য ২০১৮-১৯ অর্থবছরে একটি প্রকল্প বরাদ্দ দেন উপজেলা পরিষদ। যার বাজেট ছিলো এক লক্ষ চার হাজার ছয়শত চল্লিশ টাকা। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পান স্থানীয় ইউপি সদস্য ইসমাইল সিকদার। অভিযোগে উল্লেখ করা হয় প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই পুরো টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন ইউপি সদস্য ইসমাইল। অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনে উপজেলা পরিষদের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উম্মে কুলসুম মিনু, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা প্রকৌশলী জাহেদুল আলম চৌধুরী ও পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মাহাবুবুল করিম সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগকারী ও উত্তর মেহেরনামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নাছির উদ্দিন বাদশা বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের জন্য উপজেলা পরিষদ অর্থ বরাদ্দ দেন ২০১৯ সালেই। কিন্তু বছরের পর বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরেও প্রকল্পের দৃশ্যমান কোন কাজ না দেখে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি প্রকল্প বাস্তবায়ন সভাপতি ইউপি সদস্য ইসমাইল সিকদার টাকা উত্তোলন করেন বিধিসম্মতভাবেই। প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন না করে উপজেলা প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কিভাবে বিল পাশ করলো তা আমার বোধগম্য নয়।
এব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের পেকুয়া উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী আবদুল আলীম বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের সুপারিশের ভিত্তিতে বিলটি পাশ করা হয়েছে। এখন যেহেতু অভিযোগ উঠেছে সেহেতু তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছেনা।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষে উক্ত বিল পাশের সুপারিশ করা পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মাহাবুবুল করিম বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ইসমাইল সিকদার ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নাছির উদ্দিন বাদশার অনুরোধে আমি সুপারিশপত্রে স্বাক্ষর করি। প্রকল্পের কাজ যে করা হয়নি তা আমার জানা ছিলোনা।
প্রধান অভিযুক্ত ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ইসমাইল সিকদার এমইউপি বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো করা হচ্ছে তা পুরোটা সত্য নয়। প্রকল্পের যে বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে তা দিয়ে ওই মাঠ পুরোপুরি ভরাট করা সম্ভব নয়। ইতোমধ্যে বিদ্যালয়ের মাঠে অনেক মাটি ফেলানো হয়েছে।
প্রকল্পের কাজ বুঝে পাওয়া না পাওয়ার ব্যাপারে উত্তর মেহেরনামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোতাহারা বেগমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে কোন মন্তব্য না করে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) উক্ত অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসক কক্সবাজারকে নির্দেশ দিলে তা তদন্তের দায়িত্ব পান পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোতাছেম বিল্যাহ্। তিনি বলেন, উত্তর মেহেরনামা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ এর একটি অভিযোগ দুদকে প্রেরণ করা হয়েছে। এই মুহুর্তে অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের পরেই বিস্তারিত জানা যাবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ






















