০৬:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

কলাতলীতে ট্রাক চাপায় নিহত তিনজনের পরিচয় শনাক্ত, চিকিৎসাধীন ৮

কক্সবাজার কলাতলী ডলফিন চত্বরে সিমেন্ট বোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পর্যটকসহ তিনজন নিহত হয়েছে। আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে প্রায় ৮ জন। ট্রাক চাপায় সড়কের পার্শে পার্কিংয়ে থাকা ধুমড়ে মুচড়ে যায় ২টি ভাসমান দোকান, ২টি সিএনজি ও ১টি টমটম। শনিবার (৬ মার্চ) রাত সাড়ে ১০ টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। তবে উদ্ধারকাজ শেষ হয় রাত ২ টারদিকে।

নিহত ৩ জনের মধ্যে একজন কলাতলীর দক্ষিণ আদর্শ গ্রামের মৃত লালমিয়ার স্ত্রী মোমেনা বেগম (৭০)। মোমেনা কলাতলীর মোড়ে একটি ভ্রাম্যমান চায়ের দোকান করে সংসার চালাতেন। দোকান বন্ধ করে হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে এই ঘটনা ঘটে। অপরজন ঢাকা মিরপুরের ইব্রাহিমপুর কচুখেত এলাকার বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন (৪০)। শাহাদাত পরিবার নিয়ে গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজারে বেড়াতে এসে কলাতলী মোড়স্থ হোটেল বেস্ট ওয়াস্টানের ৭০১৬ নাম্বার রুমে উঠেন। শনিবার রাতে স্ত্রী ও সন্তানদের হোটেলে রেখে রাস্তার পাশে একটি ওষুধের দোকানে গেলে এই ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আশংকাজনক হওয়ায় শনিরাত রাত ১ টার দিকে কক্সবাজার হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রামে প্রেরণ করা হয় এড. ওচমান গণিকে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পৌছানোর পর ভোর ৪ টারদিকে তার মৃত্যু হয় তবে জানান স্বজন জিয়াবুল করিম। ওচমান গণি কক্সবাজার বাহারছড়া এলাকার বাসিন্দা।

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কলাতলী দক্ষিণ আদর্শ গ্রামের টমটম চালক মোজাম্মেল, আবুল কাশেম, জসিম উদ্দিন, নুরুল আলম ও জয়নালের নাম পাওয়া গেছে প্রাথমিকভাবে।

ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজারমূখী একটি ট্রাক কলাতলী ডলফিন চত্বরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে তুলে দেয়। ট্রাক চাপায় ধুমড়ে মুচড়ে যায় ২টি ভাসমান দোকান, ২টি সিএনজি ও ১টি টমটম। এসময় তাৎক্ষণিক মূমুর্ষ অবস্থায় নারীসহ ২জন কে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে তাদের মৃত্যু হয়। পরে ট্রাকের নিচ থেকে আরও ৪ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর রাত ১ টারদিকে হাসপাতালে আরও ৫ জন গুরুতর আহত অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডেপুটি হেড আশিকুর রহমান জানান, তারা ১০ জন রোগী পেয়েছেন। এর মধ্যে আটজনকে ভর্তি করা হয়েছে। রাতে গুরুতর আহত একজনকে পাঠানো হয়েছে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। আরেকজন শারীরিকভাবে আহত না হলেও মানসিকভাবে পর্যুদস্ত হওয়ায় তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মনিরুল গিয়াস জানান, ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পরই ট্রাকচালক পালিয়েছেন। তাকে আটকে অভিযান চলছে।

এদিকে খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালায় পুলিশ ও দমকল বাহিনী। উদ্ধার তৎপরতা কাজে সহায়তা করেন মেয়র মুজিবুর রহমান, সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক ঝিলংজা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম সাদ্দাম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক মারুফ আদনানের নেতৃত্বে নেতাকর্মীসহ স্থানীয়রা।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাদ্দাম হোসেন জানান, হঠাৎ করে ট্রাকটি তাদের পাশ ঘেষে ফুটপাতে তুলে দেয়। কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই মুহুর্তের মধ্যে ভেঙে তচনচ হয়ে যায় ২টি সিএনজি, ২টি ভাসমান দোকান ও ১টি টমটম।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কলাতলীতে ট্রাক চাপায় নিহত তিনজনের পরিচয় শনাক্ত, চিকিৎসাধীন ৮

প্রকাশিত : ০৩:৫৯:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ মার্চ ২০২১

কক্সবাজার কলাতলী ডলফিন চত্বরে সিমেন্ট বোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পর্যটকসহ তিনজন নিহত হয়েছে। আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে প্রায় ৮ জন। ট্রাক চাপায় সড়কের পার্শে পার্কিংয়ে থাকা ধুমড়ে মুচড়ে যায় ২টি ভাসমান দোকান, ২টি সিএনজি ও ১টি টমটম। শনিবার (৬ মার্চ) রাত সাড়ে ১০ টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। তবে উদ্ধারকাজ শেষ হয় রাত ২ টারদিকে।

নিহত ৩ জনের মধ্যে একজন কলাতলীর দক্ষিণ আদর্শ গ্রামের মৃত লালমিয়ার স্ত্রী মোমেনা বেগম (৭০)। মোমেনা কলাতলীর মোড়ে একটি ভ্রাম্যমান চায়ের দোকান করে সংসার চালাতেন। দোকান বন্ধ করে হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে এই ঘটনা ঘটে। অপরজন ঢাকা মিরপুরের ইব্রাহিমপুর কচুখেত এলাকার বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন (৪০)। শাহাদাত পরিবার নিয়ে গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজারে বেড়াতে এসে কলাতলী মোড়স্থ হোটেল বেস্ট ওয়াস্টানের ৭০১৬ নাম্বার রুমে উঠেন। শনিবার রাতে স্ত্রী ও সন্তানদের হোটেলে রেখে রাস্তার পাশে একটি ওষুধের দোকানে গেলে এই ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আশংকাজনক হওয়ায় শনিরাত রাত ১ টার দিকে কক্সবাজার হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রামে প্রেরণ করা হয় এড. ওচমান গণিকে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পৌছানোর পর ভোর ৪ টারদিকে তার মৃত্যু হয় তবে জানান স্বজন জিয়াবুল করিম। ওচমান গণি কক্সবাজার বাহারছড়া এলাকার বাসিন্দা।

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কলাতলী দক্ষিণ আদর্শ গ্রামের টমটম চালক মোজাম্মেল, আবুল কাশেম, জসিম উদ্দিন, নুরুল আলম ও জয়নালের নাম পাওয়া গেছে প্রাথমিকভাবে।

ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজারমূখী একটি ট্রাক কলাতলী ডলফিন চত্বরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে তুলে দেয়। ট্রাক চাপায় ধুমড়ে মুচড়ে যায় ২টি ভাসমান দোকান, ২টি সিএনজি ও ১টি টমটম। এসময় তাৎক্ষণিক মূমুর্ষ অবস্থায় নারীসহ ২জন কে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে তাদের মৃত্যু হয়। পরে ট্রাকের নিচ থেকে আরও ৪ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর রাত ১ টারদিকে হাসপাতালে আরও ৫ জন গুরুতর আহত অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডেপুটি হেড আশিকুর রহমান জানান, তারা ১০ জন রোগী পেয়েছেন। এর মধ্যে আটজনকে ভর্তি করা হয়েছে। রাতে গুরুতর আহত একজনকে পাঠানো হয়েছে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। আরেকজন শারীরিকভাবে আহত না হলেও মানসিকভাবে পর্যুদস্ত হওয়ায় তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মনিরুল গিয়াস জানান, ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পরই ট্রাকচালক পালিয়েছেন। তাকে আটকে অভিযান চলছে।

এদিকে খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালায় পুলিশ ও দমকল বাহিনী। উদ্ধার তৎপরতা কাজে সহায়তা করেন মেয়র মুজিবুর রহমান, সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক ঝিলংজা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম সাদ্দাম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক মারুফ আদনানের নেতৃত্বে নেতাকর্মীসহ স্থানীয়রা।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাদ্দাম হোসেন জানান, হঠাৎ করে ট্রাকটি তাদের পাশ ঘেষে ফুটপাতে তুলে দেয়। কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই মুহুর্তের মধ্যে ভেঙে তচনচ হয়ে যায় ২টি সিএনজি, ২টি ভাসমান দোকান ও ১টি টমটম।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ