০৭:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে সড়কে আগুন সন্ত্রাসে হকাররা, শক্ত অবস্থানে পুলিশ

নারায়ণগঞ্জ শহরে বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে বসার দাবিতে আগ্রাসী ভূমিকায় হকাররা। বঙ্গবন্ধু সড়ক, লিংক রোডে দফায় দফায় আগুন দিয়েছে হকাররা। টানা কয়েকদিন ফুটপাতে বসার দাবি নিয়ে বিক্ষোভ করলেও আজ  মঙ্গলবার (৯ মার্চ) বিকেলে বিক্ষোভে বাধা দেয় পুলিশ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের উপর হকাররা ইট-পাটকেল ছুড়ে চড়াও হলে সাংবাদিক, পুলিশ, হকারসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে হকার নেতা আসাদুজ্জামান আসাদকে আটক করেছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও সড়কে কিছুক্ষণ পরপর আগুন ধরিয়ে দেয় হকাররা। মঙ্গলবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত থেমে থেমে সড়কে আগুন দেয় হকাররা। এসময় তারা বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে।

সন্ধ্যা ৭টায় জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘ক’ অঞ্চল) মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী বলেন, ‘হকাররা শহরের বিভিন্ন জায়গায় রাস্তায় আগুন দিয়েছে, ইট-পাটকেল বিছিয়ে রাস্তায় যানচলাচল ব্যাহত করেছে। জেলা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে হস্তক্ষেপ করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে, যান চলাচলও শুরু হয়েছে। যারা এধরণের কর্মকা- করেছে তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এভাবে রাস্তায় কারা অরাজকতা তৈরি করেছে আমরা সেটি খুঁটিয়ে দেখছি। যারা আহত হয়েছে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছে। শীঘ্রই এঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

প্রত্যক্ষদর্শী ও শহরের বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে বসার দাবিতে গত তিনদিন টানা বিক্ষোভ করছিল হকাররা। গত ৭ মার্চ রাস্তায় আগুন দিয়ে বিক্ষোভ করে হকারা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আজ হকাররা ছিল সবচাইতে বেপরোয়া। মঙ্গলবার বিকেল থেকে দফায় দফায় সড়কে আগুন দেয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো শহরে। পুলিশের সাথে কথা বলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এসে বেপরোয়া হয়ে উঠে হকাররা। তারা বঙ্গবন্ধু সড়কের নানা জায়গায় আগুন দেয়, এবং রাস্তায় ইটপাটকেল বিছিয়ে রাখে। এসময় বেশ কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করে হকাররা। শহরের চাষাঢ়া, সাধু পৌলে গির্জা, গ্রীন্ডলেজ ব্যাংক মোড়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের চানমারীতে বিচ্ছিন্নভাবে সড়কে আগুন দেয় হকাররা। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

প্রসঙ্গত, গত দুই বছর ধরেই বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে বসতে মরিয়া হকাররা। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ৬৮২ জনের তালিকা তৈরি করে হকার্স মার্কেট করে দিলেও সেখানকার বেশিরভাগ দোকান বিক্রি করে দেন হকার নেতারা। বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে বসতে দেয়া হবেনা সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও পুলিশ প্রশাসন বারবার শক্ত অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে হকার বসাকে কেন্দ্র করে মেয়র আইভীসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

নারায়ণগঞ্জে সড়কে আগুন সন্ত্রাসে হকাররা, শক্ত অবস্থানে পুলিশ

প্রকাশিত : ০৮:৫৮:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ মার্চ ২০২১

নারায়ণগঞ্জ শহরে বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে বসার দাবিতে আগ্রাসী ভূমিকায় হকাররা। বঙ্গবন্ধু সড়ক, লিংক রোডে দফায় দফায় আগুন দিয়েছে হকাররা। টানা কয়েকদিন ফুটপাতে বসার দাবি নিয়ে বিক্ষোভ করলেও আজ  মঙ্গলবার (৯ মার্চ) বিকেলে বিক্ষোভে বাধা দেয় পুলিশ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের উপর হকাররা ইট-পাটকেল ছুড়ে চড়াও হলে সাংবাদিক, পুলিশ, হকারসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে হকার নেতা আসাদুজ্জামান আসাদকে আটক করেছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও সড়কে কিছুক্ষণ পরপর আগুন ধরিয়ে দেয় হকাররা। মঙ্গলবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত থেমে থেমে সড়কে আগুন দেয় হকাররা। এসময় তারা বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে।

সন্ধ্যা ৭টায় জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘ক’ অঞ্চল) মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী বলেন, ‘হকাররা শহরের বিভিন্ন জায়গায় রাস্তায় আগুন দিয়েছে, ইট-পাটকেল বিছিয়ে রাস্তায় যানচলাচল ব্যাহত করেছে। জেলা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে হস্তক্ষেপ করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে, যান চলাচলও শুরু হয়েছে। যারা এধরণের কর্মকা- করেছে তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এভাবে রাস্তায় কারা অরাজকতা তৈরি করেছে আমরা সেটি খুঁটিয়ে দেখছি। যারা আহত হয়েছে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছে। শীঘ্রই এঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

প্রত্যক্ষদর্শী ও শহরের বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে বসার দাবিতে গত তিনদিন টানা বিক্ষোভ করছিল হকাররা। গত ৭ মার্চ রাস্তায় আগুন দিয়ে বিক্ষোভ করে হকারা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আজ হকাররা ছিল সবচাইতে বেপরোয়া। মঙ্গলবার বিকেল থেকে দফায় দফায় সড়কে আগুন দেয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো শহরে। পুলিশের সাথে কথা বলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এসে বেপরোয়া হয়ে উঠে হকাররা। তারা বঙ্গবন্ধু সড়কের নানা জায়গায় আগুন দেয়, এবং রাস্তায় ইটপাটকেল বিছিয়ে রাখে। এসময় বেশ কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করে হকাররা। শহরের চাষাঢ়া, সাধু পৌলে গির্জা, গ্রীন্ডলেজ ব্যাংক মোড়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের চানমারীতে বিচ্ছিন্নভাবে সড়কে আগুন দেয় হকাররা। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

প্রসঙ্গত, গত দুই বছর ধরেই বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে বসতে মরিয়া হকাররা। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ৬৮২ জনের তালিকা তৈরি করে হকার্স মার্কেট করে দিলেও সেখানকার বেশিরভাগ দোকান বিক্রি করে দেন হকার নেতারা। বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে বসতে দেয়া হবেনা সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও পুলিশ প্রশাসন বারবার শক্ত অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে হকার বসাকে কেন্দ্র করে মেয়র আইভীসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ