জার্মানভিত্তিক বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পোরশে আশা করছে ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের মোট বিক্রির ৮০ ভাগ আসবে বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ি থেকে। পরিবেশবান্ধব গাড়ি উৎপাদনে জোর দেয়ার প্রচেষ্টাকে সামনে রেখেই এমন লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে জনপ্রিয় এ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।
শুক্রবার (১৯ মার্চ) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে পোরশের ভবিষ্যৎ ব্যবসা পরিকল্পনা তুলে ধরেন, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অলিভার ব্লুম।
তিনি বলেন, গতবছর সবার জন্যই চ্যালেঞ্জিং ছিল, তবে শেষ পর্যন্ত আমরা সৌভাগ্যবান যে পোরশের ১৫ শতাংশের মতো মুনাফা নিশ্চিত করা গেছে। যেখানে পরিচালন মুনাফা ৪০০ কোটি ইউরোর বেশি। এবং এ সফলতার বেশির ভাগ এসেছে নতুন উদ্ভাবনী পণ্য থেকে। আমরা যেভাবে দিনের পর দিন সংকট মোকাবিলা করেছি, ব্যয় পর্যালোচনা করেছি তারই ফল পাওয়া গেছে বছর শেষে ব্যবসার ইতিবাচক আর্থিক পরিস্থিতি ধরে রাখার মাধ্যমে।
পোরশে জার্মান গাড়ি নির্মাতা ফোক্সওয়াগনের একটি ইউনিট যা মূলত স্পোর্টসকারসহ বিলাসবহুল তৈরি করে। এটি চিলিতে সিমেন্স এনার্জিসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জ্বালানি ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত হয়েছে। যারা সিনথেটিক জ্বালানি বা ই-ফুয়েল তৈরিতে কাজ করছে।
এ ধরনের জ্বালানি ইঞ্জিনের মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থা পুড়ে যাতে বৈশ্বিক উষ্ণায়নে কোনো নেতিবাচক প্রভাব রাখে না বলে জানান পোরশে সিইও অলিভার ব্লুম।
এরই মধ্যে পোরশের আইকনিক স্পোর্টস কার ৯১১ মডেল এ ধরনের ইঞ্জিন ব্যবহার করছে। গাড়ির বাজারের ভবিষ্যৎ অনুমান করে এধরেন গাড়ি উৎপাদনকেই গুরুত্ব দিচ্ছে পোরশে।
ব্লুম আরও জানান, টেকসই উৎপাদন কৌশল যা আমার ২০১৬ সালে গ্রহণ করেছিলাম, তখন থেকেই আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি গবেষণায়। উপায় খুঁজেছি কীভাবে পরিবেশ রক্ষায় আমাদের দায়বদ্ধতা পালন করতে পারি। এর প্রথম পদক্ষেপ ছিল পোরশের কারখানাকে কার্বন নিরপেক্ষ (যেখানে নিট কার্বন নির্গমন শূন্যের কোটায়) অবস্থায় নিয়ে যাওয়া।
পুঁজিবাজারে মঙ্গলবার ফোক্সওয়াগনের শেয়ারে ৯ শতাংশ দর যোগ হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির বাজার মূল্য ১৫ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাণে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরার পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অটোমোবাইল কোম্পানিটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ অনেকটা বেড়েছে।
ইউরোপে অল্প সময়ের ব্যবধানে ৬টি ব্যাটারি কারখানা স্থাপনের পরদিনই প্রতিষ্ঠানটি জানায় তারা চলতি বছরই ইলেকট্রিক গাড়ির উৎপাদন দ্বিগুণ করতে চায়।
ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাণ ও সফটওয়্যার উন্নয়নের দিকে উৎপাদন ব্যবস্থায় এমন দ্রুত পরিবর্তনে কমপক্ষে এক হাজার কোটি ডলার খরচ হবে ফোক্সওয়াগনের। একটি সূত্র গত মাসে জানায় প্রতিষ্ঠানটি পোরশেকেও পুঁজিবাজারে তালিকভুক্ত করতে পারে অর্থ উত্তোলনের জন্য।
এর আগে ২০২০ সালে পোরশে তার প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক স্পোর্টস কার, টেকন, তিনটি মহাদেশে একসঙ্গে অনুষ্ঠিত এক দুর্দান্ত প্রিমিয়ারে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল। বার্লিনে ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারে অংশ নেওয়া, পোরশে এজি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অলিভার ব্লুম সে সময় বলেন : ‘টেকান আমাদের অতীত ঐতিহ্য এবং আমাদের ভবিষ্যতের মধ্যে একটি সেতু নির্মাণ করছে। এটি আমাদের ব্র্যান্ডের সাফল্যের গল্প বহন করে, যা গত ৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বজুড়ে মানুষকে উজ্জীবিত এবং মুগ্ধ করেছে।’





















