০৯:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

গরম বাতাসে ফসল নষ্ট

আর কিছুদিন পরেই ধান কাটার ধুম পড়ার কথা, সেই আশায় বুক বেধে আছেন কৃষকরা। ধানের মৌ মৌ গন্ধে কৃষকের আঙিনা ভরে উঠবে। সোনালী স্বপ্নে যখন বিভোর, ঠিক এমন সময় কাল বৈশাখী ঝড়ের সাথে গরম বাতাসে সোনালী স্বপ্ন ভেঙে গেছে কৃষকের। কিশোরগঞ্জের ভৈরবে কাল বৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে গরম বাতাসে ইরি-বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক। উপজেলা কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে ২ শত ৯০ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ সংখ্যা কাগজের সাথে ফসলের মাঠের কোনো মিল নেই। ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি বলে দাবি কৃষকদের। তবে তিন ইউনিয়নবেষ্টিত উপজেলার সবচেয়ে বড় হাওর জোয়ানশাহী হাওরে রয়েছে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমি।

আজ বুধবার সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, হাওরে থাকা ৫ হাজার হেক্টর জমিরই ৬ থেকে ৮ আনা ক্ষতি হয়েছে। মাইলের পর মাইল মাঠের পর মাঠ বিস্তীর্ণ হাওরের কমপক্ষে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে বলে ধারণা জোয়ানশাহীর অঞ্চলের এলাকাবাসীর। আর কিছুদিন পরেই ধান সোনালি রঙ ধারণের পর্যায়ে ছিল। এমন সময় সবুজ ধানের গাছ ধূসর হয়ে পড়ায় কৃষকের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। রবিবার সন্ধ্যা থেকে কয়েক ঘণ্টা ধরে বয়ে যায় কাল বৈশাখী ঝড়ের সাথে গরম বাতাস। এতে ফ্লাওয়ারিং স্টেজে থাকা বিআর-২৯ জাতের ধানসহ সকল প্রকার ইরি-বোরো ধানের ছড়া সাদা বিবর্ণ রঙ ধারণ করে ধানের ছড়া শুকিয়ে গেছে।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ধানের পরাগায়ণ পর্যায়ে ৩০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রায় ধানের পূর্ণতাপ্রাপ্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝড়ের সময় ৩৮ ডিগ্রির তাপমাত্রায় প্রচণ্ড বেগে বাতাস বয়ে যাওয়ায় এ উপজেলায় ধানের এই ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা। তবে কৃষি অফিস বলছে মাঠ পর্যায়ে ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে।

জাফরনগর গ্রামের মজনু মিয়া বলেন, রবিবার বিকালে সোনালী সবুজ রঙে দোল খাচ্ছিল ধান গাছগুলো। আহারে দেখতে কি দারুণ সুন্দর লাগছিল। আমি তিন দিন পর বুধবার জমিতে গিয়ে দেখি সব শেষ! একটি ঝড়ে সব লণ্ড-ভণ্ড হয়ে গেল জমির সব ধান।

ইসলাম পুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, করোনায় ১ বছর ধরে ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাভাব। এরই মধ্যে ধারদেনা করে ইরি-বোরো ধান রোপন করেছেন তিনি। কিন্তু বৈশাখী ঝড়ের সাথে গরম বাতাসে তাদের একমাত্র ফসল জমির সব ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কীভাবে সংসার চলবে এবং ধারদেনা পরিশোধ করবে এই দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন।

কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি বছর ভৈরবে ৬ হাজার ৬ শ ৬০ হেক্টর জমিতে ও ইউনিয়নের ২১টি ও পৌরসভার ১টি-সহ ২২টি ব্লকে ইরি-বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। গত রবিবারের ঝড়ে গরম বাতাসে ২শ ৯০ হেক্টর জমির ধানের ক্ষতি হয়েছে। তবে এ ক্ষতি আরো বাড়তে পারে। ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করতে আমরা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কাজ করছি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শহিদনগর এম. এ জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতিকে ফুলেল সংবর্ধনা

গরম বাতাসে ফসল নষ্ট

প্রকাশিত : ০৩:৫৪:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ এপ্রিল ২০২১

আর কিছুদিন পরেই ধান কাটার ধুম পড়ার কথা, সেই আশায় বুক বেধে আছেন কৃষকরা। ধানের মৌ মৌ গন্ধে কৃষকের আঙিনা ভরে উঠবে। সোনালী স্বপ্নে যখন বিভোর, ঠিক এমন সময় কাল বৈশাখী ঝড়ের সাথে গরম বাতাসে সোনালী স্বপ্ন ভেঙে গেছে কৃষকের। কিশোরগঞ্জের ভৈরবে কাল বৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে গরম বাতাসে ইরি-বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক। উপজেলা কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে ২ শত ৯০ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ সংখ্যা কাগজের সাথে ফসলের মাঠের কোনো মিল নেই। ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি বলে দাবি কৃষকদের। তবে তিন ইউনিয়নবেষ্টিত উপজেলার সবচেয়ে বড় হাওর জোয়ানশাহী হাওরে রয়েছে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমি।

আজ বুধবার সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, হাওরে থাকা ৫ হাজার হেক্টর জমিরই ৬ থেকে ৮ আনা ক্ষতি হয়েছে। মাইলের পর মাইল মাঠের পর মাঠ বিস্তীর্ণ হাওরের কমপক্ষে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে বলে ধারণা জোয়ানশাহীর অঞ্চলের এলাকাবাসীর। আর কিছুদিন পরেই ধান সোনালি রঙ ধারণের পর্যায়ে ছিল। এমন সময় সবুজ ধানের গাছ ধূসর হয়ে পড়ায় কৃষকের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। রবিবার সন্ধ্যা থেকে কয়েক ঘণ্টা ধরে বয়ে যায় কাল বৈশাখী ঝড়ের সাথে গরম বাতাস। এতে ফ্লাওয়ারিং স্টেজে থাকা বিআর-২৯ জাতের ধানসহ সকল প্রকার ইরি-বোরো ধানের ছড়া সাদা বিবর্ণ রঙ ধারণ করে ধানের ছড়া শুকিয়ে গেছে।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ধানের পরাগায়ণ পর্যায়ে ৩০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রায় ধানের পূর্ণতাপ্রাপ্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝড়ের সময় ৩৮ ডিগ্রির তাপমাত্রায় প্রচণ্ড বেগে বাতাস বয়ে যাওয়ায় এ উপজেলায় ধানের এই ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা। তবে কৃষি অফিস বলছে মাঠ পর্যায়ে ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে।

জাফরনগর গ্রামের মজনু মিয়া বলেন, রবিবার বিকালে সোনালী সবুজ রঙে দোল খাচ্ছিল ধান গাছগুলো। আহারে দেখতে কি দারুণ সুন্দর লাগছিল। আমি তিন দিন পর বুধবার জমিতে গিয়ে দেখি সব শেষ! একটি ঝড়ে সব লণ্ড-ভণ্ড হয়ে গেল জমির সব ধান।

ইসলাম পুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, করোনায় ১ বছর ধরে ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাভাব। এরই মধ্যে ধারদেনা করে ইরি-বোরো ধান রোপন করেছেন তিনি। কিন্তু বৈশাখী ঝড়ের সাথে গরম বাতাসে তাদের একমাত্র ফসল জমির সব ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কীভাবে সংসার চলবে এবং ধারদেনা পরিশোধ করবে এই দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন।

কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি বছর ভৈরবে ৬ হাজার ৬ শ ৬০ হেক্টর জমিতে ও ইউনিয়নের ২১টি ও পৌরসভার ১টি-সহ ২২টি ব্লকে ইরি-বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। গত রবিবারের ঝড়ে গরম বাতাসে ২শ ৯০ হেক্টর জমির ধানের ক্ষতি হয়েছে। তবে এ ক্ষতি আরো বাড়তে পারে। ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করতে আমরা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কাজ করছি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর