গ্রামীণ আর্থ সামাজিক উন্নয়নে সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভূমিকা ক্রমান্বয়ে প্রশংসনীয় হয়ে উঠেছে। জেলাকে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আনায় চলতি ইরি-বোরো আবাদ মৌসুমে জেলার ৭ উপজেলায় বৈদ্যুতিক সেচের আওতায় ১৯ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলায় ৭৬ হাজার ২শ ২০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। যার মধ্যে শতকরা ২৫ ভাগই সেচের আওতায় চাষাবাদ হওয়ায় আগামীতে স্বল্প খরচে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ধরে রেখে কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে সকলকে বৈদ্যুতিক সেচের আওতায় আনার জন্য কাজ করছে সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এ জেলার মোট সেচ গ্রাহক ৪ হাজার ৬শ ৭৭ জন। সেচ গ্রহীতাদের চুক্তিভিত্তিক লোড (চাহিদা) ছিল ২৯.৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। পিক ডিমান্ড থাকায় (চাহিদার অনুপাতে) বিদ্যুৎ ব্যবহার না হওয়ায় ২৩.৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতে মোট চাষাবাদের ২৫% সেচের আওতায় বাম্পার ফলন ফলিয়েছে কৃষকরা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাতক্ষীরা জেলার সাতক্ষীরা সদর, তালা ও কলারোয়া উপজেলায় সবচেয়ে বেশী সেচ গ্রাহক রয়েছে। উপজেলার সেচ গ্রাহকদের মধ্যে সদরে ১৯৭৯, তালা ১১৩০, কলারোয়া ৭২৯, দেবহাটা ১১০, আশাশুনি ২৯৫, কালীগঞ্জ ২৭২, শ্যামনগর ১৬২। জেলার তালা উপজেলার সুজনসাহা গ্রামের হরপ্রসাদ ঘোষ, কলারোয়ার সোনাবাড়িয়া গ্রামের জমির উদ্দীন গাজী, সাতক্ষীরা সদরের ঘোনা গ্রামের আমিনুল ইসলাম সহ কয়েকজন সেচ গ্রাহক এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, বিদ্যুৎচালিত সেচের আওতায় বোরো আবাদ অত্যন্ত লাভজনক একটি ফসল। অল্প খরচে নিরবিচ্ছিন্ন সেচ পাওয়ায় অনেকটাই উৎফুল্ল মনে চাষ শেষ করা যায়। এদিকে নতুন সেচ গ্রহীতারা জানিয়েছেন, বিগত সময়ে সেচ সংযোগ পেতে নানা বিড়ম্বনা থাকলেও বর্তমান আবেদন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করলেও যথাসময়ে সংযোগ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম তুষার আহম্মেদ জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয় থেকে সর্বোচ্চ নির্দেশনা সেচ গ্রাহকদের নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। আম্পানে সাতক্ষীরা জেলায় বিদ্যুতের পোল সহ লাইনের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি পুষিয়ে এখন মালামাল সংকটে অনেকটাই চ্যালেঞ্জিং ভাবে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করা হচ্ছে। লাভ নয়, লোকসান নয় গ্রাহকই সমিতির মালিক। সেকারণে গ্রাহকদের সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে সেবা প্রদানে আমরা বদ্ধপরিকর।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















