১০:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

ডিমলা থেকে লকডাউনেও চলছে দূরপাল্লার বাস

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে লকডাউন কে ভুরি আঙ্গুল দেখিয়ে,ডিমলা কোচ স্ট্যান্ড থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে প্রতিদিন ছেড়ে যাচ্ছে দূরপাল্লার বাস। যার ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার সাধারণ মানুষজন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকার নির্ধারিত ৬০% বেশি ভাড়ার থেকেও দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের কে। তাতে মানা হচ্ছে না বিন্দু পরিমাণ স্বাস্থ্যবিধি। সরকারের বেধে দেয়া গণপরিবহনে স্বল্প পরিষরে যাত্রী উঠানো ও দুই সিটের মূল্য নেওয়ার নির্দেশ থাকলেন অর্ধেক নয় অধিক মূল্যসহ পূর্ন যাত্রী নেওয়া হচ্ছে প্রতিটি গাড়ীতে। অভিযোগ আছে, অবাধে ঢাকা ঢুকতে রাস্তায় প্রশাসন কে দিতে হয় মোটা অঙ্কের ঘুষ। বিনিময়ে ডিমলা- ঢাকা ৪০০ কিলোমিটার রাস্তা নির্বিঘ্নেই চলছে দূরপাল্লার এসব পরিবহন। এ ব্যাপারে ডিমলার পরিবহন শ্রমিক,কাউন্টার কর্মচারী ড্রাইভারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, লকডাউন উপেক্ষা করে দূরপাল্লার বাস নিয়ে ঢাকায় যেতে রাস্তায় প্রশাসন কে ঘুষ দিতে হয় গাড়ি প্রতি ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

যাত্রীরা আক্ষেপ করে বলেন লকডাউনের আগে ডিমলা থেকে এসব পরিবহনে ঢাকা যেতে ভাড়া লাগতে ৪শত টাকা, এখন নামসর্বস্ব লকডাউনের সুযোগে প্রতিটি সিট বাবদ ভাড়া গুনতে হয় ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত।

উল্লেখ্য যে, নোভেল করোনা ভাইরাস কোভিট-১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে সরকার গত ৫ এপ্রিল থেকে সারাদেশে লকডাউন ঘোষণার সাথে জরুরি সেবা ব্যতীত দূরপাল্লার সকল পরিবহন বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

কিন্তু লকডাউন অমান্য করে ডিমলা কোচস্টান্ড থেকে ৫ এপ্রিল রাতেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় তিনটি যাত্রীবাহী দূরপাল্লার বাস। পরবর্তীতে নাবিল, হানিফ ও এনা পরিবহন ছাড়া সব দূরপাল্লার বাস নিয়মিত ঢাকা যাতায়াত করছে নির্বিঘ্নেই,বিনিময়ে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের ঘুষের টাকা।

ডিমলা নাবিল কোচের কাউন্টার ম্যানেজার বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে যাত্রী পরিবহন বন্ধ রেখেছি। কিন্তু অন্যান্য দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহন বাসগুলো রাস্তায় বিভিন্ন স্তরে প্রশাসন কে মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ দিয়ে দেশের এই প্রান্ত থেকে ঐ প্রান্তে অর্থাৎ বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা যাচ্ছে। এ যেন এক দেশে দুই নীতি চলছে, সর্বপরি দেশে আইনের সঠিক প্রয়োগ নেই। এর সুষ্ঠ তদন্ত ও প্রতিকারের দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে ডিমলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হাবিবুর রহমান খান লোহানী বলেন, আমি নিজেও হতবাক ও চিন্তিত! সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কি করে এসব দূরপাল্লার বাস রাস্তায় চলাচল করছে, প্রশাসন কিভাবে নিরব ভূমিকা পালন করছে? এ ব্যাপারে তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, প্রশাসন যদি সঠিক ভূমিকা পালন করে তাহলে কোনো গাড়ি রাস্তায় চলতে পারবে না।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়শ্রী রানী রায়ের নিকট জানতে চাইলে তিনি দ্রুত ব্যাবস্থা গ্রহনের আশ্বাস প্রদান করেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ইসরায়েলি বর্বরোচিত হামলায় দুই শিশুসহ ‘গর্ভবতী’ মা নিহত

ডিমলা থেকে লকডাউনেও চলছে দূরপাল্লার বাস

প্রকাশিত : ০৭:৩৭:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে লকডাউন কে ভুরি আঙ্গুল দেখিয়ে,ডিমলা কোচ স্ট্যান্ড থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে প্রতিদিন ছেড়ে যাচ্ছে দূরপাল্লার বাস। যার ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার সাধারণ মানুষজন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকার নির্ধারিত ৬০% বেশি ভাড়ার থেকেও দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের কে। তাতে মানা হচ্ছে না বিন্দু পরিমাণ স্বাস্থ্যবিধি। সরকারের বেধে দেয়া গণপরিবহনে স্বল্প পরিষরে যাত্রী উঠানো ও দুই সিটের মূল্য নেওয়ার নির্দেশ থাকলেন অর্ধেক নয় অধিক মূল্যসহ পূর্ন যাত্রী নেওয়া হচ্ছে প্রতিটি গাড়ীতে। অভিযোগ আছে, অবাধে ঢাকা ঢুকতে রাস্তায় প্রশাসন কে দিতে হয় মোটা অঙ্কের ঘুষ। বিনিময়ে ডিমলা- ঢাকা ৪০০ কিলোমিটার রাস্তা নির্বিঘ্নেই চলছে দূরপাল্লার এসব পরিবহন। এ ব্যাপারে ডিমলার পরিবহন শ্রমিক,কাউন্টার কর্মচারী ড্রাইভারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, লকডাউন উপেক্ষা করে দূরপাল্লার বাস নিয়ে ঢাকায় যেতে রাস্তায় প্রশাসন কে ঘুষ দিতে হয় গাড়ি প্রতি ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

যাত্রীরা আক্ষেপ করে বলেন লকডাউনের আগে ডিমলা থেকে এসব পরিবহনে ঢাকা যেতে ভাড়া লাগতে ৪শত টাকা, এখন নামসর্বস্ব লকডাউনের সুযোগে প্রতিটি সিট বাবদ ভাড়া গুনতে হয় ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত।

উল্লেখ্য যে, নোভেল করোনা ভাইরাস কোভিট-১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে সরকার গত ৫ এপ্রিল থেকে সারাদেশে লকডাউন ঘোষণার সাথে জরুরি সেবা ব্যতীত দূরপাল্লার সকল পরিবহন বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

কিন্তু লকডাউন অমান্য করে ডিমলা কোচস্টান্ড থেকে ৫ এপ্রিল রাতেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় তিনটি যাত্রীবাহী দূরপাল্লার বাস। পরবর্তীতে নাবিল, হানিফ ও এনা পরিবহন ছাড়া সব দূরপাল্লার বাস নিয়মিত ঢাকা যাতায়াত করছে নির্বিঘ্নেই,বিনিময়ে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের ঘুষের টাকা।

ডিমলা নাবিল কোচের কাউন্টার ম্যানেজার বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে যাত্রী পরিবহন বন্ধ রেখেছি। কিন্তু অন্যান্য দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহন বাসগুলো রাস্তায় বিভিন্ন স্তরে প্রশাসন কে মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ দিয়ে দেশের এই প্রান্ত থেকে ঐ প্রান্তে অর্থাৎ বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা যাচ্ছে। এ যেন এক দেশে দুই নীতি চলছে, সর্বপরি দেশে আইনের সঠিক প্রয়োগ নেই। এর সুষ্ঠ তদন্ত ও প্রতিকারের দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে ডিমলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হাবিবুর রহমান খান লোহানী বলেন, আমি নিজেও হতবাক ও চিন্তিত! সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কি করে এসব দূরপাল্লার বাস রাস্তায় চলাচল করছে, প্রশাসন কিভাবে নিরব ভূমিকা পালন করছে? এ ব্যাপারে তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, প্রশাসন যদি সঠিক ভূমিকা পালন করে তাহলে কোনো গাড়ি রাস্তায় চলতে পারবে না।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়শ্রী রানী রায়ের নিকট জানতে চাইলে তিনি দ্রুত ব্যাবস্থা গ্রহনের আশ্বাস প্রদান করেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ