০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

ভুপেন্দ্রকে মেডিকেলে ভর্তির জন্য ২০ হাজার টাকা দিলেন উপজেলা প্রশাসন

ডিমলায় অসচ্ছল-গরীব এক মেধাবী শিক্ষার্থী মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য নগদ ২০ হাজার টাকা উপহার দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।

চলতি বছর এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে বাদাম বিক্রেতার ছেলে ভুপেন্দ্র অধিকারী। কিন্তু অর্থাভাবে তার মেডিকেল কলেজে ভর্তিতে দেখা দিয়েছিল চরম অনিশ্চয়তা। মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার মতো কোনো টাকা-পয়সা নেই তার পরিবারের। এমতাবস্থায় এ বিষয়টি গণমাধ্যম ও সোশাল মিডিয়া (ফেসবুক) মাধ্যমে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়শ্রী রানী রায়ের দৃষ্টিগোচর হওয়ায় তিনি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভুপেন্দ্রের মেডিকেলে ভর্তির জন্য ১৫-এপ্রিল/২০২১ ইং বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে ভুপেন্দ্র অধিকারী ও তার বাবার হাতে নগর ২০ হাজার টাকার একটি প্যাকেট প্রদান করা হয়৷

জানা যায়, ভুপেন্দ্র নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের দিঘির পাড় নামক গ্রামের মতিলাল অধিকারী ও বাসন্তী অধিকারীর সাত সন্তানের মধ্যে পঞ্চম সন্তান। ভুপেন্দ্র ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। তার বড় দুই ভাই রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। ভুপেন্দ্রর বাবা মতিলাল অধিকারী একজন বাদাম বিক্রেতা এবং মা গৃহিণী। দীর্ঘদিন ধরে তার বাবা বাদাম বিক্রি করে ভূপেন্দ্রর পড়াশোনার খরচ চালিয়েছেন। এখন বয়স হওয়ায় বাদামের ব্যবসা করার সক্ষমতাও তার আর নেই।

পরে এ বিষয়টি গণমাধ্যম ও ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়শ্রী রানী রায়ের নজরে আসে। এরপর তিনি ইউপি চেয়ারম্যান এর মাধ্যমে ভুপেন্দ্র ও পরিবারের সাথে কথা বলে তার মেডিকেলে ভর্তির ফি প্রদানের কথা বলেন।

এসময় নির্বাহী কর্মকর্তা ভুপেন্দ্রের বাবা মতিলাল অধিকারীকে বলেন, আপনাদের অনেক কষ্টের বিনিময়ে আপনাদের ছেলে মেডিকেল চান্স পেয়েছে। এজন্য আপনাদের অভিনন্দন এবং শ্রদ্ধা জানাই। আপনারা ভাববেন না, ওর মেডিকেলে ভর্তির যাবতীয় দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমি নিলাম। শুধু তাকে নিয়মিত পড়াশোনাটা করতে বলবেন। ভুপেন্দ্রের মা বাসন্তী অধিকারীকে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সমস্যা এটা কোন সমস্যাই না। ডিমলা উপজেলা প্রশাসন তার সাথে আছে। সে পড়াশোনা করে আপনাদের স্বপ্ন পূরণ করবে এবং দেশের মানুষের জন্য কাজ করবে এটাই আমি চাই।

ভুপেন্দ্রে অধিকারী এসময় মেডিকেল কলেজে ভর্তির নির্ধারীত ফি ২০ হাজার টাকা অনুদান হিসেবে পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে চিরকৃতজ্ঞতার কথা জানান। সেসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ভর্তির বিষয়ে যদি আরও অর্থের প্রয়োজন হয় তাহলে সে ব্যবস্থাও করা হবে। তিনি ভুপেন্দ্রকে বলেন, নিয়মিত পড়াশোনা করে মা -বাবার স্বপ্ন পূরণের জন্য তোমাকে এগিয়ে যেতে হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ইসরায়েলি বর্বরোচিত হামলায় দুই শিশুসহ ‘গর্ভবতী’ মা নিহত

ভুপেন্দ্রকে মেডিকেলে ভর্তির জন্য ২০ হাজার টাকা দিলেন উপজেলা প্রশাসন

প্রকাশিত : ০৯:০১:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১

ডিমলায় অসচ্ছল-গরীব এক মেধাবী শিক্ষার্থী মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য নগদ ২০ হাজার টাকা উপহার দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।

চলতি বছর এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে বাদাম বিক্রেতার ছেলে ভুপেন্দ্র অধিকারী। কিন্তু অর্থাভাবে তার মেডিকেল কলেজে ভর্তিতে দেখা দিয়েছিল চরম অনিশ্চয়তা। মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার মতো কোনো টাকা-পয়সা নেই তার পরিবারের। এমতাবস্থায় এ বিষয়টি গণমাধ্যম ও সোশাল মিডিয়া (ফেসবুক) মাধ্যমে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়শ্রী রানী রায়ের দৃষ্টিগোচর হওয়ায় তিনি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভুপেন্দ্রের মেডিকেলে ভর্তির জন্য ১৫-এপ্রিল/২০২১ ইং বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে ভুপেন্দ্র অধিকারী ও তার বাবার হাতে নগর ২০ হাজার টাকার একটি প্যাকেট প্রদান করা হয়৷

জানা যায়, ভুপেন্দ্র নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের দিঘির পাড় নামক গ্রামের মতিলাল অধিকারী ও বাসন্তী অধিকারীর সাত সন্তানের মধ্যে পঞ্চম সন্তান। ভুপেন্দ্র ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। তার বড় দুই ভাই রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। ভুপেন্দ্রর বাবা মতিলাল অধিকারী একজন বাদাম বিক্রেতা এবং মা গৃহিণী। দীর্ঘদিন ধরে তার বাবা বাদাম বিক্রি করে ভূপেন্দ্রর পড়াশোনার খরচ চালিয়েছেন। এখন বয়স হওয়ায় বাদামের ব্যবসা করার সক্ষমতাও তার আর নেই।

পরে এ বিষয়টি গণমাধ্যম ও ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়শ্রী রানী রায়ের নজরে আসে। এরপর তিনি ইউপি চেয়ারম্যান এর মাধ্যমে ভুপেন্দ্র ও পরিবারের সাথে কথা বলে তার মেডিকেলে ভর্তির ফি প্রদানের কথা বলেন।

এসময় নির্বাহী কর্মকর্তা ভুপেন্দ্রের বাবা মতিলাল অধিকারীকে বলেন, আপনাদের অনেক কষ্টের বিনিময়ে আপনাদের ছেলে মেডিকেল চান্স পেয়েছে। এজন্য আপনাদের অভিনন্দন এবং শ্রদ্ধা জানাই। আপনারা ভাববেন না, ওর মেডিকেলে ভর্তির যাবতীয় দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমি নিলাম। শুধু তাকে নিয়মিত পড়াশোনাটা করতে বলবেন। ভুপেন্দ্রের মা বাসন্তী অধিকারীকে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সমস্যা এটা কোন সমস্যাই না। ডিমলা উপজেলা প্রশাসন তার সাথে আছে। সে পড়াশোনা করে আপনাদের স্বপ্ন পূরণ করবে এবং দেশের মানুষের জন্য কাজ করবে এটাই আমি চাই।

ভুপেন্দ্রে অধিকারী এসময় মেডিকেল কলেজে ভর্তির নির্ধারীত ফি ২০ হাজার টাকা অনুদান হিসেবে পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে চিরকৃতজ্ঞতার কথা জানান। সেসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ভর্তির বিষয়ে যদি আরও অর্থের প্রয়োজন হয় তাহলে সে ব্যবস্থাও করা হবে। তিনি ভুপেন্দ্রকে বলেন, নিয়মিত পড়াশোনা করে মা -বাবার স্বপ্ন পূরণের জন্য তোমাকে এগিয়ে যেতে হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ