স্বামী বলাই মিয়া মারা গেছেন ৪৫ বছর আগে। জীবদ্দশায় মাত্র দশ শতক জমিতে রেখে যায় একটি কুড়েঘর। আর সেই কুড়েঘর বসবাস করে জীবন যুুদ্ধের মাঠ হারমানলন বলাই মিয়ার স্ত্রী সামসুনেছা(৭৫) ।তিনি নারায়ণগঞ্জের রপগঞ্জর দাউদপুর দুয়ারা গ্রামের বাসিন্দা । নেই ভালা থাকায় ঘর । নেই পানির ব্যবস্থাও। আবার নেই তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা । এমন নানা সমস্যা ও অভাব নিয় ১ শ্রবণ প্রতিবন্ধী মেয়েসহ মানবেতর দিন কাটাছিলেন তিনি । তবে বিষয়টি নজর কাড়ল ওই বৃদ্ধার পাশে দাড়িয়ে অভাব মোচনের চেষ্টা করলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুল ইসলাম খোকন।
কথা হয় দাউদপুর ইউনিয়নের দুয়ারা গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধা সামসুন নেছার প্রতিবেশী গৃহীনি রেহানার সঙ্গে । তিনি জানান, সামসুন নেছার বড় মেয়ে আজিদা শ্রাবণ প্রতিবন্ধী। তার বিয়ে হয় পাশের গ্রামের আগলায়। আবার আজিদার স্বামী নুরু মিয়াও মারা যায়। আজিদার কান্না না থাকায় স্বামীর বাড়িতে আশ্রয় মেলেনি। আর অন্য মেয়েদের বিয়ে দিলেও দরিদ্রতার কারনে মায়ের খোজ রাখতে পারেন না তারা। এতে সামসুনছার আরা অসহায় হয়ে পড়েন। এর পর জীবন যুদ্ধে হারমানতে যায় গ্রামের আট দশ জনের সহায়তা নিতে বাধ্য হন। পাশের লোকজন যা যার মতো সহযোগীতা করতেন তাই খেতেন। এতোদিন কুড়েঘরটিও ভেঙ্গে যায়। টিনগুলা মরিচা পড়ে যায়। ব্যবহার্য্য পানি বলত পাশের খাল এক সময় ছিল অবলোম্বন তার। সময়ের ব্যবধানে সেই খালের পানি নষ্ট হলে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে যেতে হতো ।
দুয়ারার বাসিন্দা সেলিম মিয়া বলেন, গ্রামের সবাই যখন যার যার টিউবওয়েল ও নিজের পানি দিয়ে গোসল সাড়েন, আর ওই বৃদ্ধা ও তার মেয়ে আজিদা গোসলের জন্য ১ কিলামিটার হেটে নদীতে যান। এ দৃশ্য হৃদয়বিদারক হলেও কারা সহযাগী পায়নি সে । তবে সম্প্রতি খাবার পানি যোগার করতেন একই গ্রামের বাসিন্দা নারায়ণগঞ্জ জলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুল ইসলাম খোকনের বাড়ি থেকে । আর তাই বৃদ্ধার অসহায়ত্বর বিষয়টা ছাত্রলীগ নেতা খোকনের নজরে আসে । তিনি ওই মহিলার যাবতীয় খরচাদির দায়ভার গ্রহণ করেন। পানির অভাবে দূর করতে নিজের অর্থায়ন ৪৫ হাজার টাকা খরচ করে একটি সাবমারসিবল পাম্প বসিয়ে দেন বৃদ্ধার উঠানে । ওই ওঠানের জমি বৃদ্ধার নয় দাবী করে পাশর বাড়ির লোকজন বাধা দিলে তাও সমাধা করে দেন তিনি।
এসব বিষয়ে কথা হলে বৃদ্ধা সামসুননেছা বলেন, “যেয় আমার পানির ব্যবস্থা করেছে, আল্লাহয় তার আতা ঠান্ডা করবা। এ সময় তিনি আরা বলেন,সরকার আমার বয়স্ক ভাতা যা দেয় তা দিয়ে জীবন চলে না। হুনতেছি কত মাইনসেরে সরকারী ঘর দিচ্ছে, আমার কি চোখে পড়ি না? ইদানিং আমগো খোকন নেতায় কইছে আমার ঘরের ব্যবস্থাও কইরা দিবো।
এসব বিষয় নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুল ইসলাম খোকন বলেন, দুয়ারা গ্রামের সামসুননেছা ছাড়াও আশপাশের দরিদ্র ও প্রতিবন্ধি লোকদের পাশে আমার সাধ্যমতো দাড়িয়েছি। সম্প্রতি করোনা মহামারীর লকডাউনে পরিস্তিতি নিন্ম আয়ের ৩শতাধিক মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রি বিতরণ করেছি। গতবছরও ছিলাম। এভাবে সকল নেতা কর্মীরা যদি যার যার পাশের অসহায় মানুষের খেয়াল রাখে তবেই সবাই মিলে হাসি খুশি থাকা সম্ভব।
এ বিষয় দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জাহাঙ্গির মাষ্টার বলেন, ছাত্রলীগ নেতা খোকন ওই বৃদ্ধার পাশে দাড়িয়েছে এমন খবরে আমরা খুব খুশি হয়েছি। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকেও ওই বৃদ্ধার জন্য আরা সহায়তা দেয়ার চেষ্টা করবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















