টঙ্গীতে অপহরণের নাটক সাজিয়ে ব্যবসায়ী নাদিম হায়দারকে মিথ্যা মামলা দিয়ে গতকাল শুক্রবার রাতে গ্রেফতার করার অভিযোগ করেছে পরিবার। অপরদিকে অপহৃত আব্দুল জলিল ও তার স্ত্রী মাসুদা বেগম জানায় এব্যাপারে নাদিম হায়দার জড়িত নয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আব্দুল জলিল ও তার পরিবার মাসুদা বেগমের বক্তব্য নিয়ে চলছে নানা গুনজন। অপহৃত আব্দুল জলিল জানায়, গত ১৪ এপ্রিল সকাল বেলা মামুন স্যারের বাসায় দেখা করে সাইডে কাজে যাওয়ার পথে বালুর মাঠ একটি মোটরসাইকেলে দুইজন লোক এসে বলে মামুন স্যার বলছে অন্য একটা কাজের সাইড দেখিয়ে নিয়ে আসার জন্য। আমি তাদের কথা বিশ্বাস করে মামুন স্যারের কথা বলাতে মোটরসাইকেলে উঠে বসি। এক পর্যায় তারা আমাকে জোরপূর্বক অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে হাত, পা বেধে আমাকে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবী করে। এমনকি তাদের হাতে থাকা চাইনিজ কুড়াল ও চাপাতি দিয়া কুচি কুচি করে কেটে মেরে ফেলার ভয় দেখায়। এক পর্যায় আমাকে ঢাকা বিমানবন্দর এলাকায় হাত, পা বাধা অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। কোন এক সময় পথচারীরা আমার বাধন খুলে দেয়। এরপর আমি পায়ে হেঁটে বাড়িতে এসে পৌঁছাই।
এমনটাই গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদেরকে জানালেন অপহরণ হওয়া রাজমিস্ত্রি আব্দুল জলিল। অপহরণ করে পরিবারের কাছে টাকা দাবী করেছে কি না এ বিষয় কোন সুউত্তর দিতে পারেননি। অপরদিকে আব্দুল জলিলের স্ত্রী মাসুদা বেগম ১৪ এপ্রিল টঙ্গী পশ্চিম থানায় অপহরণমর্মে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে স্থানীয় ঠিকাদার নাদিম এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী নাদিম হায়দারকে দায়ী করেন। এ বিষয়ে আব্দুল জলিল এর স্ত্রী মাসুদা বেগম গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, মামুন স্যার আমাদেরকে বলেছে অভিযোগ করতে। তার কথা মোতাবেক অভিযোগ করেছি। অপহরণকৃত আব্দুল জলিল জানান, নাদিম এন্টারপ্রাইজের সাথে আমার কোন ধরনের শত্রুতা নেই। এমনকি এ ধরনের ঘটনা তাদের দ্বারা কোন ভাবেই সম্ভব নয়। বিষয়টি আসলে কি অপহরণ, নাকি অপহণের নাটক সাজিয়ে একটি মহলকে দোষি সাব্যস্ত করে হয়রানি করার অপচেষ্টা। এ ঘটনায় নাদিম এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী ও সকল কর্মচারীদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দাবী ঘটনার সুস্থ্য তদন্ত করে আসল রহস্য উন্মোচন করার দাবী জানান। কিন্তু তা না করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে নাদিম হায়দার তার মানহানী হয়েছে এই পরিপ্রেক্ষিতে টঙ্গী পশ্চিম থানায় গত ১৬ এপ্রিল রাতে একটি সাধারণ ডায়েরী করতে গেলে উল্টো পুলিশ তাকে আটক করে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন যদি নাদিম হায়দার কন্টাকটার আব্দুল জলিলকে অপহরণ করতো তাহলে সে পুলিশের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও থানায় অভিযোগ করতে যাইতো না।
কিন্তু নাদিম হায়দারের জিডি না নিয়ে তাকে অপহরণ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কোর্টে প্রেরণ করেন টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ। এব্যাপারে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক রবিন আহম্মেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নাদিম হায়দারকে ব্যবসায়ীকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তিরা উঠেপড়ে লেগেছে। তাকে ব্যবসায়ীক ভাবে হেয়পতিপন্ন করতে না পেরে ইষান্বিত ও পরিকল্পিত ভাবে অপহরণ নাটক সাজিয়ে তাকে গ্রেফতার করে হেয়পতিপন্ন ও ব্যবসায়ীকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার পায়তারা চলছে। নাদিম হায়দার তার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩শ’ লোকের কর্মসংস্থান করেছে। কিন্তু তা কিছু মানুষের প্রতিহিংশা স্বরূপ। তাই সুকৌশলে তাকে গায়েল করার জন্য কিছু লোক উঠেপড়ে লেগেছে। এব্যাপারে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অপহরণের অভিযোগ পেয়েছি। কিন্তু অপহরণকারী উদ্ধার হয়ে বাসায় ফিরে আসলেও থানায় অবগত করেনি। থানায় অবগত না করার কারণে অভিযোগকারীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা নাদিম এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাদিম হায়দারকে গ্রেফতার করেছি। এছাড়াও নাদিম হায়দারের বিরুদ্ধে আত্মীয়ের মাঝে বিরোধ রয়েছে। এটা আমাদের দেখার বিষয় না। আমরা অভিযোগকারীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেফতার করেছি। বিজ্ঞ মহল মনে করছেন এই ধরনের স্পর্শকাতর বিষয় অধিকতর তদন্ত প্রয়োজন। অপহৃত ব্যক্তি উদ্ধার হয়ে এলেও এ ধরনের মিথ্যা মামলা রুজু করা দু:খজনক। প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ সৃষ্ট ঘটনা সুষ্ঠু সমাধানে এগিয়ে আসবেন বলে প্রত্যাশা করছেন।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ






















