প্রথমবারের মতো অসময়ে গোল্ডেন ক্রাউন ও ব্ল্যাক বক্স জাতের তরমুজ চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের ছাতির বাজার এলাকার আব্দুল হামিদ। নতুন জাতের এ তরমুজ চাষ করে তিনি আর্থিকভাবে হয়েছেন স্বাবলম্বী।
বাণিজ্যিকভাবে সফলতা পেয়েছে ‘গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ’। আর এ কারণে উৎপাদনে উৎসাহিত হচ্ছেন আরো অনেকে। স্বাদ, লাভ বেশি আর অসময়ে ফলনের কারণে কৃষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এ ফসল।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার মধ্য টেপিরবাড়ী গ্রামের ৩৫ শতাংশ জমিতে ঝুলছে দুই থেকে তিন কেজি ওজনের কালো ও হলুদাভ তরমুজগুলো। চারদিকে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও মাটিতে খড়ের বিছানা বিছিয়ে তিনি মাচায় ঝুলিয়ে চাষ করেছেন এ তরমুজ। তরমুজকে কীটনাশকমুক্ত এবং সম্পূর্ণ অর্গানিক রাখতে তিনি নেটের ব্যাগে ঝুলিয়ে দিয়েছেন। ফলে খেতে তার এ তরমুজের আকৃষ্টতাও বেড়েছে। ঝুলিয়ে থাকার ফলে পানিতে নষ্ট হওয়ার ভয়ও নেই।
আব্দুল হামিদ জানান, বীজ রোপণের ৩০ দিনের মধ্যে গাছ মাচায় উঠে যায়। ৩৫ দিনের মধ্যে গাছে প্রচুর ফুল ও কুড়ি আসে। তরমুজের বাইরের রঙ হলুদ হলেও ভেতরটা লাল। স্বাদে অন্যান্য জাতের তরমুজের মতোই লাগে। গাছ লাগানোর ৪০ থেকে ৫০ দিনের মধ্যেই ফল বিক্রি করা যায়। এ তরমুজ যদি মাচায় চাষ করা যায়, তাহলে এখান থেকে বেশি ফলন পাওয়া যায়।
তিনি আরও জানান, ইউটিউবে ভিডিও দেখে তিনি এ চাষে আগ্রহী হন। পরে স্থানীয় কৃষি অফিসের সাথে যোগাযোগ করে কৃষির নিয়ম কানুন রপ্ত করেন। পরে চুয়াডাঙ্গা থেকে দুই হাজার বীজ এনে গত মার্চ মাসে এক বিঘা জমিতে রোপণ করা হয়েছে। গত বছর এই তরমুজ বিক্রি করে ৬০ হাজার টাকা লাভ হয়েছিল। বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি ৮০ টাকা দরে এই তরমুজ বিক্রি হচ্ছে। এই বছরে কৃষক হামিদ বেবি তরমুজের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছেন দুই লাখ টাকা।
গাজীপুর কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচারলক মাহবুব আলম বলেন, ‘গাজীপুরের দুটি উপজেলায় এখন পর্যন্ত তরমুজের চাষ হচ্ছে। কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে নানা ধরনের কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিষমুক্ত এই ফল স্থানীয়ভাবে ভালো দামও পাওয়া যাচ্ছে। লাভজনক বিবেচনায় অনেক কৃষকের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আমাদের আশা কৃষি অর্থনীতিতে এর একটি ছোঁয়া লাগবে।’
বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান মাসুদ




















