০১:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সরকারি ঘর নির্মাণ কাজে বাঁধা, ৩ জনকে কারাদণ্ড

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় মুজিব শতবর্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে গৃহায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক উদ্যোগ গৃহনির্মাণ কাজে বাঁধা দেয়ার ঘটনায় ৩ জনকে আটক করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত। পরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আটককৃতদের ৩ মাস করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ মে) দুপুরে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শেখ মহি উদ্দিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এ কারাদণ্ড দেন।

দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন-উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের দীঘিরপাড় গ্রামের মৃত তোয়াজ উল্লার ছেলে আহমদ আবুল কালাম (৪৪), তার ভাই আলেক মিয়া (৫৫) ও ভাতিজা সাজন আহমদ (২৫)। তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।

জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে ১১০টি গৃহের মধ্যে অধিকাংশ ঘরের কাজ প্রায় শেষ। এর মধ্যে ইনাতগঞ্জ বাজার সংলগ্ন দীঘিরপাড় এলাকায় সরকারের খাস খতিয়ানের ২২.৭১ শতক ভূমির মধ্যে ৮ জন ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মাঝে ১৬ শতক ভূমি বন্দোবস্ত দিয়ে ৮টি গৃহ নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করে উপজেলা প্রশাসন। নির্মাণ কাজ চলাকালে আহমদ আবুল কালাম আজাদ নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি ভূমি তার নামে বন্দোবস্ত দাবী করে নির্মাণ কাজে বাঁধা দেন।

এরপর সহকারী কমিশনার ভূমি সুমাইয়া মুমিন তাকে একাধিকবার নোটিশ করলে সে উপযুক্ত কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়। চলতি বছরের ২০ জানুয়ারী হবিগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে আহমদ আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে আদালত নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিলে ইনাগঞ্জের ৮টি ঘরের শেষ পর্যায়ের কাজ আটকা পড়ে। এতে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে ওই ৮টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার। ফলে কপাল ভাঙ্গে ভূমিহীন ও গৃহহীন ৮টি পরিবারের। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আবুল কালাম আজাদ বন্ধ থাকা নির্মাণাধীন গৃহের মালামাল ইট, বালু, দরঝা, জানালাসহ বিভিন্ন সামগ্রী তার ব্যক্তি ঘর নির্মাণ কাজে ব্যবহার করে। এদিকে আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ ব্যাপারে আদালতে তাঁর জবাব প্রদান করেন।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে ২৬ মে দৈনিক বিজনেস বাংলাদেশ এবং স্থানীয় কয়েকটি লোকাল পত্রিকায় ফলাও করে বিস্তারিত সংবাদ প্রকাশিত হয়। গত মঙ্গলবার (২৫ মে) মামলার নির্ধারিত ধার্য্য তারিখে ভার্চ্যুয়াল কোর্ট পরিচালনা করে হবিগঞ্জ সহকারী জজ (নবী) আদালতের বিজ্ঞ বিচারক অভিজিৎ চৌধুরী আবুল কালামের দায়েরী মামলা খারিজ করে দেন।

ফলে বুধবার (২৬ মে) সকালে বন্ধ থাকা প্রধানমন্ত্রীর মানবিক উদ্যোগ গৃহ নির্মাণ কাজ পুনরায় শুরু করতে সেখানে যায় শ্রমিকরা। তখন অবৈধ দখলদার আহমদ আবুল কালাম আজাদ তার লোকজন নিয়ে শ্রমিকদের কাজের নির্মাণ সামগ্রী নামাতে বাঁধা দেয় ও লাটিসোটা নিয়ে মারমুখী আচরণ করে । খবর পেয়ে তাৎক্ষনিকভাবে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শেখ মহি উদ্দিন নবীগঞ্জ থানার একদল পুলিশ সহকারে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবৈধ দখলদার আহমদ আবুল কালামসহ ৩ জনকে আটক করেন। এ সময় আবুল কালাম আজাদের ঘর থেকে সরকারী কাজের কিছু মালামাল উদ্ধার করে জব্দ করেন নির্বাহী অফিসার। পরে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শেখ মহি উদ্দিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ১৮৬ ধারায় সরকারি কাজে বাঁধা প্রদান ও আক্রমণের দায়ে প্রত্যেককে ৩ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শেখ মহি উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রকল্পের নির্মিত ঘরের মালামাল চুরি করে আবুল কালাম আজাদ, তার ব্যক্তিগত ঘরের কাজে সরকারি মালামাল ব্যবহার করার বিষয়ে নিয়মিত মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে ঘর নির্মান কাজ চলমান রয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মাঝে ভূমিহীনদের মাঝে ঘর সমঝিয়ে দিতে পারবো।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :

ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী তপু রায়হানের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় দায়িত্ববোধ, উত্তরাধিকার ও নাগরিক প্রত্যাশার রাজনীতি

সরকারি ঘর নির্মাণ কাজে বাঁধা, ৩ জনকে কারাদণ্ড

প্রকাশিত : ০৯:১৭:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ মে ২০২১

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় মুজিব শতবর্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে গৃহায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক উদ্যোগ গৃহনির্মাণ কাজে বাঁধা দেয়ার ঘটনায় ৩ জনকে আটক করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত। পরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আটককৃতদের ৩ মাস করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ মে) দুপুরে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শেখ মহি উদ্দিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এ কারাদণ্ড দেন।

দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন-উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের দীঘিরপাড় গ্রামের মৃত তোয়াজ উল্লার ছেলে আহমদ আবুল কালাম (৪৪), তার ভাই আলেক মিয়া (৫৫) ও ভাতিজা সাজন আহমদ (২৫)। তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।

জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে ১১০টি গৃহের মধ্যে অধিকাংশ ঘরের কাজ প্রায় শেষ। এর মধ্যে ইনাতগঞ্জ বাজার সংলগ্ন দীঘিরপাড় এলাকায় সরকারের খাস খতিয়ানের ২২.৭১ শতক ভূমির মধ্যে ৮ জন ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মাঝে ১৬ শতক ভূমি বন্দোবস্ত দিয়ে ৮টি গৃহ নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করে উপজেলা প্রশাসন। নির্মাণ কাজ চলাকালে আহমদ আবুল কালাম আজাদ নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি ভূমি তার নামে বন্দোবস্ত দাবী করে নির্মাণ কাজে বাঁধা দেন।

এরপর সহকারী কমিশনার ভূমি সুমাইয়া মুমিন তাকে একাধিকবার নোটিশ করলে সে উপযুক্ত কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়। চলতি বছরের ২০ জানুয়ারী হবিগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে আহমদ আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে আদালত নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিলে ইনাগঞ্জের ৮টি ঘরের শেষ পর্যায়ের কাজ আটকা পড়ে। এতে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে ওই ৮টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার। ফলে কপাল ভাঙ্গে ভূমিহীন ও গৃহহীন ৮টি পরিবারের। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আবুল কালাম আজাদ বন্ধ থাকা নির্মাণাধীন গৃহের মালামাল ইট, বালু, দরঝা, জানালাসহ বিভিন্ন সামগ্রী তার ব্যক্তি ঘর নির্মাণ কাজে ব্যবহার করে। এদিকে আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ ব্যাপারে আদালতে তাঁর জবাব প্রদান করেন।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে ২৬ মে দৈনিক বিজনেস বাংলাদেশ এবং স্থানীয় কয়েকটি লোকাল পত্রিকায় ফলাও করে বিস্তারিত সংবাদ প্রকাশিত হয়। গত মঙ্গলবার (২৫ মে) মামলার নির্ধারিত ধার্য্য তারিখে ভার্চ্যুয়াল কোর্ট পরিচালনা করে হবিগঞ্জ সহকারী জজ (নবী) আদালতের বিজ্ঞ বিচারক অভিজিৎ চৌধুরী আবুল কালামের দায়েরী মামলা খারিজ করে দেন।

ফলে বুধবার (২৬ মে) সকালে বন্ধ থাকা প্রধানমন্ত্রীর মানবিক উদ্যোগ গৃহ নির্মাণ কাজ পুনরায় শুরু করতে সেখানে যায় শ্রমিকরা। তখন অবৈধ দখলদার আহমদ আবুল কালাম আজাদ তার লোকজন নিয়ে শ্রমিকদের কাজের নির্মাণ সামগ্রী নামাতে বাঁধা দেয় ও লাটিসোটা নিয়ে মারমুখী আচরণ করে । খবর পেয়ে তাৎক্ষনিকভাবে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শেখ মহি উদ্দিন নবীগঞ্জ থানার একদল পুলিশ সহকারে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবৈধ দখলদার আহমদ আবুল কালামসহ ৩ জনকে আটক করেন। এ সময় আবুল কালাম আজাদের ঘর থেকে সরকারী কাজের কিছু মালামাল উদ্ধার করে জব্দ করেন নির্বাহী অফিসার। পরে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শেখ মহি উদ্দিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ১৮৬ ধারায় সরকারি কাজে বাঁধা প্রদান ও আক্রমণের দায়ে প্রত্যেককে ৩ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শেখ মহি উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রকল্পের নির্মিত ঘরের মালামাল চুরি করে আবুল কালাম আজাদ, তার ব্যক্তিগত ঘরের কাজে সরকারি মালামাল ব্যবহার করার বিষয়ে নিয়মিত মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে ঘর নির্মান কাজ চলমান রয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মাঝে ভূমিহীনদের মাঝে ঘর সমঝিয়ে দিতে পারবো।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর