আজ ৩১মে, বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস। দিবটি উপলক্ষে মানস মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা আয়োজিত আলোচনা সভা দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব (জহুর হোসেন চৌধুরী হলের ২য় তলা) অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ডঃ হাছান মাহমুদ, এম পি। এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয়ঃ commit to quit” অর্থ্যাৎ,আসুন আমরা শপথ করি জীবন বাঁচাতে তামাক ছাড়ি। প্রতি বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে ৩১মে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালনের উদ্দেশ্য হচ্ছে ঐ দিন থেকে তামাক বা ধুমপান ছেড়ে দিয়ে তামাকমুক্ত হওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে, পৃথিবীতে যত মানুষ তামাক ব্যবহার করে তার অত্যন্ত অধের্ক জনগণ তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে।তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও পরিবেশের জন্য মারাত্নক ক্ষতিকর।বিশ্বের সর্বোচচ তামাক ব্যবহারকারী দশটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।”গ্লোবাল এডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে”, ২০১৭ অনুসারে বাংলাদেশে ১৫ বছরের উর্ধে জনগোষ্ঠির ৩৫.৫%
(৩কোটি ৭৮লাখ)বিড়ি,সিগারেট,গুল,পানের সঙ্গে জর্দা ও সাদা পাতা ইত্যাদি তামাক সেবন করে।যার মধ্যে ৪৬%পুরুষ এবং ২৫.২%মহিলা গবেষণায় দেখা যায়।
বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে ও পাবলিক পরিবহনে ধুমপান না করেও পরোক্ষভাবে ধুমপানের শিকার হচ্ছে বহু মানুষ।এই হার কর্মক্ষেএে ৪২.৭% রেস্তোরাঁয়, ৪৯.৭%সরকারি কার্যালয়ে,২১.৬%হাসপাতাল বা ক্লিনিকে১২.৭% এবং পাবলিক পরিবহনে ৪৪%।তামাক সেবনের
মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম মাদকের দিকে ধাবিত হয়ে পরিবার ও রাষ্ট্রের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, যারা কিশোর বয়সে ধুমপানে আসক্ত হয় তাদের এ্যালকোহলে আসক্ত হয়ে পড়ার সম্ভাবনা স্বাভাবিকের তুলনায় তিন গুণ বেশি, গাঁজায় আট গুণ এবং কোকেইনের ক্ষেএে বাইশ গুণ বেশি।
এটি তরুণদের অনেক বিধ্বংসী আসক্তির পথে পরিচালিত করে।তামাকজনিত রোগ ব্যাধির চিকিৎসা ও অকাল মৃত্যুর কারণে প্রতিবছর৩০,৫৭০কোটি টাকা ব্যয় হয়।কিন্ত একই অর্থ বছরে সরকার তামাকখাত থেকে রাজস্ব পায় অনেক কম (২২,৮১০কোটি টাকা) অর্থ্যাৎ,সরকারের ক্ষতি প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশে ধুমপান ও ধোয়াবিহীন তামাক সেবনের ফলে ফুসফুস ক্যান্সার, মুখগহ্বরের ক্যান্সার, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, যক্ষা ,হাঁপানি ইত্যাদি রোগে ১২ লক্ষাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়।
তাই বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে, প্রতি বছর প্রায় ১লাখ ৬১হাজার মৃত্যু ও ৩লাখ ৮২ হাজার জনকে পঙ্গুত্ব থেকে বাঁচানো সম্ভব। সুতরাং সব ধরনের তামাক পণ্যের উপর সিগারেটের সমপরিমাণ কর আরোপ করা আজকের দিনে সবার দাবি।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















