কুমিল্লার দাউদকান্দিতে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার মো. আনোয়ারুল হকের বিরুদ্ধে অনিয়ম এবং সরকারের উন্নয়ন কাজকে ব্যহত করার অভিযোগ করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা। উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় এ অভিযোগ করেন তারা।
সভায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম খান, সহকারী কমিশনার ভূমি সেলিম শেখ সহ সকল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, সমন্বয় কমিটির সদস্য ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় পালাক্রমে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানরা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। বক্তব্যে, উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে উন্নয়ন কাজের ফাইল আটকে রাখা, সময়মতো অফিসে না বসা, প্রকল্প চলাকালীন পরিদর্শন না করে বিলম্ব করা, মাসিক মিটিংয়ের রেজুলেশন গুরুত্ব না দেয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ করা হয়। ইঞ্জিনিয়ারের গাফলতিতে সরকারের উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দাউদকান্দি উপজেলাবাসী বলেও এসময় অভিযোগ করেন ইউপি চেয়ারম্যানরা। ইউপি চেয়ারম্যানদের বক্তব্য চলাকালে এক পর্যায়ে সভায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরপর উপজেলা চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিস্থিতি শান্ত করেন।
সমন্বয় কমিটির সভায় গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবুল হাসেম সরকার তার বক্তব্যে বলেন, ইঞ্জিনিয়ার সাহেব উপজেলার যত টাকা আছে তার সবই নিজের মনে করেন। যার জন্যে নিজের মতো সবকিছু করছেন। কারো কথা শোনছেন না।
গোয়ালমারী ইউপি চেয়ারম্যান নূরে আলম ভূঁইয়া বুলু বলেন, উপজেলা বিভিন্ন উন্নয়নের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারদের বিল দিচ্ছে না উপজেলা প্রকৌশলী সাব। এতে দাউদকান্দির উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। অনতিবিলম্বে তার প্রত্যাহার কামনা করছি।ইলিয়টগঞ্জ উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান মো. জসীম প্রধান বলেন, আমার এলাকায় ১১ কোটি টাকার টেন্ডার হলেও ইঞ্জিনিয়ারের গাফলতির জন্য কাজ হচ্ছে না। উনি প্রকল্পগুলোকে কোন গুরুত্বই দিচ্ছেন না।সদর উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আব্দুছ ছালাম বলেন, একজন ইঞ্জিনিয়ারের উপর উপজেলার সকল উন্নয়ন নির্ভর করে। সে যদি সকলের সাথে সমন্বয় না করে তাহলে উন্নয়ন সম্ভব নয়। ইঞ্জিনিয়ার সেটাই করছে। সমন্বয় ঠিকমতো করছে না।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে ইঞ্জিনিয়ার মো. আনোয়ারুল হকের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে কে কী বললো সে বিষয়ে আমার কিছু যায় আসে না। আমি সঠিক আছি।




















