১০:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

রংপুরে তামাকের গোডাউনে বালাইনাশক কারখানা

রংপুরে ব্যাঙের ছাতার মত যত্রতত্রভাবে গজিয়ে উঠছে তামাকের বালাইনাশক কারখানা। এতে করে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ বৈচিত্র হুমকির মুখে পড়েছে। সমাজে এক শ্রেণির অসাধু তামাক ব্যবসায়ী প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বাজার বা জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তামাক থেকে পাতি জর্দ্দা তৈরি করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছেন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ধান, গম, ভুট্টা, সরিষা ক্রয় -বিক্রয়ের কথা উল্লেখ করে ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইন্সেস নিয়ে গোডাউনের নামে কারখানা খুলে গোপনে তামাক মাড়াই মেশিন বসিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিড়ি, সিগারেট ও জর্দ্দা দ্রব্য তৈরি করা হচ্ছে। অবশিষ্ট তামাকের গর্দা বা ডাষ্ট দিয়ে নিম্নমানের বালাইনাশক সার তৈরি করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ১৩ জুন রংপুর পরিবেশ অধিদপ্তরে মশিউর রহমান সরদার নামে এক ব্যক্তির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এমন তথ্য পাওয়া যায়। অভিযোগে মশিউর রহমান সরদার উল্লেখ করেছেন, রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীরে মেসার্স আব্দুল্লাহ টোবাকো কোম্পানির সত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ একই এলাকায় যত্রতত্রভাবে একাধিক তামাকের গোডাউনের নামে বালাইনাশকসহ জর্দ্দারপাতি ,গুল তৈরির কারখানা খুলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যকে হুমকির মুখে ফেলেছেন।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন জানান, শুধুমাত্র পাগলাপীর এলাকায় ১৫ /১৬টি তামাকের গোডাউনে রয়েছে। সেখানে তামাকের গর্দা ডাষ্ট করে এক শ্রেণির তামাক ব্যবসায়ী বালাইনাশক ডাষ্ট তৈরি করছেন। এতে করে এলাকার জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। তিনি আরও জানান, তামাকের ডাষ্ট তৈরি সময় এর গন্ধে এলাকায় থাকা দুস্কার হয়ে দাঁড়ায়। এলাকাবাসি দ্রæত সময়ের মধ্যে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামাকের বালাইনাশক কারখানা অপসারণের দাবি জানান।
এদিকে কোটি কোটি টাকা আয়ের অবৈধ কারখানার নামমাত্র দুইশ’ টাকার বিনিময়ে ট্রেড লাইসেন্স দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি চেয়ারম্যানরা। এতে সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছেন।
এ বিষয়ে হরিদেবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন জানান, লাইসেন্স নেয়ার সময় ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসার ধরণ দেখিয়ে ট্রেড লাইন্সেস সংগ্রহ করেন। তবে কোন ব্যবসায়ী অন্য কোন ব্যবসা করলে তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের কৃষিবিদ খোন্দকার মো. মেসবাহুল ইসলাম জানান, তামাকের গর্দা জৈব সার নয়। এটা তেমন আলু বা সবজির ফসলের উপকারে আসে না। তামাকের গর্দা মাটিতে কমবেশি হলে ফসলের অনেক ক্ষতি হবে।
রংপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মেজ-বাবুল ইসলাম বলেন, বৃহত্তর রংপুর জেলার দ্বায়িত্বের ভারে ছোটখাটো বিষয় গুলো দেখার সুযোগ পাই না। তবে এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি উভয় পক্ষকে ডাকানো হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

রংপুরে তামাকের গোডাউনে বালাইনাশক কারখানা

প্রকাশিত : ০৬:০০:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১

রংপুরে ব্যাঙের ছাতার মত যত্রতত্রভাবে গজিয়ে উঠছে তামাকের বালাইনাশক কারখানা। এতে করে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ বৈচিত্র হুমকির মুখে পড়েছে। সমাজে এক শ্রেণির অসাধু তামাক ব্যবসায়ী প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বাজার বা জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তামাক থেকে পাতি জর্দ্দা তৈরি করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছেন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ধান, গম, ভুট্টা, সরিষা ক্রয় -বিক্রয়ের কথা উল্লেখ করে ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইন্সেস নিয়ে গোডাউনের নামে কারখানা খুলে গোপনে তামাক মাড়াই মেশিন বসিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিড়ি, সিগারেট ও জর্দ্দা দ্রব্য তৈরি করা হচ্ছে। অবশিষ্ট তামাকের গর্দা বা ডাষ্ট দিয়ে নিম্নমানের বালাইনাশক সার তৈরি করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ১৩ জুন রংপুর পরিবেশ অধিদপ্তরে মশিউর রহমান সরদার নামে এক ব্যক্তির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এমন তথ্য পাওয়া যায়। অভিযোগে মশিউর রহমান সরদার উল্লেখ করেছেন, রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীরে মেসার্স আব্দুল্লাহ টোবাকো কোম্পানির সত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ একই এলাকায় যত্রতত্রভাবে একাধিক তামাকের গোডাউনের নামে বালাইনাশকসহ জর্দ্দারপাতি ,গুল তৈরির কারখানা খুলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যকে হুমকির মুখে ফেলেছেন।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন জানান, শুধুমাত্র পাগলাপীর এলাকায় ১৫ /১৬টি তামাকের গোডাউনে রয়েছে। সেখানে তামাকের গর্দা ডাষ্ট করে এক শ্রেণির তামাক ব্যবসায়ী বালাইনাশক ডাষ্ট তৈরি করছেন। এতে করে এলাকার জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। তিনি আরও জানান, তামাকের ডাষ্ট তৈরি সময় এর গন্ধে এলাকায় থাকা দুস্কার হয়ে দাঁড়ায়। এলাকাবাসি দ্রæত সময়ের মধ্যে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামাকের বালাইনাশক কারখানা অপসারণের দাবি জানান।
এদিকে কোটি কোটি টাকা আয়ের অবৈধ কারখানার নামমাত্র দুইশ’ টাকার বিনিময়ে ট্রেড লাইসেন্স দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি চেয়ারম্যানরা। এতে সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছেন।
এ বিষয়ে হরিদেবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন জানান, লাইসেন্স নেয়ার সময় ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসার ধরণ দেখিয়ে ট্রেড লাইন্সেস সংগ্রহ করেন। তবে কোন ব্যবসায়ী অন্য কোন ব্যবসা করলে তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের কৃষিবিদ খোন্দকার মো. মেসবাহুল ইসলাম জানান, তামাকের গর্দা জৈব সার নয়। এটা তেমন আলু বা সবজির ফসলের উপকারে আসে না। তামাকের গর্দা মাটিতে কমবেশি হলে ফসলের অনেক ক্ষতি হবে।
রংপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মেজ-বাবুল ইসলাম বলেন, বৃহত্তর রংপুর জেলার দ্বায়িত্বের ভারে ছোটখাটো বিষয় গুলো দেখার সুযোগ পাই না। তবে এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি উভয় পক্ষকে ডাকানো হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ