আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রংপুর নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা সুপার মার্কেট ও নবাবগঞ্জ বাজারে গণসংযোগকালে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও রংপুর-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী জিএম কাদের অভিযোগ করেছেন, ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তাঁকে ও তাঁর নেতাকর্মীদের নানা ভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পথসভা ও গণসংযোগে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জিএম কাদের বলেন, দেশের মানুষ অতীতে সন্ত্রাস, গ্রাসবাদী রাজনীতি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের রাজনীতি দেখেছে। জনগণ এখন স্পষ্টভাবে বুঝে গেছে-কারা দেশের ভালো চায় আর কারা ক্ষমতার লোভে দেশকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিতে চায়।
তিনি বলেন, “আমি ‘না’ ভোটের পক্ষে কথা বলছি বলেই আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ভয় দেখিয়ে, সন্ত্রাসী ভাষায় কথা বলে জনগণের কণ্ঠ রোধ করা যাবে না। অতীতে এই ধরনের রাজনীতির পরিণাম দেশের মানুষ দেখেছে।”
গণসংযোগকালে জিএম কাদের আরও বলেন, “‘না’ মানে আজাদী, আর তথাকথিত ‘হ্যাঁ’ মানে গোলামী। যারা দেশের মানুষের স্বাধীন মত প্রকাশকে ভয় পায়, তারাই জনগণকে দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ রাখতে চায়।”
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ আজ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। ভোটের অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র আজ প্রশ্নের মুখে। এই অবস্থায় যারা ভয় দেখিয়ে রাজনীতি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, “ইনকিলাব মানে ধ্বংস নয়, ইনকিলাব মানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম। যারা দেশকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে, যারা গণতন্ত্রকে কবর দিতে চায় তাদের বিরুদ্ধেই হবে আমাদের সংগ্রাম।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনী মাঠে সমান সুযোগ না দিয়ে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করছে। তবে শেষ পর্যন্ত জনগণের শক্তিই বিজয়ী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
গণসংযোগে উপস্থিত ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশে জিএম কাদের বলেন, “আপনারা ভয় পাবেন না। ভোট আপনাদের অধিকার। দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের দায়িত্ব আপনাদের হাতেই। সন্ত্রাস, ভয় কিংবা হুমকি দিয়ে কেউ জনগণের রায় ছিনিয়ে নিতে পারবে না।”
এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রচারণায় বারবার বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তবে সব প্রতিকূলতার মধ্যেও গণসংযোগ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানান তাঁরা।
গণসংযোগ শেষে জিএম কাদের বলেন, রংপুরসহ সারা দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। তারা একটি গণতান্ত্রিক, নিরাপদ ও স্বাধীন বাংলাদেশ দেখতে চায়। সেই লক্ষ্যেই জাতীয় পার্টি মাঠে রয়েছে এবং জনগণের রায়ের মাধ্যমেই শেষ কথা বলা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও সাবেক সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, রংপুর জেলা আহ্বায়ক মোহাম্মদ আজমল হোসেন লেবু, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও রংপুর মহানগর সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ লোকমান হোসেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মহানগর সহ-সভাপতি হাসানুজ্জামান নাজিমসহ জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
ডিএস./


















