১১:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

শিক্ষার্থীদের মতামত নিয়েই অনলাইন পরীক্ষা

কুবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী

মহামারির করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে সেশনজটে পড়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। সশরীরে পরীক্ষা নেওয়া শুরু হলেও তা স্থগিত করা হয়। এ পরিস্থিতিতে অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়া এবং দুর্যোগ পুনরুদ্ধার পরিকল্পনার জন্য দুটি কমিটি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু উদ্যোগের কোনো খবর নেই। দুই কমিটির আহ্বায়কেরা বলছেন, তাঁরা কোনো চিঠি পাননি।

অনলাইন পরীক্ষা সম্পর্কে কুবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অনলাইন পরীক্ষা তো অসম্ভব, কেউ ঠিকমতো ক্লাসই করতে পারছে না। অনলাইনে প্রথম কথা হচ্ছে নেট থাকে না। সবাই তো উপস্থিত থাকতেও পারবে না।’

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহিম মোশারফ সেজান বলেন, প্রায় সাড়ে চার বছর হয়ে গেলে আমরা এখনও তৃতীয় বর্ষ শেষ করতে পারিনি! করোনার কারণে সশরীরে কবে পরীক্ষা দিতে পারবে তাও অনিশ্চিত। এজন্য সেশনজট নিরসনে অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়া উচিত। ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান বন্যা বলেন, অনলাইন পরীক্ষা এখন সময়ের দাবি। আমার সেশন ২০১৭-১৮ হিসাব অনুযায়ী আমাদের এখন চতুর্থ বর্ষে থাকার কথা। কিন্তু এখনো আমরা দ্বিতীয় বর্ষে আটকে আছি। সশরীরে পরীক্ষার আশায় থাকলে কবে পরীক্ষা দিতে পারব জানি না। সে জন্যে অনলাইন পরীক্ষাই এখন একমাত্র ভরসা।

এদিকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মো. নূরুল করিম চৌধুরী বলেন, `আমি জেনেছি, অনলাইন পরীক্ষার ব্যাপারে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি থেকে যেই সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব আসবে, সেভাবেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমাদের কাছে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব আসেনি। মৌখিকভাবে তো কাজ করা যাবে না।

এ বিষয়ে প্রকৌশল অনুষদের ডিন মো. তোফায়েল আহমেদ বলেন, কমিটি হওয়ার কথা শুনেছি, কিন্তু চিঠি পাইনি। চিঠি পেলে কাজ শুরু করবো।

ডিজাস্টার রিকভারি প্ল্যান কমিটির আহ্বায়ক মো. রশিদুল ইসলাম শেখ বলেন, আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, এটা হলো মৌখিক আদেশ। চিঠিপত্র পেলে যত দ্রুত সম্ভব এই নির্দেশনার আলোকে আমরা কমিটির মেম্বাররা মিটিং কল করে সে বিষয়ে একটা কর্মপরিকল্পনা তৈরি করব।

কমিটির আহ্বায়কদের কাছে চিঠি না পৌঁছানোর কারণ জানতে চাইলে কুবি উপাচার্য বলেন, ‘পেয়ে যাবে কাজ শুরু করে দেবে, আমি বলব।’

পরিশেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, `আমরা অপেক্ষা করছি, যারা ফাইনাল ইয়ার, মাস্টার্স ২-১টা পরীক্ষা বাকি আছে বা অনার্স, তাঁদের অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা রুটিনটা রিশিডিউল করে শুরু করে দেব। অবস্থা একটু ভালো হলে আবার শিডিউল দিয়ে দেব।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শিক্ষার্থীদের মতামত নিয়েই অনলাইন পরীক্ষা

প্রকাশিত : ০৪:৪৯:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জুলাই ২০২১

মহামারির করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে সেশনজটে পড়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। সশরীরে পরীক্ষা নেওয়া শুরু হলেও তা স্থগিত করা হয়। এ পরিস্থিতিতে অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়া এবং দুর্যোগ পুনরুদ্ধার পরিকল্পনার জন্য দুটি কমিটি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু উদ্যোগের কোনো খবর নেই। দুই কমিটির আহ্বায়কেরা বলছেন, তাঁরা কোনো চিঠি পাননি।

অনলাইন পরীক্ষা সম্পর্কে কুবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অনলাইন পরীক্ষা তো অসম্ভব, কেউ ঠিকমতো ক্লাসই করতে পারছে না। অনলাইনে প্রথম কথা হচ্ছে নেট থাকে না। সবাই তো উপস্থিত থাকতেও পারবে না।’

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহিম মোশারফ সেজান বলেন, প্রায় সাড়ে চার বছর হয়ে গেলে আমরা এখনও তৃতীয় বর্ষ শেষ করতে পারিনি! করোনার কারণে সশরীরে কবে পরীক্ষা দিতে পারবে তাও অনিশ্চিত। এজন্য সেশনজট নিরসনে অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়া উচিত। ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান বন্যা বলেন, অনলাইন পরীক্ষা এখন সময়ের দাবি। আমার সেশন ২০১৭-১৮ হিসাব অনুযায়ী আমাদের এখন চতুর্থ বর্ষে থাকার কথা। কিন্তু এখনো আমরা দ্বিতীয় বর্ষে আটকে আছি। সশরীরে পরীক্ষার আশায় থাকলে কবে পরীক্ষা দিতে পারব জানি না। সে জন্যে অনলাইন পরীক্ষাই এখন একমাত্র ভরসা।

এদিকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মো. নূরুল করিম চৌধুরী বলেন, `আমি জেনেছি, অনলাইন পরীক্ষার ব্যাপারে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি থেকে যেই সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব আসবে, সেভাবেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমাদের কাছে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব আসেনি। মৌখিকভাবে তো কাজ করা যাবে না।

এ বিষয়ে প্রকৌশল অনুষদের ডিন মো. তোফায়েল আহমেদ বলেন, কমিটি হওয়ার কথা শুনেছি, কিন্তু চিঠি পাইনি। চিঠি পেলে কাজ শুরু করবো।

ডিজাস্টার রিকভারি প্ল্যান কমিটির আহ্বায়ক মো. রশিদুল ইসলাম শেখ বলেন, আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, এটা হলো মৌখিক আদেশ। চিঠিপত্র পেলে যত দ্রুত সম্ভব এই নির্দেশনার আলোকে আমরা কমিটির মেম্বাররা মিটিং কল করে সে বিষয়ে একটা কর্মপরিকল্পনা তৈরি করব।

কমিটির আহ্বায়কদের কাছে চিঠি না পৌঁছানোর কারণ জানতে চাইলে কুবি উপাচার্য বলেন, ‘পেয়ে যাবে কাজ শুরু করে দেবে, আমি বলব।’

পরিশেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, `আমরা অপেক্ষা করছি, যারা ফাইনাল ইয়ার, মাস্টার্স ২-১টা পরীক্ষা বাকি আছে বা অনার্স, তাঁদের অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা রুটিনটা রিশিডিউল করে শুরু করে দেব। অবস্থা একটু ভালো হলে আবার শিডিউল দিয়ে দেব।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর