০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

পাইরেসির শিকার কান উৎসবে প্রশংসিত ‘রেহানা মরিয়ম নূর’

পাইরেসির শিকার হল কান উৎসবে প্রশংসিত হওয়া ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ সিনেমাটি। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আগেই পাইরেসির শিকার হলো আলোচিত ‘রেহানা মরিয়ম নূর’। পুরো ছবিটি আজ ইন্টারনেটে ছেড়ে দিয়েছে একটি চক্র। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্য অনন্য সম্মান বয়ে আনা ছবিটি পাইরেসি হয়ে ঘুরছে ইন্টারনেটে। ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপে এই চক্র নিয়ে চলছে সমালোচনা। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট মানুষেরা।

‘রেহানা মরিয়ম নূর’ ছবির কাস্টিং ডিরেক্টর ইয়াছির আল হক পাইরেসি হওয়ার খবরে ক্ষুব্ধ হয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। তিনি ছবিটি পাইরেসির সঙ্গে যুক্তদের আসল পরিচয় জানতেও চেয়েছেন। ক্ষুব্ধ ইয়াছির বলেন, ‘আপনার আসল পরিচয় কী? সিনেমাখোর নাকি সিনেমা চোর? প্রমাণ করতে “রেহানা মরিয়ম নূর” ছবির অযাচিত লিংকটি পেলে ইনবক্সে পাঠান। আর এ–সংক্রান্ত মানুষের পোস্ট এবং আইডিকে ব্লক ও রিপোর্ট করুন। সিনেমা সর্বদা বড় পর্দার আয়োজন, দুধের স্বাদ আর কত ঘোলে মেটাবেন? মূল্যবোধ বাদ দিলাম, কিন্তু রুচিবোধ?’

‘রেহানা মরিয়ম নূর’ ছবির নির্বাহী প্রযোজক এহসানুল হক বাবুও ভীষণ মর্মাহত। জানালেন, আজ সকালেই তাঁরা জানতে পারেন, ছবিটি পাইরেসি হয়েছে। দুপুরে বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট শাখার সঙ্গে কথা বলছি। অবশ্যই আমরা পদক্ষেপ নেব।’

এহসানুল হক বাবু আরও বলেন, ‘এই মুহূর্তে “রেহানা মরিয়ম নূর” ছবিটি পাইরেসি হওয়ার খবরটি কতটা শকিং, বলে বোঝাতে পারব না। আমি এই সিনেমার প্রযোজক, আমার জীবনের সবকিছু এখানে ইনভেস্ট করা। এমন একটা ঘটনা ঘটেছে, এটার প্রতিক্রিয়া কী হওয়া উচিত, ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, সরকার যদি সঠিকভাবে সহযোগিতা করে, আমরা এই অপরাধীদের শনাক্ত করতে পারব। আর চক্রের বিচার করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি যাদের জন্য ছবিটি বানিয়েছি, সেই দর্শকদের কাছে সুন্দরভাবে নিয়ে যেতে পারব। দেখানোর ব্যবস্থা করতে পারব।’

রেহানা ছবিটি পাইরেসি হওয়ার খবরে দুঃখ প্রকাশ করেছেন তরুণ প্রজন্মের আলোচিত নাট্য নির্মাতা মাবরুর রশিদ বান্নাহ। তিনি বলেন, ‘খুবই কষ্ট লাগছে, রাগ হচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সম্মান বয়ে আনা ফিল্ম “রেহানা মরিয়ম নূর”–এর পাইরেট কপি এখন সহজলভ্য টরেন্টে, ইভেন গুগল ড্রাইভে ইনবক্স থেকে ইনবক্সে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আরও রাগের বিষয় হচ্ছে অনেকের সঙ্গে এগুলো করছে ফিল্ম নিয়ে মোটামুটি জানাশোনা লোকজন। অনেক অপেক্ষায় ছিলাম “রেহানা মরিয়ম নূর” সিনেমা হলে দেখব। আর ২০-৩০ জনকে নিয়ে উৎসবের মতো করে ফিল্ম দেখব। তা কি আদৌ আর হবে? জানি না! আমরা নিজেরাই নিজেদের অসম্মানিত করতে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন। আমাদের বাইরের কারও ক্ষতির দরকার পড়ে না। আমরা নিজেরাই নিজেদের শত্রু।’

জানা গেছে, পাইরেসির খবরে রেহানা ছবির পরিচালক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ প্রচণ্ড কষ্ট পেয়েছেন। এতটাই কষ্ট পেয়েছেন যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার মতো মানসিক অবস্থা তাঁর নেই।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

নবীগঞ্জে বীমা কোম্পানির গ্রাহক সংগ্রহকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক

পাইরেসির শিকার কান উৎসবে প্রশংসিত ‘রেহানা মরিয়ম নূর’

প্রকাশিত : ০৭:৪২:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ অগাস্ট ২০২১

পাইরেসির শিকার হল কান উৎসবে প্রশংসিত হওয়া ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ সিনেমাটি। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আগেই পাইরেসির শিকার হলো আলোচিত ‘রেহানা মরিয়ম নূর’। পুরো ছবিটি আজ ইন্টারনেটে ছেড়ে দিয়েছে একটি চক্র। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্য অনন্য সম্মান বয়ে আনা ছবিটি পাইরেসি হয়ে ঘুরছে ইন্টারনেটে। ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপে এই চক্র নিয়ে চলছে সমালোচনা। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট মানুষেরা।

‘রেহানা মরিয়ম নূর’ ছবির কাস্টিং ডিরেক্টর ইয়াছির আল হক পাইরেসি হওয়ার খবরে ক্ষুব্ধ হয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। তিনি ছবিটি পাইরেসির সঙ্গে যুক্তদের আসল পরিচয় জানতেও চেয়েছেন। ক্ষুব্ধ ইয়াছির বলেন, ‘আপনার আসল পরিচয় কী? সিনেমাখোর নাকি সিনেমা চোর? প্রমাণ করতে “রেহানা মরিয়ম নূর” ছবির অযাচিত লিংকটি পেলে ইনবক্সে পাঠান। আর এ–সংক্রান্ত মানুষের পোস্ট এবং আইডিকে ব্লক ও রিপোর্ট করুন। সিনেমা সর্বদা বড় পর্দার আয়োজন, দুধের স্বাদ আর কত ঘোলে মেটাবেন? মূল্যবোধ বাদ দিলাম, কিন্তু রুচিবোধ?’

‘রেহানা মরিয়ম নূর’ ছবির নির্বাহী প্রযোজক এহসানুল হক বাবুও ভীষণ মর্মাহত। জানালেন, আজ সকালেই তাঁরা জানতে পারেন, ছবিটি পাইরেসি হয়েছে। দুপুরে বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট শাখার সঙ্গে কথা বলছি। অবশ্যই আমরা পদক্ষেপ নেব।’

এহসানুল হক বাবু আরও বলেন, ‘এই মুহূর্তে “রেহানা মরিয়ম নূর” ছবিটি পাইরেসি হওয়ার খবরটি কতটা শকিং, বলে বোঝাতে পারব না। আমি এই সিনেমার প্রযোজক, আমার জীবনের সবকিছু এখানে ইনভেস্ট করা। এমন একটা ঘটনা ঘটেছে, এটার প্রতিক্রিয়া কী হওয়া উচিত, ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, সরকার যদি সঠিকভাবে সহযোগিতা করে, আমরা এই অপরাধীদের শনাক্ত করতে পারব। আর চক্রের বিচার করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি যাদের জন্য ছবিটি বানিয়েছি, সেই দর্শকদের কাছে সুন্দরভাবে নিয়ে যেতে পারব। দেখানোর ব্যবস্থা করতে পারব।’

রেহানা ছবিটি পাইরেসি হওয়ার খবরে দুঃখ প্রকাশ করেছেন তরুণ প্রজন্মের আলোচিত নাট্য নির্মাতা মাবরুর রশিদ বান্নাহ। তিনি বলেন, ‘খুবই কষ্ট লাগছে, রাগ হচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সম্মান বয়ে আনা ফিল্ম “রেহানা মরিয়ম নূর”–এর পাইরেট কপি এখন সহজলভ্য টরেন্টে, ইভেন গুগল ড্রাইভে ইনবক্স থেকে ইনবক্সে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আরও রাগের বিষয় হচ্ছে অনেকের সঙ্গে এগুলো করছে ফিল্ম নিয়ে মোটামুটি জানাশোনা লোকজন। অনেক অপেক্ষায় ছিলাম “রেহানা মরিয়ম নূর” সিনেমা হলে দেখব। আর ২০-৩০ জনকে নিয়ে উৎসবের মতো করে ফিল্ম দেখব। তা কি আদৌ আর হবে? জানি না! আমরা নিজেরাই নিজেদের অসম্মানিত করতে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন। আমাদের বাইরের কারও ক্ষতির দরকার পড়ে না। আমরা নিজেরাই নিজেদের শত্রু।’

জানা গেছে, পাইরেসির খবরে রেহানা ছবির পরিচালক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ প্রচণ্ড কষ্ট পেয়েছেন। এতটাই কষ্ট পেয়েছেন যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার মতো মানসিক অবস্থা তাঁর নেই।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ