০৫:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

কোভিড টেস্টের নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৩

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অনুমতি না দিলেও কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে অনুমোদনের ‘ভুয়া পরিপত্র’বানিয়ে দেশজুড়ে করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ বুথ ও অস্থায়ী ল্যাবরেটরিতে নিয়োগ ও পরীক্ষা শুরুর অভিযোগে তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

এরা হলেন- আব্দুল্লাহ আলামিন, আবুল হাসান তুষার ও মোহাম্মদ শাহিন মিয়া। টিকেএস হেলথকেয়ার লিমিটেড নামে একটি সাইনবোর্ড ব্যবহার করে তারা অবৈধ কার্যক্রম শুরু করেছিল। মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁও ও ঝালকাঠি জেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ডিবি-উত্তর) হারুন অর রশীদ।

এসময় তাদের কাছ থেকে ‘প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত’ কম্পিউটার, আইডি কার্ড, ভিজিটিং কার্ড, ট্যাক্স সার্টিফিকেট ও জাল নিয়োগপত্র জব্দ করা হয়। বুধবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হারুন বলেন, তুষার গত ১১ জুলাই কোভিড-১৯ নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার অনুমতির জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করলেও অনুমতি মেলেনি। তবে এক সপ্তাহ পর অনুমোদনের ভুয়া পরিপত্র ছড়িয়ে দেয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে দৈনিক আড়াই হাজার টাকা বেতনে পাঁচ শতাধিক জনবল নিয়োগের বিজ্ঞাপনও ফেইসবুকে ছড়িয়ে দেয় টিকেএস গ্রুপ। ডিবির যুগ্ম কমিশনার বলেন, “করোনা পরীক্ষার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তারা আরও বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল। তারা টিকেএস গ্রুপের ব্যানারে আরও সাতটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল।” এগুলো হলো- টিকেএস ফার্মাসিটিউক্যালস লিমিটেড, টিকেএস মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল, টিকেএস কার্নিভাল ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ, টিকেএস মার্কেটিং লিমিটেড, টিকেএস ফাউন্ডেশন ও টিকেএস ২৪।

হারুন বলেন, তুষার একটি বেসরকারি ব্যাংকের জনসংযোগ শাখায় কর্মরত ছিলেন। মহামারীর মধ্যে তার চাকরি চলে গেলে আলামিন তাকে এসব প্রতিষ্ঠান খোলার পরামর্শ দেন। তাদের লক্ষ্য ছিল, বড় অঙ্কের ব্যাংক ঋণ নিয়ে ও মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে অল্প সময়ে বিত্তশালী হওয়া।

গত বছর কোভিডের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে জেকেজি হেলথকেয়ার নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় ডা. সাবরিনা ও তার স্বামী আরিফকে। ওই মামলায় তারা এখন কারাগারে। পুলিশ কর্মকর্তা হারুন বলেন, “ইতোপূর্বেও প্রতারক সাবরিনা ও সাহেদদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। সুতরাং আমরা জানাতে চাই, কেউ প্রতারিত হবেন না। কোথাও টাকা দেওয়ার আগে যাচাই করুন।”গ্রেপ্তার এই তিনজনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

জনপ্রিয়

সামাজিক সংগঠন সুহৃদের উদ্যোগে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ৩০০ দরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

কোভিড টেস্টের নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশিত : ১২:০০:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২১

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অনুমতি না দিলেও কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে অনুমোদনের ‘ভুয়া পরিপত্র’বানিয়ে দেশজুড়ে করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ বুথ ও অস্থায়ী ল্যাবরেটরিতে নিয়োগ ও পরীক্ষা শুরুর অভিযোগে তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

এরা হলেন- আব্দুল্লাহ আলামিন, আবুল হাসান তুষার ও মোহাম্মদ শাহিন মিয়া। টিকেএস হেলথকেয়ার লিমিটেড নামে একটি সাইনবোর্ড ব্যবহার করে তারা অবৈধ কার্যক্রম শুরু করেছিল। মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁও ও ঝালকাঠি জেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ডিবি-উত্তর) হারুন অর রশীদ।

এসময় তাদের কাছ থেকে ‘প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত’ কম্পিউটার, আইডি কার্ড, ভিজিটিং কার্ড, ট্যাক্স সার্টিফিকেট ও জাল নিয়োগপত্র জব্দ করা হয়। বুধবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হারুন বলেন, তুষার গত ১১ জুলাই কোভিড-১৯ নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার অনুমতির জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করলেও অনুমতি মেলেনি। তবে এক সপ্তাহ পর অনুমোদনের ভুয়া পরিপত্র ছড়িয়ে দেয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে দৈনিক আড়াই হাজার টাকা বেতনে পাঁচ শতাধিক জনবল নিয়োগের বিজ্ঞাপনও ফেইসবুকে ছড়িয়ে দেয় টিকেএস গ্রুপ। ডিবির যুগ্ম কমিশনার বলেন, “করোনা পরীক্ষার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তারা আরও বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল। তারা টিকেএস গ্রুপের ব্যানারে আরও সাতটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল।” এগুলো হলো- টিকেএস ফার্মাসিটিউক্যালস লিমিটেড, টিকেএস মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল, টিকেএস কার্নিভাল ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ, টিকেএস মার্কেটিং লিমিটেড, টিকেএস ফাউন্ডেশন ও টিকেএস ২৪।

হারুন বলেন, তুষার একটি বেসরকারি ব্যাংকের জনসংযোগ শাখায় কর্মরত ছিলেন। মহামারীর মধ্যে তার চাকরি চলে গেলে আলামিন তাকে এসব প্রতিষ্ঠান খোলার পরামর্শ দেন। তাদের লক্ষ্য ছিল, বড় অঙ্কের ব্যাংক ঋণ নিয়ে ও মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে অল্প সময়ে বিত্তশালী হওয়া।

গত বছর কোভিডের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে জেকেজি হেলথকেয়ার নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় ডা. সাবরিনা ও তার স্বামী আরিফকে। ওই মামলায় তারা এখন কারাগারে। পুলিশ কর্মকর্তা হারুন বলেন, “ইতোপূর্বেও প্রতারক সাবরিনা ও সাহেদদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। সুতরাং আমরা জানাতে চাই, কেউ প্রতারিত হবেন না। কোথাও টাকা দেওয়ার আগে যাচাই করুন।”গ্রেপ্তার এই তিনজনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা হয়েছে বলে জানান তিনি।