০১:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

কার্বন নির্গমন কমানোর সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের দাবিতে প্রতীকি প্রতিবাদ

  • বরিশাল
  • প্রকাশিত : ০৬:২০:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১
  • 76

কলাগাছের ভেলায় চড়ে কীর্তনখোলা নদী বেয়ে অজানার উদ্দেশ্যে প্রতিকী যাত্রা করেছে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবার। ছোট্ট ভেলায় তুলে নিয়েছে ছাগল-হাঁস-মুরগি আর যৎসামান্য সম্বল। তাঁদের হাতে শ্লোগান, আমাদেরকে জলবায়ু উদ্বাস্তু হিশেবে স্বীকৃতি দাও। নদীর পাড়ে সমব্যথী মানুষের মানববন্ধন। তাঁদের হাতের ব্যানারে সুস্পষ্টভাবে লেখা : জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ বন্ধ করো : আমাদের যাবার জন্য আর কোনো গ্রহ নেই!

আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিশ্ব নেতৃবৃন্দের নিকট কার্বন নির্গমন কমানোর দাবিতে গত বুধবার (২৭ অক্টোবর ২০২১) প্রান্তজন, বাংলাদেশের বৈদেশিক দেনা বিষয়ক কর্মজোট (বিডাব্লিউজিইডি) ও উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)-এর যৌথ উদ্যোগে এ অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজিত হয়। প্রতীকি এ জলবায়ু উদ্বাস্তু যাত্রায় যোগ দেয় তরুণসহ স্থানীয় জনসাধারণ।

উদ্বাস্তু যাত্রায় প্রান্তজনের নির্বাহী পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম শাহজাদা বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুসারে, ইতোমধ্যে বায়ুমণ্ডলে কার্বনের ঘনত্ব পৃথিবীর সহনক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে। এ কারণে যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি হারে জলবায়ু পরিবর্তনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে যাচ্ছে। খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রামসহ উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদী ভাঙন ও লবণাক্ততার কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে ক্লিন-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী বলেন, জলবায়ু বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন আইপিসিসি সতর্ক করে দিয়েছে যে, জলবায়ু দুর্যোগ ঠেকানোর সর্বশেষ সুযোগ দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। এখনই কার্বন নির্গমন কমানোর উদ্যোগ না নিতে পারলে একুশ শতকের শেষ নাগাদ মানবসভ্যতা রক্ষা করা যাবে না। কিন্তু উন্নত বিশ্বের নেতৃবৃন্দ শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন। এমন একটি জরুরি অবস্থায় জাপান ও অস্ট্রেলিয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের উপকূলের ঝুঁকি বিবেচনায় না নিয়েই চীন, জাপান ও মার্কিন কোম্পানিগুলো জীবাশ্ম জ্বালানিতে আরো বেশি হারে বিনিয়োগ করছে। আমাদের জীবন নয়, মুনাফাই তাদের কাছে বড় হয়ে উঠেছে।

উদ্বাস্তু যাত্রায় বক্তারা অবিলম্বে কয়লাসহ জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ বন্ধ করা, উন্নত বিশ্বের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রতি বছর ১০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশকে সহায়তা করা, ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার দাবি জানান।

ট্যাগ :

মূল্যস্ফীতি আবার ৯ শতাংশ ছাড়াল, অস্বস্তি বেড়েছে খাদ্যেও

কার্বন নির্গমন কমানোর সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের দাবিতে প্রতীকি প্রতিবাদ

প্রকাশিত : ০৬:২০:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১

কলাগাছের ভেলায় চড়ে কীর্তনখোলা নদী বেয়ে অজানার উদ্দেশ্যে প্রতিকী যাত্রা করেছে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবার। ছোট্ট ভেলায় তুলে নিয়েছে ছাগল-হাঁস-মুরগি আর যৎসামান্য সম্বল। তাঁদের হাতে শ্লোগান, আমাদেরকে জলবায়ু উদ্বাস্তু হিশেবে স্বীকৃতি দাও। নদীর পাড়ে সমব্যথী মানুষের মানববন্ধন। তাঁদের হাতের ব্যানারে সুস্পষ্টভাবে লেখা : জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ বন্ধ করো : আমাদের যাবার জন্য আর কোনো গ্রহ নেই!

আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিশ্ব নেতৃবৃন্দের নিকট কার্বন নির্গমন কমানোর দাবিতে গত বুধবার (২৭ অক্টোবর ২০২১) প্রান্তজন, বাংলাদেশের বৈদেশিক দেনা বিষয়ক কর্মজোট (বিডাব্লিউজিইডি) ও উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)-এর যৌথ উদ্যোগে এ অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজিত হয়। প্রতীকি এ জলবায়ু উদ্বাস্তু যাত্রায় যোগ দেয় তরুণসহ স্থানীয় জনসাধারণ।

উদ্বাস্তু যাত্রায় প্রান্তজনের নির্বাহী পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম শাহজাদা বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুসারে, ইতোমধ্যে বায়ুমণ্ডলে কার্বনের ঘনত্ব পৃথিবীর সহনক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে। এ কারণে যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি হারে জলবায়ু পরিবর্তনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে যাচ্ছে। খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রামসহ উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদী ভাঙন ও লবণাক্ততার কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে ক্লিন-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী বলেন, জলবায়ু বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন আইপিসিসি সতর্ক করে দিয়েছে যে, জলবায়ু দুর্যোগ ঠেকানোর সর্বশেষ সুযোগ দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। এখনই কার্বন নির্গমন কমানোর উদ্যোগ না নিতে পারলে একুশ শতকের শেষ নাগাদ মানবসভ্যতা রক্ষা করা যাবে না। কিন্তু উন্নত বিশ্বের নেতৃবৃন্দ শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন। এমন একটি জরুরি অবস্থায় জাপান ও অস্ট্রেলিয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের উপকূলের ঝুঁকি বিবেচনায় না নিয়েই চীন, জাপান ও মার্কিন কোম্পানিগুলো জীবাশ্ম জ্বালানিতে আরো বেশি হারে বিনিয়োগ করছে। আমাদের জীবন নয়, মুনাফাই তাদের কাছে বড় হয়ে উঠেছে।

উদ্বাস্তু যাত্রায় বক্তারা অবিলম্বে কয়লাসহ জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ বন্ধ করা, উন্নত বিশ্বের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রতি বছর ১০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশকে সহায়তা করা, ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার দাবি জানান।