নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া, মুড়াপাড়া, ভোলাবো, গোলাকান্দাইল ও ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন জমে উঠেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে ভোটের মাঠ। এবারের নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী না দিলেও মাঠে রয়েছে আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরা। তবে বিএনপির কিছু প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন। প্রচার-প্রচারনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। প্রত্যেক প্রার্থীই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটে বেড়াচ্ছেন। জনগনকেও এলাকার উন্নয়নের জন্য দিচ্ছেন বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি। পোষ্টারে পোষ্টারে ছেয়ে গেছে পুরো নির্বাচনী এলাকা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া, মুড়াপাড়া, ভোলাবো, গোলাকান্দাইল ও ভুলতা ইউনিয়নের সর্বত্র বইছে নির্বাচনী হাওয়া। পাড়া মহল্লা, অলি-গলি ও চায়ের দোকান গুলোতে চলছে নির্বাচনে প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা। নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই প্রার্থীরা খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে কোমর বেঁধে নির্বাচনী মাঠে দিন-রাত সময় দিচ্ছেন। ভোটারদের সমর্থন আদায়ে দোকানপাট ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। তবে এলাকার রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ সার্বিক উন্নয়নে নিজেকে বিলিয়ে দেবেন এমন ব্যক্তিকেই ভোট দিতে চান ভোটাররা। কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ভোটার আজিম মিয়া, লোকমান হোসেন, স্বপনসহ অনেকে বলেন, সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকেই আমরা ভোট দেবো। তাকেই আমরা নির্বাচিত করবো যে সুখে দুঃখে মানুষের পাশে থাকবেন।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, ৫ টি ইউনিয়নের মধ্যে মুড়াপাড়া, গোলাকান্দাইল ও ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে কোন প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী না থাকায় আওয়ামীলীগ মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় জয়ী হয়েছেন। তারা হলেন, মুড়াপাড়ায় বর্তমান চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ আলমাছ, গোলাকান্দাইলে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি কামরুল হাসান তুহিন ও ভুলতায় বর্তমান চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আরিফুল হক ভুঁইয়া। এখন চেয়ারম্যান পদে বাকী ২ টি ইউনিয়নের মধ্যে কায়েতপাড়ায় আওয়ামীলীগ মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব মোহাম্মদ জাহেদ আলী ও ভোলাবোতে আওয়ামীলীগ মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থী এডভোকেট তায়েবুর রহমান সহ মোট ১২ জন লড়াই করছেন। এছাড়া ৫ টি ইউনিয়নে সাধারন সদস্য পদে মোট ১৫২ জন এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ৪৬ জন নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।
এদিকে, চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীরা জানান, এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চান তারা। এছাড়া মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত মডেল ইউনিয়ন গঠন করবেন বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
এ ব্যাপারে ভোলাবো ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনিত নৌকা প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থী এডভোকেট তায়েবুর রহমান বলেন, ভোলাবো ইউনিয়নের গরীব এবং মেহনতি মানুষের পাশে সবসময় থাকার চেষ্টা করেছি। তাই এখানকার ভোটাররা নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে।

এ ব্যাপারে কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনিত নৌকা প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব মোহাম্মদ জাহেদ আলী বলেন, নৌকা মানেই উন্নয়ন, নৌকা মানেই জনগণের কল্যাণ। জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। জনগণের ইচ্ছাতেই নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। তাই জনগণ নির্বাচনে ভোট দিয়ে পাশ করাবেন এ প্রত্যাশা করছি।
অপরদিকে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানালেন, রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, “নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে হবে। নির্বাচনে জনগণ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবে। কেউ নির্বাচনী আচরন লঙ্ঘন করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, আগামী ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া, মুড়াপাড়া, ভোলাবো, গোলাকান্দাইল ও ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে ৫ ইউনিয়নে মোট ৭৫ টি ভোট কেন্দ্রে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪২১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এদের মধ্যে নারী ভোটার ৮৫ হাজার ৯৪৬ জন ও পুরুষ ভোটার রয়েছেন ৮৮ হাজার ৪৭৫ জন।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















