০১:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বাক্ষর জাল, আটক ৪

রংপুরে পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বাক্ষর জাল করে ডিও লেটার দেয়ার ঘটনায় পুলিশসহ চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ওই চারজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।

গ্রেফতাররা হলেন- রংপুর সদর কোতোয়ালী থানা এলাকার মহেষপুর গ্রামের জিয়াউর রহমানের ছেলে মো. জুয়েল রানা(২৮), একই গ্রামের নয়া মিয়ার ছেলে মো. আল-আমিন (১৯), মিঠাপুকুর উপজেলার রুপসী গাছুয়াপাড়া গ্রামের মৃত সাইদুল হকের ছেলে মো. মোছাদ্দেক হোসেন (২০) ও গাইবান্ধার সাদুল্লাহ্পুর উপজেলার ফুলবাড়ী গ্রামের মৃত মোজাম্মেল হকের ছেলে পুলিশ সদস্য মাসুদার রহমান মাসুদ।

রংপুর জেলা পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে, রংপুরসহ দেশব্যাপী পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষায় সহায়তা ও চাকরি পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রংপুরে প্রতারক চক্রটি সংক্রিয় হয়ে উঠে। এ চক্রটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বাক্ষর জাল করে জেলা পুলিশকে ডিও লেটার দেন।

বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে জেলা গোয়েন্দা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল আলম পলাশের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম অনুসন্ধানে নামেন। গত বুধবার হতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চারজনকে প্রথমে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বাক্ষর জাল করা ডিও লেটারসহ প্রয়োজনীয় ভূয়া কাগজপত্র, ছবি জব্দ করেছে পুলিশ।

চক্রটি চাকরি প্রত্যাশী আল-আমিনকে পুলিশের কনস্টেবল পদে ভর্তির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়াসহ বিভিন্ন ভাবে নিয়োগ প্রদানের নিশ্চয়তা দেন। পরে জালিয়াতি এ চক্রের অন্যতম হোতা মাসুদার রহমান মাসুদের কথামতো আল-আমিন ঢাকায় গিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থাকা চক্রের অজ্ঞাত সদস্যদের কাছ থেকে মুখবন্ধ একটি খাকী খাম গ্রহণ করেন। এভাবে মাসুদ বিভিন্নজনের সাথে পুলিশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির স্বাক্ষর জালিয়াতি ও মূল্যবান জামানত জাল করে আসছিলেন।

গ্রেফতার চারজনসহ অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা রেকর্ড হয়েছে। মামলাটি তদন্তের ভার কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল-আমিনকে দেয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রশীদ জানান, জালিয়াতি চক্রের আটক চার সদস্যকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এছাড়া এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ভূয়া ডিও লেটার তৈরির অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে বলেও তিনি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :

মূল্যস্ফীতি আবার ৯ শতাংশ ছাড়াল, অস্বস্তি বেড়েছে খাদ্যেও

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বাক্ষর জাল, আটক ৪

প্রকাশিত : ০৪:৪০:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অক্টোবর ২০২১

রংপুরে পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বাক্ষর জাল করে ডিও লেটার দেয়ার ঘটনায় পুলিশসহ চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ওই চারজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।

গ্রেফতাররা হলেন- রংপুর সদর কোতোয়ালী থানা এলাকার মহেষপুর গ্রামের জিয়াউর রহমানের ছেলে মো. জুয়েল রানা(২৮), একই গ্রামের নয়া মিয়ার ছেলে মো. আল-আমিন (১৯), মিঠাপুকুর উপজেলার রুপসী গাছুয়াপাড়া গ্রামের মৃত সাইদুল হকের ছেলে মো. মোছাদ্দেক হোসেন (২০) ও গাইবান্ধার সাদুল্লাহ্পুর উপজেলার ফুলবাড়ী গ্রামের মৃত মোজাম্মেল হকের ছেলে পুলিশ সদস্য মাসুদার রহমান মাসুদ।

রংপুর জেলা পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে, রংপুরসহ দেশব্যাপী পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষায় সহায়তা ও চাকরি পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রংপুরে প্রতারক চক্রটি সংক্রিয় হয়ে উঠে। এ চক্রটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বাক্ষর জাল করে জেলা পুলিশকে ডিও লেটার দেন।

বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে জেলা গোয়েন্দা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল আলম পলাশের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম অনুসন্ধানে নামেন। গত বুধবার হতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চারজনকে প্রথমে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বাক্ষর জাল করা ডিও লেটারসহ প্রয়োজনীয় ভূয়া কাগজপত্র, ছবি জব্দ করেছে পুলিশ।

চক্রটি চাকরি প্রত্যাশী আল-আমিনকে পুলিশের কনস্টেবল পদে ভর্তির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়াসহ বিভিন্ন ভাবে নিয়োগ প্রদানের নিশ্চয়তা দেন। পরে জালিয়াতি এ চক্রের অন্যতম হোতা মাসুদার রহমান মাসুদের কথামতো আল-আমিন ঢাকায় গিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থাকা চক্রের অজ্ঞাত সদস্যদের কাছ থেকে মুখবন্ধ একটি খাকী খাম গ্রহণ করেন। এভাবে মাসুদ বিভিন্নজনের সাথে পুলিশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির স্বাক্ষর জালিয়াতি ও মূল্যবান জামানত জাল করে আসছিলেন।

গ্রেফতার চারজনসহ অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা রেকর্ড হয়েছে। মামলাটি তদন্তের ভার কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল-আমিনকে দেয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রশীদ জানান, জালিয়াতি চক্রের আটক চার সদস্যকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এছাড়া এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ভূয়া ডিও লেটার তৈরির অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে বলেও তিনি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর