নওগাঁ পোরশার দুটি গ্রামে সোমবার রাতে ৬টি মন্দিরের ১১টি প্রতিমা ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। এ নিন্দানীয় ঘটনায় শ্যামা পূজা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিলেও খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের সহযোগিতায় একটি মন্দিরে বাৎষরিক শ্যামাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করার ৪ দিন পার হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় আতঙ্কেও মধ্যে রয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। পোরশাসহ সারাদেশে প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনায় ও আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবি নওগাঁয় বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করা হয়েছে।
জানা গেছে, নওগাঁর পোরশা উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায় অধ্যুষিত গ্রাম ভবানীপুর ও এর পাশের শরিয়ালা গ্রাম। প্রতি বছর দুটি গ্রামের এসব মন্দিরে বাৎষরিক পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। পূজা উপলক্ষে সকল ধর্মেও লোকজন বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় পালন করে আসছিলেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সোমবার রাতে ভবানীপুর ও শরিয়ালা গ্রাম ৬টি মন্দিরের শ্রীশ্রী কালী, শিব, ল²ী, মনষাদেবীসহ ১১টি প্রতিমা ভাঙচুরের করা হয়েছে। পরদিন ঘটনাগুলো জানাজানি হলে স্থানীয় ও জেলা প্রশাসন ঘটনাস্থালে এসে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনদের আতঙ্কিত না হওয়ার আশ্বাস দিলে দুটি গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনদের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি।
পোরশাসহ সারাদেশে প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনায় জড়িতদের দ্রæত গ্রেপ্তারের দাবিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে নওগাঁ শহরের ব্রিজের মোড়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় আদিবাসী পরিষদ ও বাম গণতান্ত্রিক জোট নওগাঁ এর আয়োজন করে। বাম গণতান্ত্রিক জোট নওগাঁর সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট মহসিন রেজার সভাপতিত্বে বাসদের নওগাঁর সমন্বয়ক জয়নাল আবেদিন মুকুল, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সবিন মুন্ডা, জাতীয় আদিবাসী ছাত্র পরিষদ মহাদেবপুর শাখার সভাপতি চঞ্চল পাহান বক্তব্য রাখেন। এ সময় বক্তরা বলেন, সারাদেশে মন্দির, প্রতিমা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগকারিদের যথাযথ শাস্তি না হওয়ায় সারাদেশে একটি গোষ্ঠী বারবার এমন ঘটনা ঘটনোর সাহস পাচ্ছে। জড়িতদের দৃষ্টান্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলেই এমন সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটবে না। তাই দ্রæত জড়িতদের দৃষ্টান্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়েছে।
ভবানীপুর গ্রামের উত্তর কালী মন্দির কমিটির সভাপতি বিলাশ কুমার জানান, ভবানীপুর ও শরিয়ালা গ্রাম ৬টি মন্দিরের শ্রীশ্রী কালী, শিব, ল²ী, মনষাদেবীসহ ১১টি প্রতিমা ভাঙচুরের পর স্থানীয় প্রশাসনসহ পুলিশের উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ এসে ঘটনাস্থলগুলো পরিদর্শণ করে গেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
ভবানীপুর গ্রামের দনেশ চন্দ্র সাহা জানান, স্বাধীনতার পরে এলাকায় কোন এ ধরণের অপ্রীতিকর কোন ঘটনা ঘটেনি। এক সাথে ১১টি প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনায় এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
দক্ষিণ ভবানীপুর কালী মন্দিরের সদস্য বিপুল সাহা জানান, শ্যামা পূজা উপলক্ষে ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের পাশে দুটি মন্দিরে রাখা দুটি প্রতিমা ভেঙ্গে ফেলা হয়। এরপর এ বছর বাৎষরিক পূজা বন্ধা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে স্থানীয় সাংসদ ও খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের সহযোগিতায় দুইদিনের মধ্যে শ্যামা পূজার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মর্শিদপুর ইউনিয়ন পূজা উৎযাপন কমিটি সভাপতি পুলক সাহা জানান, কতোদিন এমন প্রশাসনিক নিরাপত্তা পাবেন এখন সেই প্রশ্নই দেখা দিয়েছে তাদের মধ্যে। তাদের মধ্যে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে যে কখন, কোথায়, কিভাবে আবারো এ ধরনের ভাংচুর করা হয়।
শরিয়ালা মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি অরুণ চন্দ্র বর্মণ, ঘটনারপর স্থানীয় ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভবানীপুর ও শরিয়ালা গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনদের নিরাপত্তা ও সকল ধরনের পূজা অনুষ্ঠান পালনের আশ্বাস দিয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিটির নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয় রতন সরকার ও প্রদ্যুৎ সাহা জানান, প্রতিমাগুলো ভাংচুরের পর থেকে প্রশাসনিক কর্তারা আসা-যাওয়া মধ্যে থাকলেও এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি প্রশাসন। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রæত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এামলার দাবি ও শরিয়ালা উত্তরপাড়া ল²ী মন্দির কমিটির সভাপতি প্রদীপ চন্দ্র বর্মণ জানান, থানায় মামলা দায়ের করার ৪ দিন পার হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। দ্রæত ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পোরশা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিউল আজম খান জানান, ঘটনায় মঙ্গলবার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হলে বিভিন্ন ভাবে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। দ্রæত জড়িতদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন ওসি।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















