“চাকুরী নয় সেবা” এই স্লোগানকে সামনে রেখে গাজীপুরে কোন প্রকার তদবির ছাড়াই ৭১ জন পুলিশ কন্সটেবল নিয়োগ পেয়েছে। এরমধ্যে চার জন নারী।
এদের একজন শিল্পী আক্তার। নিজের পরিচয়ে উদ্ভাসিত হয়ে, কর্মের মাধ্যমে নিজেকে তুলে ধরার। সেই স্বপ্নপূরণ করলো বাংলাদেশ পুলিশ। কনস্টেবল হিসেবে চাকরি পেয়েছেন শিল্পী। শিল্পী আক্তার গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার রতনপুর গ্রামের মৃত দুলাল মিয়ার মেয়ে।
শিল্পী আক্তার বলেন, ‘আমি যখন পুলেশর চাকরির জন্য আবেদন করিছিলাম তখন অনেকেই আমার মাকে এবং আমাকে বলেছিলেন পুলিশের চাকরি এতো সহজ নয়। অনেক টাকা লাগবে। তুমি পারবে না। মা ও আমি দুজনই নিরাস হয়েছিলাম। কিন্তু মাত্র ১৩০ টাকা খরচ করে আবেদন করে নিজের যোগ্যতাকে প্রমান করে পুলিশের চাকরিটা পেয়ে গেছি।’
সোমবার (৮ নভেম্বর) রাতে গাজীপুর জেলা পুলিশ লাইন্সে কনস্টেবল পদে নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পর চোখে পড়ে এমনই বহু গল্প। চাকরি পাওয়ার পর ৭১ তরুণ-তরুণীসহ অভিভাবকদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে ভেঙ্গে যায় রাতের নিস্তব্ধতা। পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরি পাওয়াদের মধ্যে চার তরুনীও আছেন।
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম শফিকুল ইসলামের মেয়ে সাদিয়া আক্তার। চাকরি পেয়েছেন তিনিও।
সাদিয়া বলেন, ইচ্ছা ছিলো পুলিশে চাকরি করবো। সেই ইচ্ছা আজ পূরন হলো। আমার চাকরি নিতে এক টাকা ঘুষ লাগেনি। তাই প্রতিক্ষা করেছি যতোদিন চাকরি করবো ততোদিন সততার সঙ্গেই চাকুরি করবো। মানুষের উপকার করবো। উপকার করতে না পারলে অন্তত ক্ষতি করাবো না।’
গাজীপুরের ভবানীপুর এলাকার লামিয়া আক্তার চাকরি পাওয়ার খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি বলেন, ‘চাকরিটা পেয়ে স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। কখনোই ভাবিনি চাকরিটা হবে। তবে চাকরি পাওয়ার জন্য নিজেকে মানসিক ও শারীরিকভাবে তৈরি করেছি।’
গাজীপুর সদরের জয়দেবপুর এলাকার মেঘলা ফেরদৌসি বলেন, ‘পুলিশের চাকরি পেয়েছি এখন আমি মাদক নির্মূলের জন্য কাজ করবো।’
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ কনস্টেবলে আবেদনের জন্য মাত্র ১০০ টাকা ব্যাংক ড্রাফ জামা দিয়ে অনলাইনে আবেদন করেন চাকরি প্রার্থীরা। এবার আবেদন পরেছিল দুই হাজার ৮৪০ টি। তাদের মধ্যে কাগজপত্র ও শারীরিক সক্ষমতা যাচাই শেষে যোগ্য হয়েছেন এক হাজার ৭৩ জন। দ্বিতীয় দিন সক্ষমতা যাচাই শেষে যোগ্য প্রার্থী হয়েছেন ৭১৭ জন। একইভাবে পরীক্ষা দিয়ে তৃতীয় দিনে নির্বাচিত হয় ৫৮৭ জন। তাদের লিখিত পরীক্ষায় উত্তির্ণ হন ১৯৮ জন তরুণ-তরুনী। মৌখিক পরীক্ষা শেষে চূরান্তভাবে উত্তীর্ণ হন ৭১ জন প্রার্থী। তাদের জন্য পোষ্য ৬ জন, মুক্তিযোদ্ধা কোঠায় ১২ জন, আনসার কোঠায় ১ জন, নারী চার জন ও সাধারন ৪৮ জন।
গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ বলেন, ‘শতভাগ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার মাধ্যমে মেধা ও যোগ্যতাভিত্তিক পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। প্রার্থীরা বেশ কয়েকটি ধাপ পেরিয়ে যোগ্যতা প্রমাণ করে চূড়ান্ত তালিকায় আসতে পেরেছেন। দালালরা যাতে প্রার্থীদের প্রতারিত করতে না পারে তার জন্য গোয়েন্দা পুলিশও কাজ করেছে।’
ট্রেনিং রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগ কমিটির সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার এস. এম শফিউল্লাহ বিপিএম। নিয়োগ প্রাপ্তদের নাম ঘোষণাকালে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শরফুদ্দীন, নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পরিত্রান তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।




















