নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাঁশগাড়ীতে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে নির্বাচনী কেন্দ্র দখলে নেয়ার চেষ্টায় সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ৩জন নিহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত বাঁশগাড়ি ইউনিয়নে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ৩জনের মৃত্যু হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে রায়পুরাতে দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় ৬জন ব্যক্তি প্রাণ হারালো।
নিহতরা হলেন, বাঁশগাড়ির বালুয়াকান্দি গ্রামের হেকিম মিয়ার ছেলে মো: সালাউদ্দিন মিয়া (৩০), আব্দুল হক মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর (২৬),বটতলীকান্দি গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে দুলাল মিয়া(২৬)।
নিহত সালাউদ্দিন ও জাহাঙ্গীর ওই ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রাতুল হাসান জাকিরের সমর্থক এবং দুলাল মিয়া নৌকার প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল হকের সমর্থক।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আজ সকাল ৮টা থেকে বাঁশগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। এই ইউপিতে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল হক। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে আছেন রাতুল হাসান (জাকির)। ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আশরাফুল পক্ষের সমর্থকদের গুলিতে রাতুল হাসান (জাকির) পক্ষের দুইজন। রাতুল হাসান সমর্থকদের হামলায় আশরাফুল হকের সমর্থকের ১জনের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত সালাউদ্দিনের স্ত্রী আঁখি বেগম জানান, গতকাল সারারাত ধরে এলাকায় পরপর ককটেল বিষ্ফোরণ করা হচ্ছিল। আজ ভোর ৬টার দিকে আমাদের ঘরের সামনে কয়েকটি ককটেল বিষ্ফোরণ করা হয়। তীব্র শব্দে ঘর থেকে বাইরে বের হন সালাউদ্দিন। এরপরই তার উড়োতে গুলি করে দেয় দুর্বৃত্ত্বরা। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তারা চলে যায়।
পরে তাঁর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন গুলিবিদ্ধ সালাউদ্দিনকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে হাসপাতালটির জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নরসিংদীর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুরা সার্কেল) সত্যজিৎ কুমার ঘোষ জানান, বাঁশগাড়িতে এখন পর্যন্ত গুলিবিদ্ধ হয়ে ৩জনের মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।




















