০১:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

ফের মহাসড়কের ফুটপাথ দখলের পায়তারা চাঁদাবাজদের

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্বিরগঞ্জের ব্যস্ততম শিমরাইল মোড়ে ফের ফুটপাথ দখলের পায়তারা করছে ফুটপাথ চাঁদাবাজ, মার্কেটগুলোর মালিক এবং আওয়ামীলীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতা। এজন্য তারা রাজনৈতিক প্রভাবখাটিয়ে প্রশাসনের বিভিন্নস্তরে তদবীর চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ব্যস্ততম শিমরাইল মোড়ে স্থায়ী যানজট নিরসনকল্পে এবং যানবহনের স্বাভাবিক চলাচলকল্পে কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ ইতিপূর্বে একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান চালায়। ঐ উচ্ছেদগুলোতে অবৈধ দোকান গুড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি ফুটপাথের ছোট-বড় দোকান উচ্ছেদ করে যানচলাচল স্বাভাবিক করে। এতে এ মহাসড়কে যানজট নিরসন হয়। বঞ্চিত হয় ফুটপাথে অবৈধভাবে প্রতিমাসে কয়েকলাখ টাকা চাঁদা উত্তোলনকারী চাঁদাবাজরা। এতে তারা ক্ষীপ্ত হয়ে ফের মহাসড়কের ফুটপাথ দখল করার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে রয়েছে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল, অর্থ বা রাজনৈতিক প্রভাবখাটিয়ে পুলিশকে ম্যানেজ করে ফের ফুটপাথ দখল। এরই অংশ হিসাবে ২৬ অক্টোবর হকার্সলীগ নেতা সেলিম রেজার নের্তৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল করা হয় হাইওয়ে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে ও ফুটপাথে হকারদের বসতে দেয়ার দাবিতে। বিক্ষোভ চলাকালীন সময়ে ঐ শ্রমিকলীগ নেতার নের্তৃত্বে হকাররা হাইওয়ে পুলিশের উচ্ছেদ অভিযানে বাধা দেয়। ফুটপাথের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে পুলিশ বাধা পাওয়ায় ঘটনাস্থল থেকে হকার্সলীগ নেতা ও একাধিক মামলার আসামী সেলিম রেজাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সে সময় সিদ্বিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী এক নেতা হাইওয়ের শিমরাইল ক্যাম্পের টিআই মশিউর আলমকে ফোন করে গ্রেপ্তারকৃত হকার্সলীগ নেতাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তদবির চালায়। যদিওবা হাইওয়ে পুলিশ ঐ তদবীর আমলে না নিয়ে ট্রাফিক সার্জেন্ট কুশল কুমার বাদী হয়ে হকার্সলীগ নেতা সেলিম রেজাসহ অজ্ঞাতদের আসামী করে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে হকাররা প্রতিদিন মহাসড়কের ফুটপাথ দখল করার চেষ্টা চালালে হাইওয়ে পুলিশের শিমরাইল ক্যাম্পের টিআই মোঃ মশিউর আলমের নেতৃত্বে পুলিশ বারংবার অভিযান চালিয়ে তাদের সেই চেষ্টা নস্যাত করে দিচ্ছে। হকরার ফুটপাথ দখল করে বসলে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হকাররা ফুটপাথ থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়। প্রতিমাসে ফুটপাথ থেকে কয়েক লাখ টাকা চাঁদা উত্তোলনকরা চিহিৃত চাঁদাবাজ, কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও হাইওয়ের পাশের কয়েকটি মার্কেটের মালিকরা রাজনৈতিক প্রভাবখাটিয়ে ফুটপাথ দখলের তদবীর ও পুলিশকে অর্থ দিয়ে ম্যানেজের চেষ্টায় নেমেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রলোভন, ব্যবসায়ীদের দিয়ে তদবীর ও কয়েকজন নেতা দলীয় প্রভাবখাটিয়ে হাইওয়ে পুলিশকে ম্যানেজ করার ব্যর্থ চেষ্টার কথা স্বীকার করে হাইওয়ে পুিলশের শিমরাইল ক্যাম্পের ইন্সপেক্টর টিআই মোঃ মশিউর আলম বলেন, নির্বিঘ্নে মহাসড়কে যানবাহন ও জনসাধারণ চলাচলের স্বার্থে উচ্ছেদকৃত জায়গায় আর দোকানপাট বসতে দেয়া হবে না। চাঁদাবাজ চক্রটি প্রতিমাসে কয়েক লাখ টাকা চাঁদা উত্তোলনের জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে লোভ ও ভয়ের উর্ধ্বে থেকে যানজটমুক্ত মহাসড়ক ও নির্বিঘ্নে জনসাধারণের চলাচলের জন্য হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছেন বলে জানান তিনি।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) সাজ্জাদ করিম খাঁন বলেন, শিমরাইলে মহাসড়ক ও ফুটপাতের উচ্ছেদকৃত জায়গায় আর কোন দোকানপাট বসতে দেওয়া হবে না এবং কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেয়া হবে না।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :

রহিম আফরোজের সাথে শাহ্ কর্পোরেশনের পথচলার ২৫ বছর পূর্তিতে মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

ফের মহাসড়কের ফুটপাথ দখলের পায়তারা চাঁদাবাজদের

প্রকাশিত : ০৮:২১:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২১

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্বিরগঞ্জের ব্যস্ততম শিমরাইল মোড়ে ফের ফুটপাথ দখলের পায়তারা করছে ফুটপাথ চাঁদাবাজ, মার্কেটগুলোর মালিক এবং আওয়ামীলীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতা। এজন্য তারা রাজনৈতিক প্রভাবখাটিয়ে প্রশাসনের বিভিন্নস্তরে তদবীর চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ব্যস্ততম শিমরাইল মোড়ে স্থায়ী যানজট নিরসনকল্পে এবং যানবহনের স্বাভাবিক চলাচলকল্পে কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ ইতিপূর্বে একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান চালায়। ঐ উচ্ছেদগুলোতে অবৈধ দোকান গুড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি ফুটপাথের ছোট-বড় দোকান উচ্ছেদ করে যানচলাচল স্বাভাবিক করে। এতে এ মহাসড়কে যানজট নিরসন হয়। বঞ্চিত হয় ফুটপাথে অবৈধভাবে প্রতিমাসে কয়েকলাখ টাকা চাঁদা উত্তোলনকারী চাঁদাবাজরা। এতে তারা ক্ষীপ্ত হয়ে ফের মহাসড়কের ফুটপাথ দখল করার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে রয়েছে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল, অর্থ বা রাজনৈতিক প্রভাবখাটিয়ে পুলিশকে ম্যানেজ করে ফের ফুটপাথ দখল। এরই অংশ হিসাবে ২৬ অক্টোবর হকার্সলীগ নেতা সেলিম রেজার নের্তৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল করা হয় হাইওয়ে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে ও ফুটপাথে হকারদের বসতে দেয়ার দাবিতে। বিক্ষোভ চলাকালীন সময়ে ঐ শ্রমিকলীগ নেতার নের্তৃত্বে হকাররা হাইওয়ে পুলিশের উচ্ছেদ অভিযানে বাধা দেয়। ফুটপাথের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে পুলিশ বাধা পাওয়ায় ঘটনাস্থল থেকে হকার্সলীগ নেতা ও একাধিক মামলার আসামী সেলিম রেজাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সে সময় সিদ্বিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী এক নেতা হাইওয়ের শিমরাইল ক্যাম্পের টিআই মশিউর আলমকে ফোন করে গ্রেপ্তারকৃত হকার্সলীগ নেতাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তদবির চালায়। যদিওবা হাইওয়ে পুলিশ ঐ তদবীর আমলে না নিয়ে ট্রাফিক সার্জেন্ট কুশল কুমার বাদী হয়ে হকার্সলীগ নেতা সেলিম রেজাসহ অজ্ঞাতদের আসামী করে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে হকাররা প্রতিদিন মহাসড়কের ফুটপাথ দখল করার চেষ্টা চালালে হাইওয়ে পুলিশের শিমরাইল ক্যাম্পের টিআই মোঃ মশিউর আলমের নেতৃত্বে পুলিশ বারংবার অভিযান চালিয়ে তাদের সেই চেষ্টা নস্যাত করে দিচ্ছে। হকরার ফুটপাথ দখল করে বসলে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হকাররা ফুটপাথ থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়। প্রতিমাসে ফুটপাথ থেকে কয়েক লাখ টাকা চাঁদা উত্তোলনকরা চিহিৃত চাঁদাবাজ, কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও হাইওয়ের পাশের কয়েকটি মার্কেটের মালিকরা রাজনৈতিক প্রভাবখাটিয়ে ফুটপাথ দখলের তদবীর ও পুলিশকে অর্থ দিয়ে ম্যানেজের চেষ্টায় নেমেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রলোভন, ব্যবসায়ীদের দিয়ে তদবীর ও কয়েকজন নেতা দলীয় প্রভাবখাটিয়ে হাইওয়ে পুলিশকে ম্যানেজ করার ব্যর্থ চেষ্টার কথা স্বীকার করে হাইওয়ে পুিলশের শিমরাইল ক্যাম্পের ইন্সপেক্টর টিআই মোঃ মশিউর আলম বলেন, নির্বিঘ্নে মহাসড়কে যানবাহন ও জনসাধারণ চলাচলের স্বার্থে উচ্ছেদকৃত জায়গায় আর দোকানপাট বসতে দেয়া হবে না। চাঁদাবাজ চক্রটি প্রতিমাসে কয়েক লাখ টাকা চাঁদা উত্তোলনের জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে লোভ ও ভয়ের উর্ধ্বে থেকে যানজটমুক্ত মহাসড়ক ও নির্বিঘ্নে জনসাধারণের চলাচলের জন্য হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছেন বলে জানান তিনি।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) সাজ্জাদ করিম খাঁন বলেন, শিমরাইলে মহাসড়ক ও ফুটপাতের উচ্ছেদকৃত জায়গায় আর কোন দোকানপাট বসতে দেওয়া হবে না এবং কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেয়া হবে না।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ