০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্বাভাবিক প্রসবে ৫ কেজি ওজনের এক কন্যা শিশুর জন্ম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে ৫ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি কন্যা শিশুর জন্ম দিয়েছেন এক মা।
রোববার দুপুর দেড়টার দিকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে শিশুটির জন্ম হয়।
জেলা শহরের ট্যাংকেরপাড় এলাকার সুজন মিয়ার স্ত্রী মুন্নি বেগম নামে এক প্রসূতি মা গতকাল ১৪ নভেম্বর সকাল আটটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি হন তিনি। পরে দুপুর দেড়টার দিকে ওই মা ৫ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি মেয়ে শিশুর জন্ম দেন। অস্বাভাবিক ওজনের শিশুর জন্মের খবর পেয়ে হাসপাতালের নার্স, চিকিৎসকসহ উৎসুক জনতা ভিড় করেন। মা ও শিশু সুস্থ থাকায় দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন।

হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স স্মৃতি রানী রায় জানান ‘আগে থেকেই জানা ছিলো শিশুর ওজন বেশি। এতো ওজন শিশুর স্বাভাবিক প্রসব করার কথা শোনে প্রথমে খুব ভয় পেয়ে গেছিলাম ও টেনশন কাজ করছিলো। পরে ডা. ফৌজিয়া আখাতারের দিক নির্দেশনায় স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে ৫ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি ফুটফুটে মেয়ে শিশু জন্মগ্রহণ করে। মা ও শিশু দুজনই সুস্থ আছেন। এটি তার দ্বিতীয় সন্তান। খুবই ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে এ যেন এক অসাধ্য সাধন।’
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. ফৌজিয়া আখতার বলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বেশি ওজনের শিশুদের বলা হয় ম্যাক্সোসোনিয়া। এ ধরনের শিশুর মা-বাবা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে অথবা শিশুর মা-বাবার বেশি ওজন হলে ম্যাক্সোসোনিয়া (বেশি ওজনের) শিশুর জন্ম হতে পারে। তবে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো এ ধরনের কোনো লক্ষণ শিশুর মা বাবার নেই।
তিনি বলেন, মা-বাবার গ্রোথ বেশি হলে, সে ক্ষেত্রে সন্তান ও একটু বড় হয়। শিশুটির মা-বাবার গ্রোথ একটু বেশি ছিলো। এর আগে ২০০৭ সালে রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে ৬ কেজি ওজনের বাচ্চা জন্ম নেয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে চলতি বছরের ২ এপ্রিল ৫ কেজি ৭০০ গ্রামের ওজনের একটি শিশু সিজারের মাধ্যমে জন্ম নেন। কিন্তু আজ জন্ম নেওয়া ৫ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের শিশুটি স্বাবাভিক প্রসবের মাধ্যমে জন্ম নেয়।
তিনি আরো বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে মিডওয়াইফ নার্স (গাইনি বিষয়ে উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত নার্স) ৯ জন নার্স রয়েছে। তারা নরমাল বাচ্ছা ডেলিভারিতে খুব অভিজ্ঞ। আজ দুপুরে নরমাল ডেলিভারি করার জন্য হাসপাতালের সিনিয়র মিডওয়াইফ নার্স স্মৃতি রানী রায়কে বললে, স্মৃতি প্রথমে একটু ঘাবড়ে ও ভয় পেয়ে যান। শিশুর পরিবারও চাচ্ছিলো স্বাভাবিক প্রসবের জন্য। স্মৃতিকে সাহস দিয়ে বলি তুমি পারবে। পরে নরমাল ডেলেভারির মাধ্যমে ৫ কেজি ১০০ গ্রামের ফুটফুটে একটি মেয়ে সন্তান জন্মগ্রহণ করে। জন্মের পর বাচ্ছাটিকে কোলে নিয়ে স্মৃতি হাপিয়ে যাচ্ছিলো, সারা শরীর দিয়ে তার ঘাম জড়ছিলো। তখন সবার মুখে ছিলো এক প্রশান্তির হাসি।’

স্বাভাবিক ডেলিভারির আগে প্রসূতি মায়ের সব কিছু স্বাভাবিক ছিলো। ডেলিভারির পরেও প্রসূতির তেমন কোনো রক্তক্ষরণ হয়নি। মা-শিশু দুজন সুস্থ আছেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :

মূল্যস্ফীতি আবার ৯ শতাংশ ছাড়াল, অস্বস্তি বেড়েছে খাদ্যেও

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্বাভাবিক প্রসবে ৫ কেজি ওজনের এক কন্যা শিশুর জন্ম

প্রকাশিত : ০৪:৪৮:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ নভেম্বর ২০২১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে ৫ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি কন্যা শিশুর জন্ম দিয়েছেন এক মা।
রোববার দুপুর দেড়টার দিকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে শিশুটির জন্ম হয়।
জেলা শহরের ট্যাংকেরপাড় এলাকার সুজন মিয়ার স্ত্রী মুন্নি বেগম নামে এক প্রসূতি মা গতকাল ১৪ নভেম্বর সকাল আটটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি হন তিনি। পরে দুপুর দেড়টার দিকে ওই মা ৫ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি মেয়ে শিশুর জন্ম দেন। অস্বাভাবিক ওজনের শিশুর জন্মের খবর পেয়ে হাসপাতালের নার্স, চিকিৎসকসহ উৎসুক জনতা ভিড় করেন। মা ও শিশু সুস্থ থাকায় দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন।

হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স স্মৃতি রানী রায় জানান ‘আগে থেকেই জানা ছিলো শিশুর ওজন বেশি। এতো ওজন শিশুর স্বাভাবিক প্রসব করার কথা শোনে প্রথমে খুব ভয় পেয়ে গেছিলাম ও টেনশন কাজ করছিলো। পরে ডা. ফৌজিয়া আখাতারের দিক নির্দেশনায় স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে ৫ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি ফুটফুটে মেয়ে শিশু জন্মগ্রহণ করে। মা ও শিশু দুজনই সুস্থ আছেন। এটি তার দ্বিতীয় সন্তান। খুবই ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে এ যেন এক অসাধ্য সাধন।’
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. ফৌজিয়া আখতার বলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বেশি ওজনের শিশুদের বলা হয় ম্যাক্সোসোনিয়া। এ ধরনের শিশুর মা-বাবা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে অথবা শিশুর মা-বাবার বেশি ওজন হলে ম্যাক্সোসোনিয়া (বেশি ওজনের) শিশুর জন্ম হতে পারে। তবে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো এ ধরনের কোনো লক্ষণ শিশুর মা বাবার নেই।
তিনি বলেন, মা-বাবার গ্রোথ বেশি হলে, সে ক্ষেত্রে সন্তান ও একটু বড় হয়। শিশুটির মা-বাবার গ্রোথ একটু বেশি ছিলো। এর আগে ২০০৭ সালে রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে ৬ কেজি ওজনের বাচ্চা জন্ম নেয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে চলতি বছরের ২ এপ্রিল ৫ কেজি ৭০০ গ্রামের ওজনের একটি শিশু সিজারের মাধ্যমে জন্ম নেন। কিন্তু আজ জন্ম নেওয়া ৫ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের শিশুটি স্বাবাভিক প্রসবের মাধ্যমে জন্ম নেয়।
তিনি আরো বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে মিডওয়াইফ নার্স (গাইনি বিষয়ে উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত নার্স) ৯ জন নার্স রয়েছে। তারা নরমাল বাচ্ছা ডেলিভারিতে খুব অভিজ্ঞ। আজ দুপুরে নরমাল ডেলিভারি করার জন্য হাসপাতালের সিনিয়র মিডওয়াইফ নার্স স্মৃতি রানী রায়কে বললে, স্মৃতি প্রথমে একটু ঘাবড়ে ও ভয় পেয়ে যান। শিশুর পরিবারও চাচ্ছিলো স্বাভাবিক প্রসবের জন্য। স্মৃতিকে সাহস দিয়ে বলি তুমি পারবে। পরে নরমাল ডেলেভারির মাধ্যমে ৫ কেজি ১০০ গ্রামের ফুটফুটে একটি মেয়ে সন্তান জন্মগ্রহণ করে। জন্মের পর বাচ্ছাটিকে কোলে নিয়ে স্মৃতি হাপিয়ে যাচ্ছিলো, সারা শরীর দিয়ে তার ঘাম জড়ছিলো। তখন সবার মুখে ছিলো এক প্রশান্তির হাসি।’

স্বাভাবিক ডেলিভারির আগে প্রসূতি মায়ের সব কিছু স্বাভাবিক ছিলো। ডেলিভারির পরেও প্রসূতির তেমন কোনো রক্তক্ষরণ হয়নি। মা-শিশু দুজন সুস্থ আছেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ