০৬:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

পৌরসভা বর্জ্যের দূর্গন্ধে নাকাল হাজার হাজার পথচারী

সাতক্ষীরা পৌরসভা বর্জ্য ব্যাবস্থাপনার উদাসীনতায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যশোর সড়কের যাত্রী সাধারণ সহ পথচারীদের।  সাতক্ষীরা শহরের অদুরে যশোর- সাতক্ষীরা সড়কের বাইপাস চৌরঙ্গী মোড়ের কাছেই পৌরসভার বর্জ্য দিয়ে গত ১ যুগ ধরে নিচু জমি ভরাট করছে কতিপয় জমির মালিকরা। প্রতিদিন সড়কটি দিয়ে যাতায়াতকারী যাত্রী সাধারণ সহ আশপাশের গ্রামের অধিবাসীরা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। সড়কের পাশে ময়লার ভাগাড় করায় বর্জ্যক্রিয়ায় ঐ এলাকার ফলজ, ঔষধী গাছ সহ কমপক্ষে ৫০ টি গাছ শুখিয়ে মারা গেছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গাছের গুরুত্ব রক্ষায় কেউ প্রতিবাদ তো দুরের কথা সরকারের সকল সংশ্লিষ্ট বিভাগ যেন নির্বিকার। যে সমস্থ গাছ মারা গেছে তাঁর আনুমানিক বাজার দর কমপক্ষে ৫ লক্ষ টাকা বলে দাবী করেছেন বে-সরকারী পরিবেশ কর্মী শাহ-আলম। সরেজমিনে দেখা গেছে,ভোর থেকে রাত পর্যস্ত এ সড়ক দিয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ছয়ঘরিয়া, মাধবকাটি তুজুলপুর, চৌবাড়িয়া, হাজিপুর সহ ৩০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ছোট ছোট যানবাহনে যাতায়াত করে। এদের মধ্যে পেশাজীবী শ্রমজীবী মানুষ সহ স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরাও রয়েছে।বর্জ্যের দূর্গন্ধে নাকে হাত দিয়ে নিঃশ্বাস বন্ধ করে ঐ স্থানটি পার হয়ে যায়। অনেক সময় দূর্গন্ধের তীব্রতা এতই প্রকট হয় যে পথচারীদের বমি করতেও দেখা গেছে।নিয়মিত বাইসাকেলে চলাচলকারী সাতক্ষীরা সরকারী কলেজের শিক্ষার্থী নাজমুল সাদাত জানিয়েছে, এ দূর্গন্ধের কারনে বেশিরভাগ সময় পেটের পিড়ায় ভুগতে হয় ।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরার কৃষক সংঘটক গাছের পাটশালার প্রতিষ্টাতা ইয়ারব হোসেন জানান, গত ১ যুগ ধরে সাতক্ষীরা পৌরসভার বর্জ্যে ছঘরিয়া এলকায় ১০০শ বেশি গাছ হত্যা করা হয়েছে। পরিত্রাণের জন্য জেলার সকল কর্ণধর ব্যক্তিবর্গের হস্তক্ষেপ কামনা করেও কোন লাভ হয়নি। তিনি সর্বশেষ সংশ্লিষ্ট বিভাগে, পৌরসভা, সড়ক ও জনপথ,পরিবেশ অধিদপ্তর, বন বিভাগের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। সাতক্ষীরার প্রবীণ সাংবাদিক পরিবেশ বিশেষজ্ঞ জাহাঙ্গীর আলম কবীর এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন,বর্জ্যক্রিয়ায় নিসৃত তরল জীববৈচিত্রের মারাত্বক ক্ষতিকর। জলজ সহ বিভিন্ন কীটপতঙ্গের জন্য হুমকিস্বরুপ। তাই অচিরেই এর থেকে পরিত্রাণে সংশ্লিষ্ট বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পৌরমেয়র তাসকিন আহম্মেদ চিশতীর সেল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। তবে এ নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের জন্য গত ২০১৮ সালে তিনি জানিয়েছিলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার রিসাইকেলিং এর জন্য একটি প্রকল্প সাতক্ষীরা বিসিকে বাস্তবায়ন করা হবে। সাধারণের দাবী বর্জ্যের নিঃসরণ রিসাইকেলিং প্রকল্পটি কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ রেখে জনদূর্ভোগ কি রয়েই যাবে!

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :

রহিম আফরোজের সাথে শাহ্ কর্পোরেশনের পথচলার ২৫ বছর পূর্তিতে মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

পৌরসভা বর্জ্যের দূর্গন্ধে নাকাল হাজার হাজার পথচারী

প্রকাশিত : ০৫:৫৩:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ নভেম্বর ২০২১

সাতক্ষীরা পৌরসভা বর্জ্য ব্যাবস্থাপনার উদাসীনতায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যশোর সড়কের যাত্রী সাধারণ সহ পথচারীদের।  সাতক্ষীরা শহরের অদুরে যশোর- সাতক্ষীরা সড়কের বাইপাস চৌরঙ্গী মোড়ের কাছেই পৌরসভার বর্জ্য দিয়ে গত ১ যুগ ধরে নিচু জমি ভরাট করছে কতিপয় জমির মালিকরা। প্রতিদিন সড়কটি দিয়ে যাতায়াতকারী যাত্রী সাধারণ সহ আশপাশের গ্রামের অধিবাসীরা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। সড়কের পাশে ময়লার ভাগাড় করায় বর্জ্যক্রিয়ায় ঐ এলাকার ফলজ, ঔষধী গাছ সহ কমপক্ষে ৫০ টি গাছ শুখিয়ে মারা গেছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গাছের গুরুত্ব রক্ষায় কেউ প্রতিবাদ তো দুরের কথা সরকারের সকল সংশ্লিষ্ট বিভাগ যেন নির্বিকার। যে সমস্থ গাছ মারা গেছে তাঁর আনুমানিক বাজার দর কমপক্ষে ৫ লক্ষ টাকা বলে দাবী করেছেন বে-সরকারী পরিবেশ কর্মী শাহ-আলম। সরেজমিনে দেখা গেছে,ভোর থেকে রাত পর্যস্ত এ সড়ক দিয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ছয়ঘরিয়া, মাধবকাটি তুজুলপুর, চৌবাড়িয়া, হাজিপুর সহ ৩০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ছোট ছোট যানবাহনে যাতায়াত করে। এদের মধ্যে পেশাজীবী শ্রমজীবী মানুষ সহ স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরাও রয়েছে।বর্জ্যের দূর্গন্ধে নাকে হাত দিয়ে নিঃশ্বাস বন্ধ করে ঐ স্থানটি পার হয়ে যায়। অনেক সময় দূর্গন্ধের তীব্রতা এতই প্রকট হয় যে পথচারীদের বমি করতেও দেখা গেছে।নিয়মিত বাইসাকেলে চলাচলকারী সাতক্ষীরা সরকারী কলেজের শিক্ষার্থী নাজমুল সাদাত জানিয়েছে, এ দূর্গন্ধের কারনে বেশিরভাগ সময় পেটের পিড়ায় ভুগতে হয় ।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরার কৃষক সংঘটক গাছের পাটশালার প্রতিষ্টাতা ইয়ারব হোসেন জানান, গত ১ যুগ ধরে সাতক্ষীরা পৌরসভার বর্জ্যে ছঘরিয়া এলকায় ১০০শ বেশি গাছ হত্যা করা হয়েছে। পরিত্রাণের জন্য জেলার সকল কর্ণধর ব্যক্তিবর্গের হস্তক্ষেপ কামনা করেও কোন লাভ হয়নি। তিনি সর্বশেষ সংশ্লিষ্ট বিভাগে, পৌরসভা, সড়ক ও জনপথ,পরিবেশ অধিদপ্তর, বন বিভাগের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। সাতক্ষীরার প্রবীণ সাংবাদিক পরিবেশ বিশেষজ্ঞ জাহাঙ্গীর আলম কবীর এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন,বর্জ্যক্রিয়ায় নিসৃত তরল জীববৈচিত্রের মারাত্বক ক্ষতিকর। জলজ সহ বিভিন্ন কীটপতঙ্গের জন্য হুমকিস্বরুপ। তাই অচিরেই এর থেকে পরিত্রাণে সংশ্লিষ্ট বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পৌরমেয়র তাসকিন আহম্মেদ চিশতীর সেল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। তবে এ নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের জন্য গত ২০১৮ সালে তিনি জানিয়েছিলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার রিসাইকেলিং এর জন্য একটি প্রকল্প সাতক্ষীরা বিসিকে বাস্তবায়ন করা হবে। সাধারণের দাবী বর্জ্যের নিঃসরণ রিসাইকেলিং প্রকল্পটি কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ রেখে জনদূর্ভোগ কি রয়েই যাবে!

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর