২০১৩ সালে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়–য়া অবস্থায় আরাফাত হোসেন বাবা মায়ের সাথে বিচ্ছেদ হয়। টাঙ্গাইল শহরের আদালত পাড়া এলাকায় নানীর বাসার পাশে মাকে নিয়ে বাসা করে বসবাস করেন। আত্মীয় স্বজনের সহযোগিতা ও নিজে টিউশনী করে চলে সংসার ও পড়াশোনা। তার ছোট বেলা থেকেই স্বপ্ন ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর গুচ্ছ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। গত বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) ফলাফল বের হয়েছে। সেই ফলাফলে তিনি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। চাইলেই তিনি এখন খুলনা, চট্টগ্রাম বা রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবেন। তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের সিড়ির কাছে এসেও তা ভেঙ্গে যাচ্ছে। টাকার অভাবে ভর্তি হওয়া অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
আরাফাত হোসেন পূর্ব আদালতপাড়ার হেনা রহমানের ছেলে। তার বাবা আরিফ হোসেন বাসাইল উপজেলার ময়থা গ্রামের বাসিন্দা। প্রথম দিকে আত্মীয় স্বজনের সহায়তায় চলতে থাকে লেখাপড়া। পরে বড় ক্লাশে উঠার পর পড়াশোনার পাশাপাশি শুরু করেন টিউশনি। ২০১৮ সালে টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে গোল্ডেন জিপিএ ৫ পান। পরে তিনি ঢাকার নটরডেম কলেজে ভর্তি হয়। সেখানে টিউশনী করেই তার পড়াশোনা করেন। ২০২০ সালে এইচএসসিতেও গোল্ডেন জিপিএ ৫ পান।
শনিবার (২০ নভেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইল শহরে কথা হয় আরাফাত হোসেনের সাথে। তিনি জানান, তার মা হেনা রহমান ডায়াবেটিক হাপানিসহ নানা রোগে আক্রান্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরীক্ষা পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি এবং আত্মীয় স্বজনদের সহায়তায় তাদের চলতে হয়। এ অবস্থায় প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এবং লেখা পড়ার খরচ কিভাবে যোগাবে সে চিন্তায় পড়েছে আরাফাত ও তার মা। মানুষের সহযোগিতা আর মাত্র চারটি বছর পড়তে পারলেই তার স্বপ্ন তিনি বাস্তবায়ন করতে পারবেন।
আরাফাতের মা হেনা রহমান জানান, কিভাবে ছেলেটাকে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াবে সে চিন্তায় তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। অনেক কষ্ট করে ছেলেকে এ পর্যন্ত পড়িয়েছেন। এখন একটু সহায়তা পেলে ছেলের স্বপ্ন পূরণ হতো। তাই সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
আরাফাত হোসেন বলেন, কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি তার লেখাপড়ার জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করতো তাহলে তার প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ হতো। না হলে তার ভর্তি ও পড়াশোনা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে। নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে অটুট আরাফাত হোসেন। তাই সামর্থবানদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















