১১:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

নির্বাচনে ভোটের মাঠে লড়বেন সংবাদপত্রের হকার হাবিবুর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনে সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে তালা প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে লড়বেন হাবিবুর রহমান হাবিব (৩৫) নামের এক সংবাদপত্রের হকার।

৪ নম্বর ওয়ার্ডের (বাদে অরুয়াইল-বারপাইকা) সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। হাবিবুর অরুয়াইল ইউনিয়নের বাদে-অরুয়াইল গ্রামের শুক্কুর মিয়ার ছেলে। তিনি অরুয়াইল ও পাকশিমুল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে সংবাদপত্র বিক্রি করেন। জনসেবার ব্রত নিয়ে এবার জনপ্রতিনিধি হওয়ার লড়াইয়ে নেমেছেন মো.হাবিবুর রহমান হাবিব।

তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে দ্বিতীয় হাবিবুর। আর ভাইদের মধ্যে সবার বড়। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া হাবিবুরের হঠাৎ করে ভোটে লড়ার আগ্রহে সায় দেননি বাবা শুক্কুর মিয়া। ছেলের নির্বাচনে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা এলাকায় জানাজানি হলে শুক্কুর মিয়াকে দেখে অনেকেই টিপ্পনি কাটতে শুরু করেন। মানুষজনের এ টিপ্পনির জবাব দিতে হাবিবুরকে ভোটে লড়ার অনুমতি দেন বাবা শুক্কুর মিয়া। পরবর্তীতে পরিবারের বাকি সদস্যরাও উৎসাহ দেন।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী ২৮ নভেম্বর সরাইল উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে অরুয়াইল ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড (বাদে-অরুয়াইল ও বারপাইকা গ্রাম) থেকে সাধারণ সদস্য পদে হাবিবুরসহ সাতজন প্রার্থী লড়ছেন। নির্বাচনে হাবিবুর লড়ছেন ‘তালা’ প্রতীক নিয়ে। তাকে ঘিরেই এখন সর্বত্র আলোচনা। তবে নির্বাচনী প্রচারণার মধ্যেও পত্রিকা বিক্রি বন্ধ করেননি হাবিবুর।

সরাইল উপজেলা সদর থেকে হাবিবুরের কাছে সকাল ৮টা নাগাদ পত্রিকা পৌঁছায়। এরপর দুপুর ১টা পর্যন্ত গ্রাহকদের কাছে পত্রিকা বিলি করেন হাবিবুর। পত্রিকা বিলির পর বাকি সময় নির্বাচনী প্রচারণা চালান। যদি ভোটে বিজয়ী হন, তাহলেও পত্রিকা বিক্রি ছাড়বেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।

হাবিবুর জানান, ছোটবেলা থেকেই পত্রিকা পড়েন তিনি। প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় এক সময় অরুয়াইল বাজারে পত্রিকা আসা বন্ধ হয়ে যায়। সেজন্য তিনি নিজেই পত্রিকা বিক্রির উদ্যোগ নেন। পত্রিকার প্রতি ভালোবাসা থেকেই গত সাত বছর ধরে তিনি অরুয়াইল বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় পত্রিকা বিক্রি করছেন। পত্রিকা বিক্রি করে মাসে গড়ে সাড়ে ৭ হাজার টাকা আয় করেন তিনি। এর পাশাপাশি অরুয়াইল বাজারে একটি টেলিকমের দোকান রয়েছে তার।

সংবাদপত্রের হকার হাবিবুর বলেন, টাকা-পয়সা নেই বলে বাবা প্রথমে ভোটে লড়ার পক্ষে মত দেননি। কিন্তু মায়ের মত ছিল। কারণ মা জানত আমি সবসময় মানুষের জন্য কথা বলি, মানুষের জন্য আমার মন কাঁদে। পরবর্তীতে বাবাসহ পরিবারের সবাই মত দেয়। এখন ভোটাররাও আমাকে ভালোভাবে নিয়েছে’।

তিনি আরও বলেন, যদি নির্বাচনে বিজয়ী হই, তাহলে জনবেসায় নিজেকে পুরোপুরি নিয়োজিত করব। পাশাপাশি পত্রিকা বিক্রির কাজও করে যাব’।

সরাইল উপজেলা সদরের পত্রিকা এজেন্ট জাকির পত্রিকা বিতানের স্বত্বাধিকারী জাকির হোসেন বলেন,হাবিব সদস্য পদে নির্বাচন করছেন শুনে খুশি হয়েছি, হাবিবুর খুব পরিশ্রমী ও ভালো ছেলে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :

মূল্যস্ফীতি আবার ৯ শতাংশ ছাড়াল, অস্বস্তি বেড়েছে খাদ্যেও

নির্বাচনে ভোটের মাঠে লড়বেন সংবাদপত্রের হকার হাবিবুর

প্রকাশিত : ০৬:২০:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ নভেম্বর ২০২১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনে সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে তালা প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে লড়বেন হাবিবুর রহমান হাবিব (৩৫) নামের এক সংবাদপত্রের হকার।

৪ নম্বর ওয়ার্ডের (বাদে অরুয়াইল-বারপাইকা) সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। হাবিবুর অরুয়াইল ইউনিয়নের বাদে-অরুয়াইল গ্রামের শুক্কুর মিয়ার ছেলে। তিনি অরুয়াইল ও পাকশিমুল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে সংবাদপত্র বিক্রি করেন। জনসেবার ব্রত নিয়ে এবার জনপ্রতিনিধি হওয়ার লড়াইয়ে নেমেছেন মো.হাবিবুর রহমান হাবিব।

তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে দ্বিতীয় হাবিবুর। আর ভাইদের মধ্যে সবার বড়। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া হাবিবুরের হঠাৎ করে ভোটে লড়ার আগ্রহে সায় দেননি বাবা শুক্কুর মিয়া। ছেলের নির্বাচনে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা এলাকায় জানাজানি হলে শুক্কুর মিয়াকে দেখে অনেকেই টিপ্পনি কাটতে শুরু করেন। মানুষজনের এ টিপ্পনির জবাব দিতে হাবিবুরকে ভোটে লড়ার অনুমতি দেন বাবা শুক্কুর মিয়া। পরবর্তীতে পরিবারের বাকি সদস্যরাও উৎসাহ দেন।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী ২৮ নভেম্বর সরাইল উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে অরুয়াইল ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড (বাদে-অরুয়াইল ও বারপাইকা গ্রাম) থেকে সাধারণ সদস্য পদে হাবিবুরসহ সাতজন প্রার্থী লড়ছেন। নির্বাচনে হাবিবুর লড়ছেন ‘তালা’ প্রতীক নিয়ে। তাকে ঘিরেই এখন সর্বত্র আলোচনা। তবে নির্বাচনী প্রচারণার মধ্যেও পত্রিকা বিক্রি বন্ধ করেননি হাবিবুর।

সরাইল উপজেলা সদর থেকে হাবিবুরের কাছে সকাল ৮টা নাগাদ পত্রিকা পৌঁছায়। এরপর দুপুর ১টা পর্যন্ত গ্রাহকদের কাছে পত্রিকা বিলি করেন হাবিবুর। পত্রিকা বিলির পর বাকি সময় নির্বাচনী প্রচারণা চালান। যদি ভোটে বিজয়ী হন, তাহলেও পত্রিকা বিক্রি ছাড়বেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।

হাবিবুর জানান, ছোটবেলা থেকেই পত্রিকা পড়েন তিনি। প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় এক সময় অরুয়াইল বাজারে পত্রিকা আসা বন্ধ হয়ে যায়। সেজন্য তিনি নিজেই পত্রিকা বিক্রির উদ্যোগ নেন। পত্রিকার প্রতি ভালোবাসা থেকেই গত সাত বছর ধরে তিনি অরুয়াইল বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় পত্রিকা বিক্রি করছেন। পত্রিকা বিক্রি করে মাসে গড়ে সাড়ে ৭ হাজার টাকা আয় করেন তিনি। এর পাশাপাশি অরুয়াইল বাজারে একটি টেলিকমের দোকান রয়েছে তার।

সংবাদপত্রের হকার হাবিবুর বলেন, টাকা-পয়সা নেই বলে বাবা প্রথমে ভোটে লড়ার পক্ষে মত দেননি। কিন্তু মায়ের মত ছিল। কারণ মা জানত আমি সবসময় মানুষের জন্য কথা বলি, মানুষের জন্য আমার মন কাঁদে। পরবর্তীতে বাবাসহ পরিবারের সবাই মত দেয়। এখন ভোটাররাও আমাকে ভালোভাবে নিয়েছে’।

তিনি আরও বলেন, যদি নির্বাচনে বিজয়ী হই, তাহলে জনবেসায় নিজেকে পুরোপুরি নিয়োজিত করব। পাশাপাশি পত্রিকা বিক্রির কাজও করে যাব’।

সরাইল উপজেলা সদরের পত্রিকা এজেন্ট জাকির পত্রিকা বিতানের স্বত্বাধিকারী জাকির হোসেন বলেন,হাবিব সদস্য পদে নির্বাচন করছেন শুনে খুশি হয়েছি, হাবিবুর খুব পরিশ্রমী ও ভালো ছেলে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ