দেড় বছরের শিশু খলিল মায়ের সামনেই খেলা করছিলো। আর মা রান্নার কাজে ব্যাস্ত ছিলেন। কখন যে বসতঘরের পাশের পুকুরে খলিল ডুবে গেছে, মা বুঝতেই পারলেন না। খোঁজাখুজির প্রায় ৩০ মিনিট পর পুকুর থেকে মৃত দেহ উদ্ধার করে হাসপাতাল নিলে ডাক্তার মৃত ঘোষনা করেন। এতে মা-বাবাসহ দাদিসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। কবরের পাশেও মা-বাবার কান্না থামা নো যায়নি। মা বলেন, আমার খলিলকে এনে দেও।
এই সচেতন না হওয়ায় পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার বেড়েই চলেছে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে । কিন্তু-এটি ‘নীরব মহামারি’ রূপ ধারণ করে থাকলেও সচেতনমহল বলেন,সরকারি বা বেসরকারি যেসব উদ্যোগ রয়েছে তা প্রতিকার ও প্রতিরোধে যথেষ্ট না। রোববার (৯ জানুয়ারী) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুুত্রে জানা যায়, গত বছরে ৫২ শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। ২০২১ সালে পুকুরে ডুবে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১২৩ শিশু। ২০২০ সালে ৪৫ জন মারা যায় ও ভর্তি হয় ১১১ জন শিশু।।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার বাহারুল আলম বলেন, ২/৪ দিন পর পরপর মারা যাওয়া শিশু হাসপাতালে নিয়ে আসছে। অভিভাবকদের অ-সচেতনতাই এর জন্য দায়ি। তাদেরকে আরো বেশি সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান ডাক্তারগন।
উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারী রায়পুর ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার বর্ডার সংলগ্ন চরমান্দারি গ্রামের কৃষক মোঃ মানিকের দেড় বছরের শিশু খলিল পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়। ১৪ ডিসেম্বর সোনাপুর ইউনিয়নের রাখালিয়ার মহাদেবপুর ও চরমোহনা ইউপির উত্তর রায়পুর গ্রামের কৃষক রহিমের ছেলে ওয়াহিদুর রহমান রাইমন (২) ও মহাদেবপুর গ্রামের কাশিমের ছেলে আবদুর রহমান (৪) পুকুরে ডুবে মারা যায়। গত বছরে ৫২ জন শিশু মারা যায় এবং হাসপাতালে ভর্তির ভর্তির পর ১২৩ জন সুস্থ হয়।
২০২১ সালের আলোচিত মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে- ৩০ অক্টোবর পৌরসভার দেনায়েতপুর এলাকায় নানার বাড়ীতে বেড়াতে এসে দুই বোনের দুই ছেলে শিহাব (১৮ মাস) ও আবদুল্লাহ (২) পানিতে ডুবে মারা যায়। তাদের নানা আবদুল কাদের বলেন, “আমার দুই নাতি সাঁতার না জানায় পুকুরে ডুবে মারা গেছে। তারা বলেছিল সাঁতার শেখাতে। সেটা করলে আজ হয়ত আমার সন্তানেরা বেঁচে থাকত।” গত ২৬ জুন চরআবাবিল ইউপির হায়দরগঞ্জের সাইয়্যেদ মন্জিলের ভিতরে পুকুরে শিশু ছেলে আরিয়া (৬) ও তার চাচাতো ভাই ফায়সালের ছেলে ফাইয়াজ হোসেন (৭) সাঁতার না জানার কারনে বাড়ীর ভেতরে পুকুরে এক সঙ্গে-ডুবে মারা যায়। উপজেলার উত্তর চরবংশী, দক্ষিন চরবংশী, উত্তর চরআবাবিল, দক্ষিন চরআবাবিল, চরমোহনা ও বামনী ইউপিতে বেশি পরিবারের শিশুরা পানিতে ডুবে মারা যায় বলে হাসপাতাল সুত্রে জানাযায়।
রায়পুর এলএম পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান বলেন, “সন্তানকে সাঁতার শেখাতে ব্যক্তি উদ্যোগের কোনও বিকল্প নেই। ”অভিভাবকের উধাসিনতার কারনে শিশুরা পুকুরে ডুবে মারা যাচ্ছে। সামাজিক অবস্থায় ছেলেদের উন্মুক্ত পরিবেশে সাঁতার শেখানো গেলেও মেয়েদের ক্ষেত্রে সেটা সম্ভব নয় বলেন।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















