নাটোরের লালপুরে রাত হলেই জেগে উঠে মাটি, বালু ও ভরাট খেকোর দল। মানুষ যখন নিশ্চিন্তমনে ঘুমাতে যায় সেময় জেগে উঠে এই মাটি খেকোর কয়েকটি দল। তাদের রাজত্ব থাকে সন্ধার পর থেকে ভোর পর্যন্ত। সরকারী নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে এসব মাটি খেকোরা উপজেলার পদ্মা নদী থেকে বালু -ভরাট উত্তোলন করে বিক্রি এবং সদ্য খননকৃত খলিষাডাঙ্গা নদীর দুই পাড়ের মাটি বিক্রির মহাৎসব চালাচ্ছে। দীর্ঘ দিন ধরে সন্ধা রাত থেকে ভোর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন সড়কে দাপিয়ে বেড়ায় শতাধিক অবৈধ্য ট্রাক্টর। কাজ তাদের অবৈধ্য বালু, ভরাট ও মাটি পরিবহন করা। কিন্তু এ ব্যপারে প্রশাসনের ভুমিকা না থাকায় প্রশাসন সম্পর্কে জনমনে বাড়ছে সন্দেহ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার পদ্মা নদীর দক্ষিন লালপুর হল মোড়ের ঘাট, কলোনি ঘাট,উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও থানার পিছনে, কয়লার ডহর, পানসিপাড়া সহ বেশ কয়েকটি পয়েন্টে এস্কেবেটর (ভেকু) দিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বালু-ভরাট উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে। অপরদিকে সদ্য খননকৃত খলিষাডাঙ্গা নদীর বাওড়া ও ভুইয়াপাড়া সহ বেশ কয়েকটি পয়েন্টে নদীর পাড়ের মাটি কেটে বিক্রি করছে দেদারছে। আর এসব কিছুই ঘটছে রাতে। রাতে এসব এলাকায় ট্রাক্টরের শব্দে মানুষ সস্থিতে ঘুমাতে পারছেনা। আবার এসব মাটি সড়কে পড়ার কারনে সকালে রাস্তা পিচ্ছিল ও বেলা বাড়ার সাথে সাথে ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে। এতে করে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যহত হচ্ছে।
পদ্মা পাড়ের একাধিক ব্যাক্তি জানান, নদীর তলদেশ থেকে এভাবে বালু-ভরাট উত্তোলন করা হলে বর্ষা মৌসুমে কলনীতে স্থাপিত প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ন প্রকল্পের প্রায় ৫০টি বাড়ী,উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, থানা, সহ প্রায় ১০টি গ্রাম নদী ভাঙ্গনের মুখে পড়বে। স্থানীয়রা আরো জানান, প্রশাসনকে বিভিন্নভাবে ম্যানেজ করে এসব বালু -ভরাট উত্তলোন করা হয় বলে শুনি,আর যারা এসব করে তারা এলাকার প্রভাশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ কোন লিখিত অভিযোগ দিতে সাহস পায়না। অপর দিকে বাওড়া ও ভুইয়াপাড়া গ্রামের একাধিক ব্যাক্তি জানান, বিগত মাসাধিক কাল ধরে প্রতি রাতে খলিষাডাঙ্গা নদীর দুই পাড়ের মাটি এস্কেবেটর (ভেকু) দিয়ে মাটি কেটে ট্রাক্টরের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। রাতে ভেকু ও ট্রাক্টরের শব্দে ঘুম হয়না, কিন্তু প্রশাসন নিরব।
এবিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফজলুর রহমান বলেন,আমার জানা মতে কোন জায়গায় বালু-ভরাট উত্তোলন করা হচ্ছেনা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা সুলতানা বলেন,বালু-ভরাট উত্তোলনের কোন প্রকার অনুমোদন দেওয়া নাই, বালু-ভারাট উত্তোলনের খবর পেয়ে তা বন্ধ করার জন্য তাৎক্ষনিকভাবে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















