১১:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

শীতে কাবু ফুলছড়ির চরাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ

ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে বিপাকে পড়েছে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার চরাঞ্চলের মানুষেরা। উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়ন ব্রহ্মপুত্র নদ বেষ্টিত। এসব ইউনিয়নের বাসিন্দাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগ এলেই চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। বর্ষায় বন্যা ও নদী ভাঙনের পর এবার তারা তীব্র শীতের কবলে পড়েছেন। গত কয়েকদিনের ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতে চরাঞ্চলের মানুষ বিপাকে পড়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা শীতে কাবু হয়ে পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী, ফজলুপুর, ফুলছড়ি, উড়িয়া ও গজারিয়া ইউনিয়নের চরগুলোতে লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। এসব ইউনিয়নের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদের করাল গ্রাসে ভিটেমাটি হারিয়ে হাজার হাজার পরিবার অস্থায়ীভাবে ঘর তৈরি করে কোনো রকম বসবাস করছে চরাঞ্চলে। কেউবা অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছেন। চরাঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষ কৃষি ও মৎস্য আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকা হওয়ার কারণে তারা চিকিৎসাসহ সরকারি অনেক সেবা থেকে বঞ্চিত থাকেন। চরাঞ্চলে গাছপালা কম হওয়ার কারণে রোদ, বৃষ্টি ও শীত সব মৌসুমেই কষ্টে দিনাতিপাত করে চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলো। তারা অনেকে বিভিন্নভাবে অর্থ উপার্জন করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তীব্র শীতের কারণে এদের মধ্যে শ্রমিক, মজুর ও দৈনন্দিন খেটে খাওয়া মানুষের কাজকর্মে ছন্দপতন ঘটেছে। শীতের কারণে অনেকে কাজের জন্য বাহিরে বের হতে পারছেন না। উপজেলা ফজলুপুর ইউনিয়নের খাটিয়ামারী এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, ‘চরাঞ্চলের নিম্ন আয়ের মানুষগুলো শীতে কাবু হয়ে পড়েছে। এখানকার অনেক মানুষ শীত থেকে রক্ষা পেতে আগুন জ্বালিয়ে উষ্ণতা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।’

উদাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ বুড়াইল গ্রামের বাসিন্দা মজিবর রহমান বলেন, ‘হঠাৎ শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় মানুষের অনেক কষ্ট হয়েছে। শ্রমজীবী ও পেশাজীবী মানুষেরা শীতের কারণে রাস্তায় বের হচ্ছে পারছেন না। সরকারি ও বেসরকারিভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম তরান্বিত করা প্রয়োজন।’

ফুলছড়ি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শহীদুজ্জামান শামীম বলেন, ‘সরকারিভাবে উপজেলায় পাওয়া ৩ হাজার ২৮৩টি কম্বল প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে বিতরণ করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ তালিকা করে কম্বল বিতরণ করবে। শীতার্ত কেউ কম্বল না পেলে ইউনিয়ন পরিষদে যোগাযোগ করলে কম্বলের ব্যবস্থা করা হবে।’

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

চাঁদপুরে বাবার স্মৃতি বিজড়িত খোদ্দ খাল খননের উদ্বোধন করলেন তারেক রহমান

শীতে কাবু ফুলছড়ির চরাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ

প্রকাশিত : ০৫:৪৭:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২২

ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে বিপাকে পড়েছে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার চরাঞ্চলের মানুষেরা। উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়ন ব্রহ্মপুত্র নদ বেষ্টিত। এসব ইউনিয়নের বাসিন্দাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগ এলেই চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। বর্ষায় বন্যা ও নদী ভাঙনের পর এবার তারা তীব্র শীতের কবলে পড়েছেন। গত কয়েকদিনের ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতে চরাঞ্চলের মানুষ বিপাকে পড়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা শীতে কাবু হয়ে পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী, ফজলুপুর, ফুলছড়ি, উড়িয়া ও গজারিয়া ইউনিয়নের চরগুলোতে লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। এসব ইউনিয়নের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদের করাল গ্রাসে ভিটেমাটি হারিয়ে হাজার হাজার পরিবার অস্থায়ীভাবে ঘর তৈরি করে কোনো রকম বসবাস করছে চরাঞ্চলে। কেউবা অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছেন। চরাঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষ কৃষি ও মৎস্য আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকা হওয়ার কারণে তারা চিকিৎসাসহ সরকারি অনেক সেবা থেকে বঞ্চিত থাকেন। চরাঞ্চলে গাছপালা কম হওয়ার কারণে রোদ, বৃষ্টি ও শীত সব মৌসুমেই কষ্টে দিনাতিপাত করে চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলো। তারা অনেকে বিভিন্নভাবে অর্থ উপার্জন করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তীব্র শীতের কারণে এদের মধ্যে শ্রমিক, মজুর ও দৈনন্দিন খেটে খাওয়া মানুষের কাজকর্মে ছন্দপতন ঘটেছে। শীতের কারণে অনেকে কাজের জন্য বাহিরে বের হতে পারছেন না। উপজেলা ফজলুপুর ইউনিয়নের খাটিয়ামারী এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, ‘চরাঞ্চলের নিম্ন আয়ের মানুষগুলো শীতে কাবু হয়ে পড়েছে। এখানকার অনেক মানুষ শীত থেকে রক্ষা পেতে আগুন জ্বালিয়ে উষ্ণতা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।’

উদাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ বুড়াইল গ্রামের বাসিন্দা মজিবর রহমান বলেন, ‘হঠাৎ শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় মানুষের অনেক কষ্ট হয়েছে। শ্রমজীবী ও পেশাজীবী মানুষেরা শীতের কারণে রাস্তায় বের হচ্ছে পারছেন না। সরকারি ও বেসরকারিভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম তরান্বিত করা প্রয়োজন।’

ফুলছড়ি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শহীদুজ্জামান শামীম বলেন, ‘সরকারিভাবে উপজেলায় পাওয়া ৩ হাজার ২৮৩টি কম্বল প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে বিতরণ করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ তালিকা করে কম্বল বিতরণ করবে। শীতার্ত কেউ কম্বল না পেলে ইউনিয়ন পরিষদে যোগাযোগ করলে কম্বলের ব্যবস্থা করা হবে।’

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর