১১:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

ওমিক্রন রোধে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ৬ বিধিনিষেধ জারি

করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন সংক্রমণ রোধে ৬ দফা বিধিনিষেধ জারি করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। জেলা প্রশাসনের ছয় দফা বিধিনিষেধ হলো-

১. দোকান, শপিংমল ও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা এবং হোটেল-রেস্তোরাঁসহ সকল জনসমাগমস্থলে বাধ্যতামূলকভাবে সবাইকে মাস্ক পরিধান করতে হবে। অন্যথায় তাকে আইনানুগ শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।

২. অফিস-আদালতসহ ঘরের বাইরে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

৩. রেস্তোরাঁয় বসে খাবার গ্রহণ এবং আবাসিক হোটেলে থাকার জন্য অবশ্যই করোনার টিকা সনদ প্রদর্শন করতে হবে।

৪. ১২ বছরের ঊর্ধ্বে সকল ছাত্র-ছাত্রীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত তারিখের পরে টিকা ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

৫. সর্বপ্রকার যানের চালক ও সহকারীদের আবশ্যিকভাবে কোভিড-১৯ টিকা সনদ থাকতে হবে।

৬. কোভিড আক্রান্তের হার ক্রমবর্ধমান হওয়ায় উন্মুক্ত স্থানে সর্বপ্রকার সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং সমাবেশসহ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হবে।এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও স্টাফ অফিসার টু ডিসি পিযুষ কুমার চৌধুরী বলেন, আজ সকাল থেকে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন স্থানে হ্যান্ড মাইক দিয়ে জনসাধারণকে করোনা সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে এবং এর ভয়াবহতা জানিয়ে জনসাধারণকে সরকারঘোষিত নির্দেশনা প্রতিপালন করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। এ সময় রাস্তার পথচারীদের মধ্যে মাস্ক বিতরণ করা হয় বলে জানান তিনি।গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে আরও ৯৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৩০ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এ সময়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন একজন। এর আগে বুধবার (১৯ জানুয়ারি) চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন ৯৮৯ জন।

বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, চট্টগ্রামের ১৩টি ল্যাবে ৩ হাজার ৫৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৯৩০ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭৫৭ জনই চট্টগ্রাম নগরের বাসিন্দা। বাকি ১৭৩ জনের মধ্যে লোহাগাড়া ১০, সাতকানিয়ায় ১৩, বাঁশখালীতে ৪, আনোয়ারায় ৩, চন্দনাইশে ১, পটিয়াতে ১০, বোয়ালখালীতে ২৩, রাঙ্গুনিয়ায় ১৩, রাউজানে ১৫, হাটহাজারীতে ১৬, ফটিকছড়িতে ১০, মিরসরাইয়ে ৪, সীতাকুণ্ডে ৪২ ও সন্দ্বীপ উপজেলার ৯ জন রয়েছেন।জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াস চৌধুরী বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি ল্যাবে ১৭৭ জন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ল্যাবে ১২৪ জন, অ্যান্টিজেন টেস্টে ৪৮ জন, ইমপেরিয়াল হাসপাতাল ল্যাবে ১১১ জন, শেভরন হাসপাতাল ৯৪ জন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ল্যাবে ৫০ জন, জেনারেল হাসপাতাল আরটিআরএল ল্যাবে ৩৪ জন, মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল ল্যাবে ২৩ জন, ইপিক হেলথ কেয়ার ল্যাবে ১৬৮ জন, ল্যাব এইড হাসপাতাল ল্যাবে তিনজন, মেট্রোপলিটন হাসপাতাল ল্যাবে ৫৫ জন, এশিয়ান স্পেশালাইজড হাসপাতাল ল্যাবে ২৬ জন এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ল্যাবে ১৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়।চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৮ হাজার ৩৭৬ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে নগরের বাসিন্দা ৭৯ হাজার ২৪ জন। বাকি ২৯ হাজার ৩৫২ জন বিভিন্ন উপজেলার।করোনায় আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৩৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৭২৮ জন নগরের। আর বিভিন্ন উপজেলায় মৃত্যু হয়েছে ৬১৪ জনের।২০২০ সালের ৩ এপ্রিল চট্টগ্রামে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ৯ এপ্রিল ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে প্রথম কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

চাঁদপুরে বাবার স্মৃতি বিজড়িত খোদ্দ খাল খননের উদ্বোধন করলেন তারেক রহমান

ওমিক্রন রোধে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ৬ বিধিনিষেধ জারি

প্রকাশিত : ০৬:০৬:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২২

করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন সংক্রমণ রোধে ৬ দফা বিধিনিষেধ জারি করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। জেলা প্রশাসনের ছয় দফা বিধিনিষেধ হলো-

১. দোকান, শপিংমল ও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা এবং হোটেল-রেস্তোরাঁসহ সকল জনসমাগমস্থলে বাধ্যতামূলকভাবে সবাইকে মাস্ক পরিধান করতে হবে। অন্যথায় তাকে আইনানুগ শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।

২. অফিস-আদালতসহ ঘরের বাইরে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

৩. রেস্তোরাঁয় বসে খাবার গ্রহণ এবং আবাসিক হোটেলে থাকার জন্য অবশ্যই করোনার টিকা সনদ প্রদর্শন করতে হবে।

৪. ১২ বছরের ঊর্ধ্বে সকল ছাত্র-ছাত্রীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত তারিখের পরে টিকা ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

৫. সর্বপ্রকার যানের চালক ও সহকারীদের আবশ্যিকভাবে কোভিড-১৯ টিকা সনদ থাকতে হবে।

৬. কোভিড আক্রান্তের হার ক্রমবর্ধমান হওয়ায় উন্মুক্ত স্থানে সর্বপ্রকার সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং সমাবেশসহ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হবে।এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও স্টাফ অফিসার টু ডিসি পিযুষ কুমার চৌধুরী বলেন, আজ সকাল থেকে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন স্থানে হ্যান্ড মাইক দিয়ে জনসাধারণকে করোনা সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে এবং এর ভয়াবহতা জানিয়ে জনসাধারণকে সরকারঘোষিত নির্দেশনা প্রতিপালন করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। এ সময় রাস্তার পথচারীদের মধ্যে মাস্ক বিতরণ করা হয় বলে জানান তিনি।গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে আরও ৯৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৩০ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এ সময়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন একজন। এর আগে বুধবার (১৯ জানুয়ারি) চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন ৯৮৯ জন।

বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, চট্টগ্রামের ১৩টি ল্যাবে ৩ হাজার ৫৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৯৩০ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭৫৭ জনই চট্টগ্রাম নগরের বাসিন্দা। বাকি ১৭৩ জনের মধ্যে লোহাগাড়া ১০, সাতকানিয়ায় ১৩, বাঁশখালীতে ৪, আনোয়ারায় ৩, চন্দনাইশে ১, পটিয়াতে ১০, বোয়ালখালীতে ২৩, রাঙ্গুনিয়ায় ১৩, রাউজানে ১৫, হাটহাজারীতে ১৬, ফটিকছড়িতে ১০, মিরসরাইয়ে ৪, সীতাকুণ্ডে ৪২ ও সন্দ্বীপ উপজেলার ৯ জন রয়েছেন।জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াস চৌধুরী বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি ল্যাবে ১৭৭ জন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ল্যাবে ১২৪ জন, অ্যান্টিজেন টেস্টে ৪৮ জন, ইমপেরিয়াল হাসপাতাল ল্যাবে ১১১ জন, শেভরন হাসপাতাল ৯৪ জন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ল্যাবে ৫০ জন, জেনারেল হাসপাতাল আরটিআরএল ল্যাবে ৩৪ জন, মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল ল্যাবে ২৩ জন, ইপিক হেলথ কেয়ার ল্যাবে ১৬৮ জন, ল্যাব এইড হাসপাতাল ল্যাবে তিনজন, মেট্রোপলিটন হাসপাতাল ল্যাবে ৫৫ জন, এশিয়ান স্পেশালাইজড হাসপাতাল ল্যাবে ২৬ জন এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ল্যাবে ১৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়।চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৮ হাজার ৩৭৬ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে নগরের বাসিন্দা ৭৯ হাজার ২৪ জন। বাকি ২৯ হাজার ৩৫২ জন বিভিন্ন উপজেলার।করোনায় আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৩৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৭২৮ জন নগরের। আর বিভিন্ন উপজেলায় মৃত্যু হয়েছে ৬১৪ জনের।২০২০ সালের ৩ এপ্রিল চট্টগ্রামে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ৯ এপ্রিল ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে প্রথম কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর