গ্রামবাংলার গরুর গাড়ির সংখ্যা কমছে। এই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মকে জানান দিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতা। এ প্রতিযোগিতায় ঝিনাইদহ, যশোরসহ আশপাশের জেলা থেকে ১৬টি গরুর গাড়ি অংশ নেয়। বৃহস্পতিবার ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মধুহাটী ইউনিয়নের বাজার গোপালপুর মাঠে গ্রামবাসীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী এ গরুর গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতা। গরু গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার হিসেবে খাঁসি ছাগল, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে বাইসাইকেল দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে ২নং মধুহাটী ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে আব্দুল মমিন, ইছাহক আলী, তহুরুল ইসলাম, তুহিন আক্তার লাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ইবাদুল ইসলাম, সৌরভ আহমেদ, শরিফুল ইসলাম এ খেলা পরিচালনা করেন। সরেজমিনে দেখা যায়, আমন ধান তোলার পর বিস্তীর্ণ মাঠে মানুষের পদচারণে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। সকাল থেকেই এলাকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষজন আসতে শুরু করে। গরুর গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে মাঠজুড়ে নানা পসরা নিয়ে বসেন দোকানিরা। পাঁপড়, বাদাম, চানাচুর, চটপটি, ফুচকা, পিঁয়াজু, চপ, মিষ্টি, গজা, রসগোল্লা, হাওয়াই মিঠাই, রঙিন বেলুন ছিল শিশুদের হাতে হাতে। দল বেঁধে ছেলেমেয়েরা ঘুরতে থাকে মাঠের এপার থেকে ওপারে। আনন্দোৎসবে মেতে ওঠে গ্রামবাসী। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বী চারটি গরু মাঠের পূর্ব প্রান্তে থেকে দৌড়ে পশ্চিম প্রান্ত আসছে। তাদের পায়ের খুরের আঘাতে সদ্য ধান কাটা জমি থেকে উড়ছে ধুলো। আর চারদিকে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার নারী, পুরুষ, শিশুর উল্লাসধ্বনিতে মুখরিত হতে থাকে।
ঢাকা গ্রামে ঘুরতে আসা পারভেজ গরুর দৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে আসেন। এসময় তিনি বলেন, ‘এলাকার যেকোন ঐতিহ্য সবাই মিলে উপভোগ করি। এবারো গরুর দৌড় প্রতিযোগিতা উপভোগ করলাম। খুবই ভাল লাগছে। ‘গরুর গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতার অন্যতম উদ্যোক্তা সৌরভ আহমেদ বলেন, ‘ আমরা গরুর গাড়ির দৌড় আয়োজন করতে পেরে খুশি। আমরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে চাই। ‘ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ২নং মধুহাটী ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন বলেন, ‘গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এ ধরনের আরো আয়োজন করা হবে। মূলত ইউনিয়নবাসীর জন্য কল্যাণকর যেকোন কাজ করা হবে। আমরা মাদকমুক্ত যুব সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে নিয়ে কাজ করব। ‘
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















