০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

ঝালকাঠি ১৯৪ জন গ্রামপুলিশের মানবেতর জীবন যাপন

ঝালকাঠি ও নলছিটি দু’টি উপজেলার অন্তত ১৯৪জন গ্রামপুলিশ দীর্ঘ দিন যাবৎ স্থানীয় রাজস্ব খাত অংশের বেতন-ভাতা পাচ্ছেনা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, থানা পুলিশসহ ২০টি ইউনিয়নের সাধারন মানুষের নিরাপত্তায় জীবনবাজী রেখে দায়িত্ব পালনকারী এসব গ্রাম পুলিশের নিজ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। জেলার সদর উপজেলার ৯৮জন গ্রাম পুলিশ ১২মাস ধরে ও নলছিটি উপজেলার ৯৬জন গ্রাম পুলিশ ৭মাস ধরে স্থানীয় রাজস্ব খাত অংশের বেতন-ভাতা না পাওয়ায় তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে খেয়ে নাখেয়ে দিনকাটাচ্ছে। এসব গ্রাম পুলিশ ও তাদের পরিবারের কথা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুতো তাদের বেতনভাতা প্রদানের জন্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে জোড় দাবী জানিয়েছেন। জানাগেছে, গ্রাম পুলিশ হিসাবে কর্মরত ইউনিয়ন পর্যায়ের দফাদার ও চৌকিদারদের বেতন ভাতার অর্ধেক সরকারী রাজস্ব খাত থেকে ও বাকী অর্ধেক বেতনসহ ভাতার অর্থ দেয়া হয় উপজেলার স্থানীয় রাজস্ব খাতে ১% অর্থ থেকে। জেলার ৪টি উপজেলার মধ্যে রাজাপুর ও কাঠালিয়া উপজেলার গ্রাম পুলিশেরা নিয়মিত বেতন-ভাতা পেলেও ঝালকাঠি ও নলছিটি উপজেলা দু’টি উপজেলার ২১জন দফাদার ও ১৭৩জন চৌকিদারসহ ১৯৪জন গ্রাম পুলিশ তাদের বেতন-ভাতা না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে নিদারুন অর্থাভাবে দিন কাটাচ্ছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলার কয়েকজন গ্রাম পুলিশ জানায়, বিগত ২০২১ সালের জানুয়ারী থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সদর উপজেলার ৯৮জন গ্রাম পুলিশের পুরো ১২মাসের বেতন-ভাতা বাবদ ৫২লাখ ৬৩হাজার ২শ টাকা বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। এরমধ্যে প্রতি দফাদারের মাসে ৭হাজার টাকা বেতনের মধ্যে স্থানীয় রাজস্ব খাত অংশের ৩৫শ ও ভাতা ১২শ টাকাসহ মোট ৪হাজার ৭শ টাকা বকেয়া রয়েছে। একই ভাবে প্রতি চৌকিদারের মাসে ৬হাজার ৫’শ টাকা বেতনের স্থানীয় রাজস্ব খাত অংশের ৩হাজার ২শ ৫০টাকা ও ভাতা ১২শ টাকাসহ মোট ৪হাজার ৪শ ৫০টাকা পর্যন্ত বকেয়া রয়েছে। এতে গত এক বছরে দফাদার প্রতি ৫৬হাজর ৪শ টাকা ও ১০জন দফাদারের ১২ মাসে ৫লাখ ৬৪হাজার টাকা বেতনভাতা বকেয়া রয়েছে। একই ভাবে চৌকিদার প্রতি ৫৩হাজার ৪শ টাকা হিসাবে ৮৮জন চৌকিদারের ১২ মাসে ৪৬লাখ ৯৯হাজার ২শ টাকা বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। অন্যদিকে নলছিটি উপজেলা সূত্রে জানাগেছে, নলছিটির ৯৬জন গ্রাম পুলিশের ২০২১ সালে ৭মাসের বেতনভাতা বাবদ মোট ২৮লাখ ৭৮হাজার ৫০টাকা বকেয়া রয়েছে। এরমধ্যে প্রতি দফাদার মাসে ৪হাজার ৭শ টাকা হিসাবে ৭মাসে ৩২ হাজার ৯শ টাকা করে ১১জন দফাদারের মোট ২লাখ ৩০হাজার ৩শ টাকার বেতনভাতা বকেয়া রয়েছে। আর প্রতি চৌকিদার মাসে ৪হাজার ৪শ ৫০ টাকা ও ৭মাসে ৩১ হাজার ১শ ৫০ টাকা হিসাবে ৮৫চৌকিদারের বেতনভাতা ২৬লাখ ৪৭হাজার ৭শ ৫০টাকা বকেয়া রয়েছে বলে জানাগেছে। এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবেকুন্নাহার জানান, গত বছর করনার কারনে স্থানীয় রাজস্ব আয় কম হওয়ায় কিছু টাকা বকেয়া হওয়া কথা স্বীকার করেন। তবে এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের আন্তরিকতার কোন ঘাটতি নেই বরং সহসাই তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন ।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

চাঁদপুরে বাবার স্মৃতি বিজড়িত খোদ্দ খাল খননের উদ্বোধন করলেন তারেক রহমান

ঝালকাঠি ১৯৪ জন গ্রামপুলিশের মানবেতর জীবন যাপন

প্রকাশিত : ০৬:০২:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২

ঝালকাঠি ও নলছিটি দু’টি উপজেলার অন্তত ১৯৪জন গ্রামপুলিশ দীর্ঘ দিন যাবৎ স্থানীয় রাজস্ব খাত অংশের বেতন-ভাতা পাচ্ছেনা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, থানা পুলিশসহ ২০টি ইউনিয়নের সাধারন মানুষের নিরাপত্তায় জীবনবাজী রেখে দায়িত্ব পালনকারী এসব গ্রাম পুলিশের নিজ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। জেলার সদর উপজেলার ৯৮জন গ্রাম পুলিশ ১২মাস ধরে ও নলছিটি উপজেলার ৯৬জন গ্রাম পুলিশ ৭মাস ধরে স্থানীয় রাজস্ব খাত অংশের বেতন-ভাতা না পাওয়ায় তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে খেয়ে নাখেয়ে দিনকাটাচ্ছে। এসব গ্রাম পুলিশ ও তাদের পরিবারের কথা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুতো তাদের বেতনভাতা প্রদানের জন্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে জোড় দাবী জানিয়েছেন। জানাগেছে, গ্রাম পুলিশ হিসাবে কর্মরত ইউনিয়ন পর্যায়ের দফাদার ও চৌকিদারদের বেতন ভাতার অর্ধেক সরকারী রাজস্ব খাত থেকে ও বাকী অর্ধেক বেতনসহ ভাতার অর্থ দেয়া হয় উপজেলার স্থানীয় রাজস্ব খাতে ১% অর্থ থেকে। জেলার ৪টি উপজেলার মধ্যে রাজাপুর ও কাঠালিয়া উপজেলার গ্রাম পুলিশেরা নিয়মিত বেতন-ভাতা পেলেও ঝালকাঠি ও নলছিটি উপজেলা দু’টি উপজেলার ২১জন দফাদার ও ১৭৩জন চৌকিদারসহ ১৯৪জন গ্রাম পুলিশ তাদের বেতন-ভাতা না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে নিদারুন অর্থাভাবে দিন কাটাচ্ছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলার কয়েকজন গ্রাম পুলিশ জানায়, বিগত ২০২১ সালের জানুয়ারী থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সদর উপজেলার ৯৮জন গ্রাম পুলিশের পুরো ১২মাসের বেতন-ভাতা বাবদ ৫২লাখ ৬৩হাজার ২শ টাকা বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। এরমধ্যে প্রতি দফাদারের মাসে ৭হাজার টাকা বেতনের মধ্যে স্থানীয় রাজস্ব খাত অংশের ৩৫শ ও ভাতা ১২শ টাকাসহ মোট ৪হাজার ৭শ টাকা বকেয়া রয়েছে। একই ভাবে প্রতি চৌকিদারের মাসে ৬হাজার ৫’শ টাকা বেতনের স্থানীয় রাজস্ব খাত অংশের ৩হাজার ২শ ৫০টাকা ও ভাতা ১২শ টাকাসহ মোট ৪হাজার ৪শ ৫০টাকা পর্যন্ত বকেয়া রয়েছে। এতে গত এক বছরে দফাদার প্রতি ৫৬হাজর ৪শ টাকা ও ১০জন দফাদারের ১২ মাসে ৫লাখ ৬৪হাজার টাকা বেতনভাতা বকেয়া রয়েছে। একই ভাবে চৌকিদার প্রতি ৫৩হাজার ৪শ টাকা হিসাবে ৮৮জন চৌকিদারের ১২ মাসে ৪৬লাখ ৯৯হাজার ২শ টাকা বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। অন্যদিকে নলছিটি উপজেলা সূত্রে জানাগেছে, নলছিটির ৯৬জন গ্রাম পুলিশের ২০২১ সালে ৭মাসের বেতনভাতা বাবদ মোট ২৮লাখ ৭৮হাজার ৫০টাকা বকেয়া রয়েছে। এরমধ্যে প্রতি দফাদার মাসে ৪হাজার ৭শ টাকা হিসাবে ৭মাসে ৩২ হাজার ৯শ টাকা করে ১১জন দফাদারের মোট ২লাখ ৩০হাজার ৩শ টাকার বেতনভাতা বকেয়া রয়েছে। আর প্রতি চৌকিদার মাসে ৪হাজার ৪শ ৫০ টাকা ও ৭মাসে ৩১ হাজার ১শ ৫০ টাকা হিসাবে ৮৫চৌকিদারের বেতনভাতা ২৬লাখ ৪৭হাজার ৭শ ৫০টাকা বকেয়া রয়েছে বলে জানাগেছে। এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবেকুন্নাহার জানান, গত বছর করনার কারনে স্থানীয় রাজস্ব আয় কম হওয়ায় কিছু টাকা বকেয়া হওয়া কথা স্বীকার করেন। তবে এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের আন্তরিকতার কোন ঘাটতি নেই বরং সহসাই তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন ।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ