০৭:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

ফসলি জমি নদীগর্ভে, চরম হুমকির মুখে কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়ক

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ীয়ার সাহেব নগর ও আশপাশের প্রায় ৯ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রমত্তা পদ্মা নদীর ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রবল ভাঙ্গনে ইতিমধ্যে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে তীরবর্তী কয়েক হাজার বিঘা ফসলি জমি।

মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বসতভিটাসহ উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে যোগাযোগের একমাত্র রাস্তা কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়ক। রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য নদী ভরাট করে বাঁধ নির্মাণ করা ও স্কেভেটার দিয়ে নদীর পাড় কেটে মাটি বিক্রি এবং নদী থেকে বালি উত্তোলনের কারনে শুস্ক মৌসুমে ভাঙ্গন এমন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বলে দাবী স্থানীয়দের। একমাত্র আয়ের উৎস ফসলি জমি হারিয়ে উপক‚লের মানুষ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ভাঙ্গনরোধে অতিদ্রæত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী তাদের। তবে স্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধে প্রকল্প হাতে নেয়ার কথা জানান পানি উন্নয়ন বোর্ড। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ীয়া ইউনিয়নের সাহেব নগর, ৮মাইল খাদিমপুর, মির্জানগরসহ পার্শবর্তী তালবাড়ীয়া ও বাহির চর ইউনিয়নের প্রায় ৯ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙ্গনে এরই মধ্যে কয়েক হাজার বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে গেছে। মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বসতভিটাসহ উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে যোগাযোগের একমাত্র রাস্তা কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়ক। এসব এলাকায় বর্ষা মৌসুমে কিছুকিছু জায়গায় ভাঙন দেখা দিলেও শুস্ক মৌসুমে এমন ভাঙ্গন এর আগে কখনো দেখেনি স্থানীয়রা। স্কেভেটার দিয়ে নদীর পাড় কেটে মাটি বিক্রি, নদী থেকে বালি উত্তোলন ও নদীর উত্তর পাড়ে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য প্রায় ৩০০ মিটার নদী ভরাট করে বাঁধ নির্মাণ করার কারনে নদীর দক্ষিণ পাড়ে ভাঙন এমন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বলে দাবী এলকাবাসীর। তীব্র ভাঙনের ফলে প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে নদী। এদিকে একমাত্র আয়ের উৎস ফসলি জমি হারিয়ে রিনের বোঝা মাথায় নিয়ে দিশেহারা এখানকার হাজারো কৃষক। অবিলম্বে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাদের। এছাড়াও ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী সমাধানের দাবীতে নদীর পাড়ে মানববন্ধনও করেছে ভুক্তভোগীরা।

ভাঙ্গনের কবল থেকে বাস্তুভিটা ও আবাদি জমি রক্ষার্থে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে নানা কর্মকান্ড করে যাচ্ছে স্থানীয় সাহেব নগর এলাকার বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও শিক্ষা অনুরাগী মোঃ মওদুদদ আহমেদ রাজিব। তিনি বলেন, ভাঙ্গনের কবল থেকে আমাদের বাস্তুভিটা ও আবাদি জমি রক্ষার্থে এলাকাবাসীকে সাথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনে আমরা কাফনের কাপর পড়ে রাস্তায় নামবো। স্থানীয় ইউপি সদস্য মেহেদি হাসান অপু জানান, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য নদী ভরাট করে বাঁধ নির্মাণ করা এবং কিছু অসাধু ব্যবসায়ী স্কেভেটার দিয়ে নদীর পাড় কেটে মাটি বিক্রি করার ফলে ও নদী থেকে বালি উত্তোলনের কারনে শুস্ক মৌসুমে ভাঙ্গন এমন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

শুস্ক মৌসুমে কেন এই ভয়াবহ ভাঙ্গন? এমন প্রশ্নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল হামিদ বলছেন, নদীর উত্তর পাড়ে অবকাঠামো নির্মান, নদী থেকে বালি উত্তোলন ও নদীর বিপরিত মুখে জেগে ওঠা চরের কারনেই এমন ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে স্থায়ীভাবে ভাঙ্গন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্প হাতে নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে কোন আশ্বাস নয়, নদী ভাঙন ঠেকাতে অবিলম্বে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এলাকাবাসীর।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

চাঁদপুরে বাবার স্মৃতি বিজড়িত খোদ্দ খাল খননের উদ্বোধন করলেন তারেক রহমান

ফসলি জমি নদীগর্ভে, চরম হুমকির মুখে কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়ক

প্রকাশিত : ০৯:১০:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২২

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ীয়ার সাহেব নগর ও আশপাশের প্রায় ৯ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রমত্তা পদ্মা নদীর ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রবল ভাঙ্গনে ইতিমধ্যে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে তীরবর্তী কয়েক হাজার বিঘা ফসলি জমি।

মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বসতভিটাসহ উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে যোগাযোগের একমাত্র রাস্তা কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়ক। রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য নদী ভরাট করে বাঁধ নির্মাণ করা ও স্কেভেটার দিয়ে নদীর পাড় কেটে মাটি বিক্রি এবং নদী থেকে বালি উত্তোলনের কারনে শুস্ক মৌসুমে ভাঙ্গন এমন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বলে দাবী স্থানীয়দের। একমাত্র আয়ের উৎস ফসলি জমি হারিয়ে উপক‚লের মানুষ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ভাঙ্গনরোধে অতিদ্রæত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী তাদের। তবে স্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধে প্রকল্প হাতে নেয়ার কথা জানান পানি উন্নয়ন বোর্ড। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ীয়া ইউনিয়নের সাহেব নগর, ৮মাইল খাদিমপুর, মির্জানগরসহ পার্শবর্তী তালবাড়ীয়া ও বাহির চর ইউনিয়নের প্রায় ৯ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙ্গনে এরই মধ্যে কয়েক হাজার বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে গেছে। মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বসতভিটাসহ উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে যোগাযোগের একমাত্র রাস্তা কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়ক। এসব এলাকায় বর্ষা মৌসুমে কিছুকিছু জায়গায় ভাঙন দেখা দিলেও শুস্ক মৌসুমে এমন ভাঙ্গন এর আগে কখনো দেখেনি স্থানীয়রা। স্কেভেটার দিয়ে নদীর পাড় কেটে মাটি বিক্রি, নদী থেকে বালি উত্তোলন ও নদীর উত্তর পাড়ে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য প্রায় ৩০০ মিটার নদী ভরাট করে বাঁধ নির্মাণ করার কারনে নদীর দক্ষিণ পাড়ে ভাঙন এমন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বলে দাবী এলকাবাসীর। তীব্র ভাঙনের ফলে প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে নদী। এদিকে একমাত্র আয়ের উৎস ফসলি জমি হারিয়ে রিনের বোঝা মাথায় নিয়ে দিশেহারা এখানকার হাজারো কৃষক। অবিলম্বে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাদের। এছাড়াও ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী সমাধানের দাবীতে নদীর পাড়ে মানববন্ধনও করেছে ভুক্তভোগীরা।

ভাঙ্গনের কবল থেকে বাস্তুভিটা ও আবাদি জমি রক্ষার্থে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে নানা কর্মকান্ড করে যাচ্ছে স্থানীয় সাহেব নগর এলাকার বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও শিক্ষা অনুরাগী মোঃ মওদুদদ আহমেদ রাজিব। তিনি বলেন, ভাঙ্গনের কবল থেকে আমাদের বাস্তুভিটা ও আবাদি জমি রক্ষার্থে এলাকাবাসীকে সাথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনে আমরা কাফনের কাপর পড়ে রাস্তায় নামবো। স্থানীয় ইউপি সদস্য মেহেদি হাসান অপু জানান, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য নদী ভরাট করে বাঁধ নির্মাণ করা এবং কিছু অসাধু ব্যবসায়ী স্কেভেটার দিয়ে নদীর পাড় কেটে মাটি বিক্রি করার ফলে ও নদী থেকে বালি উত্তোলনের কারনে শুস্ক মৌসুমে ভাঙ্গন এমন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

শুস্ক মৌসুমে কেন এই ভয়াবহ ভাঙ্গন? এমন প্রশ্নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল হামিদ বলছেন, নদীর উত্তর পাড়ে অবকাঠামো নির্মান, নদী থেকে বালি উত্তোলন ও নদীর বিপরিত মুখে জেগে ওঠা চরের কারনেই এমন ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে স্থায়ীভাবে ভাঙ্গন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্প হাতে নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে কোন আশ্বাস নয়, নদী ভাঙন ঠেকাতে অবিলম্বে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এলাকাবাসীর।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর