ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, আনন্দ কিংবা কষ্ট সব কিছু লুকিয়ে থাকে ফুলের মধ্যে। আর তায় ফেব্রুয়ারি মানেই তো ফুলের মাস।
এ মাসেই বসন্ত উৎসব, বিশ্ব ভালো বাসা ও মাতৃভাষা দিবস। অন্য সব মাসের তুলনায় এ মাসে বাংলাদেশে ফুলের চাহিদা থাকে অনেক বেশি।আর এই দিবসগুলোকে সামনে রেখে ফুলের চাহিদা মেটাতে দিন-রাত বাগানে কাজ করছেন ফুলের রাজ্য খ্যাত যশোরের গদখালির ফুলচাষিরা। দেশের গোলাপ ফুলের চাহিদার সিংহভাগ আসে যশোরের গদখালি থেকে। শুধু গোলাপই নয় এই এলাকা জুড়ে অনেক ধরনের ফুল চাষ হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এই তিন দিবসে প্রায় (তিন কোটি টাকার) ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে দিন রাত ফুল ও ফুলগাছের পরিচর্যা করে যাচ্ছেন চাষিরা।
আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে গদখালি ফুল চাষিরা বসন্ত বরণ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আান্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের জন্য বাজারে ফুল সরবরাহ করে আসছেন। ইতোমধ্যে প্রতিদিন সূর্য অস্ত যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ফুল কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন যশোরের ঝিকরগাছার গদখালি বাজারের এই ফুলের রাজ্যে। দেশের সর্ব বৃহৎ পাইকারী ফুলের বাজার এই গদখালী।আর এই কারণে গদখালী কে দেশের ফুলের রাজ্য বা রাজধানী বলা হয়ে থাক। যশোর শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে ঝিকরগাছা উপজেলার ৭৫ টি গ্রামের সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ করা হয় হরেক রকমের ফুল। গদখালির গ্রামগুলোর রাস্তার দুইপাশে দিগন্ত বিস্তত জমিতে লাল, নীল, হলুদ,বেগুনি আর সাদা রঙের ফুলের সমাহার দেখে মন্ত্রমুগ্ধের মত তাকিয়ে থাকত হয়। যশোর-বেনাপোল রোড ছেড়ে ডানে,বায়ের গ্রমিগুলোয় ঢুকে কিছুদুর এগিয়ে গেলেই দেখা মিলবে দিগন্ত জোড়া ফুলের মাঠ।রজনীগন্ধা, গøাডিওল্যাস, গোলাপ আর গাঁদা ফুল চাষ হয় এসব গ্রামে। ফুল কেটে গরুর গাড়িতে করে বাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে বান্ডিল করে চালান হয়ে যাচ্ছে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন শহরে। ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী ইউনিয়নের পানিসারা, হাড়িয়া, কৃষ্ণচন্দ্রপুর, পটুয়াপাড়া, সৈয়দপাড়া, মাটিকুমড়া, বাইসা, কাউবা ও ফুলিয়া গ্রামের প্রতিটি মাঠের চিত্রই এমন। প্রতিবছর ৩০০কোটি টাকার ফুল উৎপাদন হয় এসব মাঠ থেকে। শত শত বিঘা জমি নিয়ে গাঁদা, গোলাপ, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, জারবেরা, কসমস, ডেইজ জিপসি,ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা সহ আরো বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চাষ। যশোররে ঝকিরগাছা উপজলো কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাসুম হোসেন পলাশ জানান, উপজেলার গতখালীতে এবার সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে ফুল চাষের আওতায় আনা হয়েছে। কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার হওয়ায় অসংখ্য দর্শনার্থী বিরুলিয়ার ফুল বাগান দেখতে আসেন।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















