কত কাজই না করতে হয়েছে। রাতের পাহাড়াদার থেকে বিক্রি করছেন মধু চলমান ৮৮ বছর বয়সে। অবস্থাপন্ন পরিবার, বাবা ছিলেন বৃটিশ স্টীমারের বাটলার। স্বাধীনতা যুদ্ধে ছিলেন অকুতোভয়। পাকিস্তানীরা বঙ্গবন্ধুর সেলের পাশে কবর খুঁড়েছে, একথা শুনে খুন চেপে যায়। কর্নকাঠী এলাকায় শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে বেয়নেট দিয়ে বুক চিড়ে পাকিস্তানী সেনার রক্ত আর কইলব্জা খেয়েছিলেন।
সম্মুখ যুদ্ধের জন্য ওয়াপদা ক্যাম্প প্রধান পাকিস্তানী মেজর মোক্তার আলীকে চিঠি দিয়ে আহবান জানিয়েছিলেন। মোক্তারের উক্তি ছিল-আদমি লোগকো রক্ত খায়েগা এ্য ক্যায়সে লোগ হ্যায়, হাম বরিশাল মে নেহি রহেগা। ওদিনই মোক্তার আলী পলায়ন করে ঢাকা। দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা হলে বীরত্বগাঁথা সনদ দেন, সাথে জাকির হোসেন সড়কে একখানা দ্বিতল বাড়ি দিতে চান। জবাব ছিল, বঙ্গবন্ধু আমার বাবার অবস্থা ভালো যুদ্ধাহত সহযোদ্ধা ইউসুফকে ওই বাড়িটি পাইয়ে দেন। তবে গেল শতাব্দীর অশির দশকে নগরীর আলেকান্দার বসতভিটা বেহাত হয় ফুপাতো ভাইদের কুটকৌশলে পরাজিত হয়ে। ওরপর পরিজন নিয়ে দিনকাটে তার ভাড়া বাড়িতে। জীবন যুদ্ধে পরাজিত এই বীর যোদ্ধা আনোয়ার হোসেন খান আনুর এখন একটাই দাবী, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি।
রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডে যখন হাঁক ছাড়েন,এই মধু,খাঁটি মধু,লইয়া যান; তখন করো করো দ্বারা কটু কথাও শোনেন, উপেক্ষিত হন। আনোয়ার হোসেন বাসে মধু বিক্রি করেন দেখে যুদ্ধকালীন নৌকমান্ডার সৈয়দ আবুল বাশার ওরফে নেভাল বাশারের চোখে জল আসে। স্মৃতিচারণ করেন, কালেক্টরেটে চাকুরী করতেন নগরীর দরগাবাড়ি এলাকার হিরা মল্লিক। যার কার্যকলাপ ছিল পাকিস্তানী আর্মীর পক্ষে। কর্নকাঠী এলাকায় দেখা হলে হিরা মল্লিককে শায়েস্তা করতে আনোয়ার হোসেনকে পাঠিয়েছিলেন নৌকমান্ডার আবুল বাশার।
অপারেশন শেষে ফিরে এসে আনু জানায়-ওস্তাদ ওরে পাইনাই; তয় ঘরের টিভি-টুভি ভাইঙ্গা আইছি। যুদ্ধকালীন সময়ে মানুষের মুখে শুনেছি আনোয়ার পাকিস্তানী সেনার রক্ত আর কইলব্জা খাওয়ার কথা। আমার সেই সহযোদ্ধা আনুর নাম মুক্তিযুদ্ধের তালিকায় থাকবেনা নিজেকে ফেইলর মনে হয়, এমন অবস্থা দেখে মরেও শান্তি পাবোনা।
এই কমান্ডার আনোয়ার হোসেনের অভিযোগে সায় দিয়ে বলেন, আগের কমান্ডাররা টাকার বিনিময়ে বহু মুক্তিযোদ্ধার তালিকা করেছে এটা সত্য। উপমায় বলেন, তাকে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) থেকে সেবার সাড়ে ৫’শ মুক্তিযোদ্ধার তালিকা যাছাই করতে দিয়েছিলেন। সেখানে ৮০ ভাগেই অনিয়ম পেয়েছেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বগাঁথা আনোয়ার হোসেন আনুর চলমান কষ্টেগাঁথা দিনগুজরানের কথা শুনে মহিউদ্দিন মানিক বীরপ্রতীক জানালেন, বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থিক সহায়তা থেকে বসত ঘর তৈরী করে দিচ্ছেন। এখানে সবার এগিয়ে এসে তাকে পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বীরযোদ্ধা আনোয়ার হোসেনকে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রায়ণ প্রকল্পের ঘর ও পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকার আর্থিক অনুদানের প্রদান করেছেন।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















