কলাপাড়ায় কুরুচিপূর্ন টিকটক ভিডিও ধারন করতে বাঁধা দেয়ায় এক গৃহবধুকে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ ২ যুবকের বিরুদ্ধে। এছাড়াও ওই গৃহবধুর ছেলে ও মেয়েকেও পিটিয়ে আহত করা হয়েছে।
রোববার বিকেলে লালুয়া ইউনিয়নের মুন্সিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহতাবস্থায় নির্যাতিতা গৃহবধু সামসুন্নাহার বেগমকে (৩৮) উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং বাকি দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। সামসুন্নাহার ওই গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী।
হাসপাতালের বিছানায় কান্নাভেজা কন্ঠে ঐ গৃহবধু এ প্রতিনিধিকে বলেন, তার বাড়ির সামনে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এক যুবতিকে নিয়ে কুরুচিপূর্ন ভিডিও ধারন করছিলো স্থানীয় বখাটে আসলাম ও বেল্লাল নামের ২ যুবক। গৃহবধুর নিজ বাড়িতে যুবতি মেয়ে এবং পুত্রবধুর সামনে এমন নোংরা ভিডিও ধারনে প্রথমে বাঁধা দেন তিনি। কিন্তু বখাটেরা বাঁধার তোয়াক্কা না করে কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। পরে তার ছেলে ইমান হোসেন বাড়িতে ফিরলে তিনি জোর গলায় বখাটেদের ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসলাম এবং বেল্লাল ইমানের ওপর হামল চালায়। এসময় ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ওই গৃহবধুকে বেধরক পিটুনি দেয় বখাটেরা। পরে মায়ের চিৎকার শুনে দশম শ্রেনীতে পড়ুয়া মেয়ে সানজিদা এগিয়ে এলে তাকেও টিকটকাররা মারধর করে বলে অভিযোগ করেন আহতরা। বর্তমানে আহত গৃহবধু তার ডান চোখে এবং কপালে গুরুতর আঘাত নিয়ে যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছেন।
এবিষয়ে অভিযুক্ত টিকটকার আসলাম এ প্রতিবেদককে জানান, টিকটক করা কোন অপরাধ না। ওই মহিলার সাথে কোন ঝামেলা হয়নি, যা হয়েছে ওনার ছেলের সাথে হয়েছে। ঘটনার সময় আমার রাগ ভাঙ্গাতে খালাতো বোন আমার সাথে টিকটক করেছে।
কলাপাড়া হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ইকবাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, গৃহবধুর ডান চোখের উপরে এবং কপালে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে ওই নারীকে চোখের চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম গনমাধ্যমকে জানায়, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















