প্রান্তিক পর্যায়ের খামারীদের উদ্বুদ্ধ করতে টাঙ্গাইলে প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দিনব্যাপি সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় প্রাঙ্গনে প্রাণীসম্পদ ও ডেইরী উন্নয়ন প্রকল্প, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে। প্রদশর্নীতে ৩৫ টি স্টলে বিভিন্ন প্রজাতির পশু ও পাখি প্রদর্শন করা হয়। সকাল থেকেই নতুন খামারী ও দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বছরে কয়েক বার এ প্রদর্শনীর আয়োজন করার দাবি জানিয়েছে খামারী ও দর্শনার্থীরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ছানোয়ার হোসেন এমপি। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রানুয়ারা খাতুনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ডা. মো. আফাজ উদ্দিন মিয়া, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রানা মিয়া, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা নবীন প্রমুখ।
সরেজমি ঘুরে দেখা যায়, উন্নত প্রজাতির গরু, ছাগল, ভেড়া, ময়না পাখি, টিয়া, কবুতরসহ বিভিন্ন ধরনের পশু-পাখি
প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী মেলায় নিয়ে আসা হয়েছে। মেলা দেখতে সকাল থেকে সাধারণ মানুষ ও নব্য খামারীরা এবং উদ্যোক্তরা ভিড় করে। প্রদর্শনী দেখে মুগ্ধ দর্শনার্থী ও খামারীরা।
সুমাইয়া আক্তার নামের এক শিক্ষিকা বলেন, এক সাথে কখনও এতো পশুপাখি দেখিনি। প্রদর্শনীতে এসে খুবই ভাল লাগছে। প্রত্যেকটি স্টলে পশুপাখির পাশে বিস্তারিত লেখা আছে। এসব দেখে আমি অনেক কিছু জানতে পেরেছি।
শফিকুল ইসলাম নামের অপরজন মেলায় এসে দেশী বিদেশী হরেক রকম কবুতরসহ, টিয়া ও ময়না সম্পর্কে অনেক জ্ঞান অর্জন হয়েছে। এ ধরনের প্রদর্শনী মাঝে মাঝে হলে আগামী প্রজন্ম অনেক জ্ঞান অর্জন করতে পারবে।
সদর উপজেলার চোরজানা থেকে আসা খামারী লুৎফর রহমান বলেন, প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের পরামর্শে দুটি গাভী দিয়ে খামার করে এখন আমার খামারে ৬টি গাভী আছে। একটি গাভী প্রতিদিন ৩০ লিটার করে দুধ দেয়। এ ধরনের মেলা বছরে কয়েক বার আয়োজন করলে আমাদের খামারীদের অনেক উপকার হতো।
ছোনাট থেকে আসা কলেজ শিক্ষার্থী রাব্বি মিয়া বলেন, লেখা পড়ার পাশাপাশি বাড়িতে কবুতর পালন করি। বর্তমানে আমার খামারে ৫০ জোড়া কবুতর আছে। প্রদর্শনীতে এসে পশুপাখি সম্পর্কে অনেক কিছুই জানতে পারলাম। যা আমার খামারের জন্য অনেক উপকার হবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রানা মিয়া বলেন, প্রাণিসম্পদের যে প্রযুক্তি ও কার্যক্রম গুলো আছে যে সব মানুষকে জানানো। প্রাণির রোগ সম্পর্কে মানুষে অবহিত করা। কিভাবে খাবার করে লাভবান হওয়ার মাধ্যমে আর্থসামাজিক উন্নয়নের বিষয়ে মেলা করা হয়েছে। এই মেলা থেকে যারা উদ্বুদ্ধ হবে, অনুপ্রাণিত হবে ও মোটিভেটিভ হবে তারাই পরবর্তীতে উদ্যোক্ত সৃষ্টি হবে। মেলায় যারা অংশ নিয়েছে তারাও কিন্তু উৎসাহিত হচ্ছে এবং তাদের পুরস্কারের ব্যবস্থাও আছে। পরবর্তীতে দুই দিন ব্যাপি মেলার আয়োজন হলে অনেক কিছু সংযোজন করা যাবে। বিষয়টি নিয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করবো।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















